নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ
শিশুদের ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রাচীন ভারতে চালু হয়েছিল সাপলুডো খেলা। অনেকে বলেন, ত্রয়োদশ শতকে সন্ত জ্ঞানদেব এই খেলার প্রচলন করেন। তবে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকেও এরকম খেলা ছিল, তার প্রমাণ মিলেছে। এখন সারা বিশ্বে সাপলুডো জনপ্রিয়। পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ এবার সেই মজার খেলার আদলেই কচিকাঁচাদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিল।
যে কোনো বিষয় খেলার ছলে শেখানো হলে শিশুরা রপ্ত করতে পারে সহজে। সেই ভাবনা থেকেই পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ কিশোর-কিশোরীদের উপহার দিল অভিনব এক খেলা। সাপলুডোর মতোই বোর্ডগেম। নাম ‘ফাঁদমুক্তি’। শিশুপাচার, শিশুদের যৌন নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং আরও নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের মনে স্বচ্ছ ধারণা জাগানোই উদ্দেশ্য। সঠিক আচরণ, পড়াশোনায় মনোযোগ প্রভৃতি ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলায় জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি নানা প্রকল্পের উপকারিতাও তুলে ধরছে এই খেলা।
বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে খেলাটি বিতরণ করছে পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ
খেলাটির পরিকল্পনা করেছেন ডঃ শুভ্রজ্যোতি মুখোপাধ্যায়। একটানা ১০ বছর ধরে তিনি শিশু সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর চিন্তাধারাকে সার্থক রূপ দান করেন সোমা মুখোপাধ্যায়, যিনি গত ১৫ বছর ধরে শিশুদের জন্য নানারকম খেলা এবং খেলনার উদ্ভাবন করে আসছেন। উপদেষ্টা হিসেবে আছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সুদেষ্ণা রায়। তাঁর কথায়, “শিশুদের জীবনে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, সেটা বোঝার জন্যই এই খেলা। নিজেদের সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি অধিকার সম্পর্কেও জানতে পারবে তারা।”
ফাঁদমুক্তি খেলায় রয়েছে কোনো এক শিশুর জীবন শুরু করা থেকে সফল হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রা। এরই মধ্যে সামনে হাজির হয় নানা ধরনের বাধাবিপত্তি। সেগুলো পেরিয়েই এগোতে হবে উন্নতির পথে। কিন্তু প্রলোভনে পা দিলে পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। লীলা এবং বিকাশ নামের দু’টি ছেলেমেয়ের কাহিনি রয়েছে খেলার ভিতরে। তারা একই গ্রামের দুই আলাদা পরিবারের সদস্য। বিপদে পড়লে একে অপরকে সাহায্য করে। আমাদের চেনা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেই আসলে কেউ লীলা, কেউ বা বিকাশ। একসঙ্গে ২ থেকে ৪ জন খেলতে পারবে ফাঁদমুক্তি খেলা। এখনো বাজারে পাওয়া না গেলেও খেলাটি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বিতরণ করছে পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ।
সাপলুডোর আদলে মজার খেলা
কেবল বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষাদানই নয়। খেলার বোর্ড এবং ঘুঁটির সঙ্গে থাকছে শিশুদের সঙ্গে কাজ করে এমন কিছু সংস্থার হেল্পলাইন নম্বর এবং তাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া একটি লিফলেট।
এই উদ্যোগের অন্যতম কাণ্ডারী প্রসূন ভৌমিক জানালেন, “শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগ থেকে আমরা সবসময়েই অতিসক্রিয় হয়ে বিভিন্ন সুও মোটো কেসে এগিয়ে যাই। অনেক সময় বহু অভিযোগ আসে। কিছু কিছু আমরা নিজেরা উদ্ভাবন করার চেষ্টা করি। কমিশন হিসেবে আমাদের সুপারিশ এবং সরাসরি নজরদারির অধিকার আছে। শুধুমাত্র রিঅ্যাকটিভ না থেকে প্রোঅ্যাকটিভ হয়ে আমরা অনেক কিছু করেছি। তারই অন্যতম উদাহরণ এই খেলা।”
