পর্দার চরিত্ররা আনকোরা সাজে হাজির থাকে ক্যানভাসে

আর্ট এক্সপোজারে চলছে চিত্রশিল্পী দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের প্রদর্শনী

পপ আর্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমি শিল্পকলার মানচিত্র বদলে দিয়েছিল এই আন্দোলন। এতদিন মনে করা হত, মহৎ শিল্পের রস সবার জন্য নয়। তার জন্য বৈদগ্ধ লাগে, দীক্ষা লাগে। সমাজের একটা বিশেষ অংশেরই যোগ্যতা আছে তাকে আস্বাদন করার। অন্যদিকে আম-আদমির রুচিবোধ স্থূল, শিল্পের নামে মোটা দাগের কিছু চমক দেখালেই তারা সন্তুষ্ট থাকে। পপ আর্ট এসে এই ধারণাটাকে সজোরে ধাক্কা মেরেছিল। সাধারণ মানুষের বিনোদনের চাহিদা মেটানো বাজারি শিল্পের সঙ্গে এলিটদের সূক্ষ্ম নান্দনিকতাকে মিশিয়ে দিলেন পপ আর্টিস্টরা। গত শতাব্দীর ৫০ আর ৬০-এর দশকে তাঁরা শুরু করলেন নতুন ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা। সমাজের নিচু তলার মানুষের যেসব বিষয় পছন্দ, তার পাশাপাশি অভিজাত সাধনাকে রেখে, ভেঙেচুরে হতে লাগল নতুন সৃষ্টি। সঙ্গে মিশল ব্যঙ্গ, বক্রোক্তি, হাস্যরস। জটিল দার্শনিক প্রশ্নগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখে এঁরা জীবনকে নিয়ে মজার খেলায় মেতে উঠলেন।

দ্যুতিমান ভট্টাচার্য সেই পপ আর্টকেই নিজের মতো করে সাজিয়ে হাজির করেছেন কলকাতার শিল্পরসিকদের সামনে। গত ২৭ মার্চ থেকে ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের কাছে মহানির্বাণ রোডের আর্ট এক্সপোজার গ্যালারিতে চলছে তাঁর আঁকা ছবির একক প্রদর্শন। আগামী ২০ এপ্রিল শনিবার পর্যন্ত, দুপুর থেকে রাত ৮টা অবধি দর্শকের জন্য তা খোলা থাকবে। শিল্পী এই প্রদর্শনের নাম রেখেছেন ‘Nouveau Réalisme’। ফরাসি কথাটির বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, “বাস্তবকে নতুনভাবে দেখার পদ্ধতি”। জীবনকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন, যা দেখে মনে হবে, এর স্বাদ কোথাও যেন একটু হলেও আলাদা। এটাই পপ আর্টের জাদু। 

পেশায় দুঁদে গোয়েন্দা অফিসার হলেও দ্যুতিমান ভট্টাচার্য নেশায় একজন শিল্পী। আর শিল্পের নানারকম মাধ্যম নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তিনি একজন কবি, ভালো বক্তা, অলংকরণেও নামডাক আছে, তার সঙ্গে পাখিদের ছবি তোলেন, তথ্যচিত্র বানান, রয়েছেন থিয়েটারেও। এই প্রদর্শনেও তাঁর বহুমুখী সৃজনশীলতার ছাপ স্পষ্ট। হলিউড আর বলিউডের সিনেমা, টিভির পর্দা এমনকি ওয়েব সিরিজের লার্জার দ্যান লাইফ চরিত্রগুলোকে তিনি অনায়াসে তুলে এনেছেন তাঁর ক্যানভাসে। ‘শোলে’ ছবির গব্বর সিং, ‘ব্রুস অলমাইটি’ ছবির ঈশ্বর, ‘সেক্রেড গেমস’-এর গণেশ গাইতোন্ডে, ‘কালী’ ওয়েব সিরিজের কালী তাঁর ছবিতে আনকোরা সব বেশে হাজির হয়েছে। ছবির মধ্যে কিছু কথার টুকরোও বসানো আছে, যার ফলে তৈরি হয়েছে আলাদা ব্যঞ্জনা। সব মিলিয়ে রসজ্ঞ দর্শকরা এই প্রদর্শনে অভিনব কিছু পেতে পারেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Developed by DXDasia