বিশিষ্ট কথা-সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তীর একান্ত সাক্ষাৎকার
তাঁকে নিয়ে একটা কথা বেশ প্রচলিত আছে। হলদে গোলাপের সুঘ্রাণে আজও স্বপ্নময় তিনি। সুঘ্রাণই বটে। এই একখানা উপন্যাস পাঠক যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তার জন্য বাংলা সাহিত্যের সমগ্র পরিবার গর্বিত হয়। স্বপ্নময় চক্রবর্তী — যিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বলিষ্ঠ লেখক। তিনি বঙ্কিম পুরস্কার ও আনন্দ পুরস্কার পান যথাক্রমে ‘অবন্তীনগর’ এবং ‘হলদে গোলাপ’ উপন্যাস লিখে। কবিতা-গল্প-উপন্যাস, তরুণদের অবস্থান, ঋতুপর্ণ ঘোষ, বিতর্ক, অনুপ্রেরণা — এক্সক্লুসিভ এবং অকপট স্বয়ং সাহিত্যিক। সাক্ষাৎকার গ্রাহক কবি-নাট্যকর্মী এবং বঙ্গদর্শনের প্রতিনিধি সুমন সাধু।
____
সুমনঃ একজন লেখক তাঁর সৃষ্টির আরাম অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। এই প্রক্রিয়া আজও কি সমানভাবে আনন্দ দেয় আপনাকে?
স্বপ্নময়ঃ লেখকের আরামটাই বড়ো কথা। আরাম আমার নিজস্ব। লেখক তাঁর অনুভূতি, মতামত বা বিশ্লেষণ আরও পাঁচটা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। একটা ঘটনা যা ক্ষণকালের, কিন্তু একজন লেখক সার্থক হন তখনই, যখন সেই লেখা চিরকালের হয়ে ওঠে। চিরকাল না হলেও তাকে বিস্তৃতকালের হয়ে উঠতে হবে। আর যা নিজের, তা ব্যক্তিগত না করে যদি সমষ্টিগত করা যায়। অনেকেই হয়তো পারেন না, কিন্তু চেষ্টাটা চলতে থাকে।
সুমনঃ এবার ধরুন, সাম্প্রতিক একটা ইস্যু নিয়ে গল্প লিখছেন। সেই ইস্যুটাই গল্পের মূল প্রেক্ষাপট। দশ বছর পর ওই গল্পটা যিনি পড়বেন, তিনি কীভাবে রিলেট করবেন?
স্বপ্নময়ঃ রিলেট করার কতগুলো মানবিক অনুভূতি থাকে, যা চিরকালীন। সেই অনুভূতির জায়গাটাকে যদি স্পর্শ করানো যায় — এখন তো ক্রীতদাস প্রথা নেই, কিন্তু ধরা যাক গল্পে লেখা আছে অসাম্যের সঙ্গে মানুষের বিভেদ তৈরি করা, পন্যে তৈরি করা, ক্ষমতাহীন মানুষকে ব্যবহার করা — পরবর্তীকালে তা হুবহু না হলেও ঘটনাগুলোর রেশ থেকে যায় এবং মানুষ পড়তে পছন্দ করেন, রিলেটও করতে পারেন। আর তাছাড়া কিছু ভয়ংকর ইতিহাসের রিপিটেশন তো আজও দেখতে পাই।

স্বপ্নময় চক্রবর্তী তখন তরুণ
সুমনঃ আপনি প্রথমে কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন…
স্বপ্নময়ঃ না সেগুলো কবিতা হয়ে ওঠেনি। শুরু করেছিলাম ঠিক, কিন্তু হত না।
সুমনঃ তারপর গল্প লিখলেন, উপন্যাস লিখলেন। এতগুলি শাখায় বিচরণ কি ইচ্ছা করেই? নাকি এর পিছনেও অন্য কোনো গল্প আছে?
স্বপ্নময়ঃ না, কোনো গল্প নেই। একটা গল্প লিখতে গেলে যে ম্যাচিউরিটি, বোধ বা পর্যবেক্ষণ দরকার হয়, অল্প বয়সে আসেনি সেগুলো। একটা ঘটনা যা দেখছি তা হুবহু লিখে দিলে তো আর গল্প হয় না। অনেকসময় গল্পে যেটা হয় না, কবিতাতে হয়। কবিতার মধ্যে এমন সংকেত, প্রতীক বা মোহিনী আড়াল থাকে, সেটা আয়ত্ত করা খুব কঠিন। কবিরা এগুলো পারেন। ঘটনার প্রেক্ষিত নয়, অনুভবের প্রেক্ষিতটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সুমনঃ হ্যাঁ একেবারেই তাই। আবার আমরা ভালো ফটোগ্রাফি, পেইন্টিং, উপন্যাস বা চলচ্চিত্র দেখলে বলি, আহা! কবিতার মতো। কবিতাকে আমরা সবসময় উচ্চ স্থান দিয়েছি।
স্বপ্নময়ঃ হ্যাঁ, এটা অনেকদিন ধরেই তৈরি হয়েছে। আমরা শেক্সপিয়ারকে নাট্যকার বলি না, কবি বলি। কালিদাসকে নাট্যকার বলি না, কবি বলি। বঙ্কিমচন্দ্রও তো কবির কথাই বলেছেন। মহাভারত তো একটা ঘটনার ধারাবিবরণী, কিন্তু আমরা মহাকাব্য বলি। কবিতা সবসময় রসোত্তীর্ণ টেক্সট। তাকে যে সবসময় ছন্দবদ্ধ হতে হবে, বা তার মধ্যে লয়-তাল থাকতে হবে, এমন কোনো মানে নেই।
সুমনঃ আপনার লেখা ছোটোগল্পের চেয়ে অণুগল্প আমার বেশি পছন্দের। আমার কাছে এগুলোও কিন্তু কবিতা…
স্বপ্নময়ঃ আচ্ছা। ধন্যবাদ। হ্যাঁ, অণুগল্পের পরিসর কম। সেখানে একটা ঘটনা ছুঁয়ে যাওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না। রক্তপরীক্ষা করার সময় শরীর থেকে দু-ফোঁটা রক্ত নিলেই অনেককিছু জানা যায়। একফোঁটা রক্ত থেকে যেমন এক পাতা- দুই পাতা রিপোর্ট হতে পারে, ঠিক তেমন একটা অণুগল্প বিশ্লেষণ করলে অনেক পাতার ব্যাখ্যা বেরিয়ে আসতে পারে। এই অণুগল্প লেখাও কিন্তু খুব কঠিন।

অবন্তীনগরের জন্য পান বঙ্কিম পুরস্কার, পাশে তাঁর প্রথম উপন্যাস চতুষ্পাঠী
সুমনঃ এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, ব্যক্তি মানুষ আপনার লেখার প্রেরণা নয়। কেন? একটু ব্যাখ্যা করবেন?
স্বপ্নময়ঃ কারণ ব্যক্তিকে আমি সমষ্টির মধ্যে প্রতিস্থাপন করে নিই। নিশ্চয় বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আমার লিখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু লেখার সময় তিনি আর ব্যক্তি থাকেন না। তাছাড়া আমার জীবনে এমন কোনো ব্যক্তি মানুষ নেই, যিনি আমাকে দিয়ে লিখিয়েছেন।
সুমনঃ ব্যক্তি মানুষের কথা ছেড়ে দিলাম। ব্যক্তি মানুষের সৃষ্ট সাহিত্য নিশ্চয় অনুপ্রাণিত করেছে!
স্বপ্নময়ঃ হ্যাঁ, এরকম উদাহরণ অনেক আছে। সতীনাথ ভাদুড়ি, তারাশংকর, আবার কখনও বিভূতিভূষণ, সমরেশ বসু পড়েও মনে হয়েছে। আবার তরুণদের লেখা পড়েও মনে হয়েছে, আহা! কী লেখা! আমিও যদি এমন লেখা লিখতে পারতাম। তরুণরা অনেক বেশি আধুনিক। ওঁদের মধ্যে ভিতটা তৈরি হয়ে যায় অনেক ছোটো থেকেই। কম্পিউটার আসার পর ওঁদের জগৎটা ভার্চুয়াল হয়ে গেছে। যার ফলে পৃথিবীর সমস্ত সীমানায় ওঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন। সব আয়ত্ত করে নিচ্ছেন। অবশ্যই এর ভালো-খারাপ দুই দিকই আছে। কিন্তু এই আধুনিকীকরণ বাংলা সাহিত্যে খুব দরকার। অনেক ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে তরুণরা লিখছেন, যা আমি পারিনি।
সুমনঃ কয়েকজন তরুণের নাম বলবেন?
স্বপ্নময়ঃ এখন বললে হয়তো অনেকের নামই বাদ পড়ে যাবে, অনেকেই অভিমান করবেন। তাও স্মরণ করার চেষ্টা করছি। তিলোত্তমা মজুমদার, সুকান্ত গাঙ্গুলি, জয়ন্ত দে, অরিন্দম, অলোক গোস্বামী, নীহারুল ইসলাম, আনসারুদ্দিন, অনিতা অগ্নিহোত্রী, তমাল বন্দ্যোপাধ্যায় এঁদের লেখা তো ভালোলাগেই। তারপরের পর্বে বলব সৌরভ মুখোপাধ্যায়, শমীক ঘোষ, সাদিক হোসেন, অনির্বাণ বসু, বোধিসত্ত্ব, অম্লানকুসুম চক্রবর্তী, অর্ণব রায়, হামিরউদ্দিন মিদ্যা, কৃষ্ণেন্দু, বিনায়ক, সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজর্ষি, কনিষ্ক ভট্টাচার্য — এঁদের নামও বলব। আরও অনেকের নাম বাদ পড়ে যাচ্ছে।
তবে একটা কথা বলতে চাই, আমি ধারাবাহিকভাবে ভালো লেখায় বিশ্বাস করি। যাঁরা চার-পাঁচটা গল্প বা উপন্যাস ভালো লেখেন, তারপর আর তেমন লিখতে পারেন না, কিন্তু টিকে আছেন— তাঁদের পাঠক বেশিদিন মনে রাখতে পারেন না। তাই ধারাবাহিকভাবে ভালো লিখে যাওয়ার চেষ্টা করে যেতে হবে। আমাদের সময় এরম অনেকেই ছিলেন বা আছেন পরপর ভালো লেখেননি, হঠাৎ একটা দুটো চোখে পড়ে গেল। খুব ব্যক্তিগত একটা কথা বলি তোমায় সুমন। তুমিও তো লেখালেখি করো। প্রথম কয়েকবছর খুব মন দিয়ে লিখতে হয়। ছাপার চেয়েও কোয়ালিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। লেখা ভালো না হলে ছাপাব না— এই সংকল্পটা নিজেকেও নিতে হবে, এই দায়িত্ববোধ লেখকের থাকা উচিত। নাহলে হয়তো সংখ্যায় বেশি হবে লেখা, কিন্তু ভবিষ্যতে সেই লেখক দাঁড়াতে পারবেন না।
সুমনঃ সালটা ২০১২। আমার তখন কলেজ জীবন। হস্টেলের প্রত্যেকটা রুমে আসত ঋতুপর্ণ ঘোষ সম্পাদিত ‘রোববার’৷ এই পত্রিকার প্রতি আকর্ষণের অন্যতম কারণ ছিলেন আপনি। তখন ধারাবাহিকভাবে ‘হলদে গোলাপ’ বেরোচ্ছে। আমরা পাঠকরা এই উপন্যাস থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্তু এই উপন্যাস আপনাকে কী কী দিয়েছে, যা আপনার লেখক জীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকতে পারে?
স্বপ্নময়ঃ আমার প্রত্যেকটা উপন্যাসই আমাকে শেখায়। একটা বিষয় মাথায় এলে সেটা নিয়ে পড়াশুনো শুরু করে দিই। ভালো লেগে গেলে বিষয়ের গভীরে চলে যাই। আবার অনেকসময় লেখার পরিসর পাই না। যেমন ‘অবন্তীনগর’ বলে একটা উপন্যাস লিখেছিলাম। সুবর্ণ বণিক বা আমাদের কলকাতার ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সম্পর্কে যতটা জেনেছিলাম, ততটা লিখতে পারিনি। পুজোসংখ্যায় লিখেছিলাম বলে পৃষ্ঠাসংখ্যা বেঁধে দেওয়া ছিল। তাই ওটা নিয়ে বড়ো কিছু করতে পারিনি।
কিন্তু ঋতুপর্ণ যখন আমাকে ধারাবাহিক লিখতে বলেছিলেন, তখন অনেকখানি পরিসর পেয়েছিলাম। অনেকটা নিশ্চিতভাবেই লিখতে পেরেছি। পড়াশোনা করতে করতে বহু জিনিস শিখি।নিজের আয়ত্তে চলে এলে সিদ্ধান্তে পৌঁছাই। আবার অনেক সময় নিজে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না বলে চরিত্রকে দিয়ে বলিয়ে নিই। আবার কোনো সন্দেহ বা জিজ্ঞাসা চিহ্ন থাকলে সেই জিজ্ঞাসাটাকেও আমি রেখে দিয়ে আসি।

হলদে গোলাপ উপন্যাসের জন্য আনন্দ পুরস্কার পান
সুমনঃ ‘হলদে গোলাপ’ আপনি কতদিন ধরে লিখেছিলেন?
স্বপ্নময়ঃ অনেক বছর। পড়াশোনা শুরু করি ১৯৯৫ থেকে। পড়তে পড়তে উৎসাহ পাই। বাইরে বেরোতে শুরু করি। তাঁদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁরা অনিশ্চিত থাকেন। বিভিন্ন গবেষণাপত্র ঘাঁটি আমি। হ্যাঁ, ‘হলদে গোলাপ’ আমাকে অন্য একটা জগতে নিয়ে গিয়েছিল। সেটা একটা সম্বল।
(সমাজের শরীর ও শরীরের সমাজতত্ত্ব নিয়ে এক দুঃসাহসিক উপন্যাস এই হলদে গোলাপ। ধারাবাহিকভাবে প্রকাশকালে পাঠকসমাজে আলোড়িত হয়, যা খুব কম উপন্যাসের ক্ষেত্রেই ঘটে।)
সুমনঃ ঋতুপর্ণ ঘোষ কি কোনও সাহায্য করেছিলেন এ ব্যাপারে?
স্বপ্নময়ঃ না না। এ ব্যাপারে ঋতুপর্ণ টুঁ শব্দ করেননি। তাছাড়া আমিও ওঁর ব্যক্তিগত জীবন জানতে চাইনি কখনও।
সুমনঃ উনি নিশ্চয় উপন্যাস পড়ে আপনাকে ফিডব্যাক দিয়েছিলেন…
স্বপ্নময়ঃ দু-একবার। একবার শুধু বলেছিলেন, ‘ভালো লাগছে’। আরেকবার আমিই ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘যদি আপনার মনে হয় কিছু তথ্য আপত্তিকর বা ঠিক নয় সেটা জানাবেন।’ উনি বলেছিলেন, ‘আমি পড়ছি। খুব ভালো লাগছে। আপনি চালিয়ে যান।’
কিন্তু ঋতুপর্ণ মারা যাবার পরে সম্পাদনায় যাঁরা এলেন, আমায় বললেন, ‘আর কত দিন?’ আমি বললাম, ‘কেন, এখুনি শেষ করতে হবে?’ বললেন, ‘হ্যাঁ, এবার শেষ করে দিন।’ ফলে শেষের দিকটা আমি একটু লাফিয়ে লাফিয়ে গিয়েছি। দেবেশদা আমায় বলেছিলেন উপন্যাসের শেষ চল্লিশ-পঞ্চাশ পাতায় তাড়াহুড়ো করলে কেন? দেবেশদার মতো হয়তো আরও কারোর কারোর এমনটাই মনে হয়েছে।
সুমনঃ পত্রিকা থেকে এরকম বলা হল, তাতে আপনি ক্ষুব্ধ হননি?
স্বপ্নময়ঃ ক্ষুব্ধ হয়ে লাভ কী?
সুমনঃ কিন্তু একটা পরিকল্পনা তো থাকে লেখক হিসাবে…
স্বপ্নময়ঃ হ্যাঁ তা থাকে। থাকলেও তখন ছেঁটে দিতে হয়। তাছাড়া আমি শঙ্কর, বুদ্ধদেব গুহ বা সুনীল গাঙ্গুলির মতো সম্পাদকের উপরে ছড়ি ঘোরাতে পারি না। অনেকসময় ওঁদের নির্দেশ মানতে হয়। আবার অনেকক্ষেত্রেই কম্প্রোমাইজ করি না। অনেক জায়গাতেই লিখিনি। আমার আবার নির্দিষ্ট বিষয় বলে দিলে খুব মুশকিল হয়। যেটা মনে করি, সেই বিষয় নিয়েই লিখি।
সুমনঃ আচ্ছা, লেখক জনপ্রিয় হয়ে উঠলে কি অনেকের কাছে তিনি ‘সস্তার লেখক’ হয়ে ওঠেন?
স্বপ্নময়ঃ হ্যাঁ, অনেকে তো তাই ভাবেন। আবার যেমন অনেক বোদ্ধা আছেন, যাঁরা মনে করেন জনপ্রিয়তা হচ্ছে সাহিত্যের শত্রু। সাহিত্যে কিছু বোঝা গেলে নাকি মুশকিল হয়, না বোঝাটাই ভালোলাগে। কিন্তু স্ট্রেইট ন্যারেটিভ তো আমিও লিখি অনেকসময়। কোনটা সস্তার আর কোনটা নয়, এ বোঝা ভারি মুশকিল। বিচার করার অভ্যাসটাও গোলমেলে।
গড়বেতায় স্বপ্নময়
সুমনঃ বিষ্ণু দে কখনও জনপ্রিয় ছিলেন না। আজও নন৷ অথচ তাঁকে কবিদের কবি বলা হয়।
স্বপ্নময়ঃ হ্যাঁ, ঠিকই।
সুমনঃ এখন অনেকেই বলেন, বাংলা সাহিত্যে দৈন্যদশা চলছে। সাম্প্রতিক কবি-লেখকরা নাকি ভালো লিখতে পারছেন না। আপনি এই কথা বিশ্বাস করেন?
স্বপ্নময়ঃ না, বিশ্বাস করি না। তবে এটা সবকালেই লেখকদের শুনতে হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকেও শুনতে হয়েছিল বিহারীলাল চক্রবর্তী, ঈশ্বরগুপ্তদের মতো লিখতে পারছেন না। তারপর মধুসূদন দত্ত যখন প্রথা ভাঙলেন, কম বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল? কত প্যারোডি হয়েছিল। ঈশ্বরগুপ্তকেও কত কত তকমা দেওয়া হয়েছিল। তাই বলে কি এঁরা বাংলা সাহিত্য থেকে মুছে গেছেন? তবে যদি নম্বর দিতে হয়, তাহলে আমরা ঈশ্বরগুপ্তের চেয়ে মধুসূদন দত্তকে অনেক বেশি নম্বর দেবো।
সুমনঃ আমার শেষ প্রশ্ন, আপনার নিজের লেখা ও সুর করা একটি গান; যার প্রথম কলি- ‘দেশের অবস্থা খারাপ’। অনেকেই কিন্তু এই গান সম্বন্ধে জানেন না…
স্বপ্নময়ঃ (হাসি) — কে বললো এটা? আমি তো ইয়ার্কি করতাম বন্ধুদের সঙ্গে। এটা আবার কে বললো? কিছুই তো চাপা থাকে না দেখছি। এসব কলেজে তরুণ বয়সে সবাই করে থাকে। কলেজের পরেও লিখেছি, সুর করেছি। সিরিয়াস কিছু নয় এসব। নিছক ঠাট্টা করা। তবে নাটকের গান লিখেছি। আমার গল্প-উপন্যাসের মধ্যেও তো গান থাকে।
সুমনঃ গল্প-উপন্যাসের মধ্যে গানটার তো শুধু লিরিকটাই দেখতে পাচ্ছি আমরা। সুরটা কি ভিতর ভিতর চলতে থাকে?
স্বপ্নময়ঃ না। সুর আর ভাবি না।