প্রয়াত ঋজুদার স্রষ্টা বুদ্ধদেব গুহ, শোকস্তব্ধ সাহিত্য মহল

মৃত্যুকালে সাহিত্যিকের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর

রবিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন ঋজুদার স্রষ্টা বুদ্ধদেব গুহ। মৃত্যুকালে সাহিত্যিকের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পুরোদস্তুর শহুরে জীবন কাটিয়েও বুদ্ধদেব গুহ আদিম অরণ্যের মধ্যে বারবার আবিষ্কার করেছেন নিজেকে। বাংলা কথাসাহিত্যে আলাদা এক ধারার সৃষ্টি করেছেন তিনি। পেশায় একজন সফল চার্টাড অ্যাকাউন্ট, লেখা তাঁর জীবিকা নয়। ‘জঙ্গলমহল’ তাঁর প্রথম বই। লেখক হিসেবে খুব কম সময়েই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ‘হলুদ বসন্ত’ তাঁর প্রথম জনপ্রিয় উপন্যাস। বাংলা প্রেমের উপন্যাসে নতুন যুগ নিয়ে এসেছিল এই ‘হলুদ বসন্ত’ বইটি। বুদ্ধদেব গুহর ‘মাধুকরী’ তো বহুদিন ধরে বেস্টসেলার হয়ে মাতিয়ে রেখেছিল বাঙালি পাঠকদের।

‘খেলা যখন’, ‘বিন্যাস’, ‘বাবলি’, ‘একটু উষ্ণতার জন্য', ‘কোয়েলের কাছে’, ‘কোজাগর’-এর মতো উপন্যাসগুলোতে ফুটে উঠেছে বহুমাত্রিক জীবনসংগ্রামের নানা ক্ষত। তাঁর লেখা ভ্রমণ, শিকার কিংবা গোয়েন্দা কাহিনিগুলোও জয় করে নিয়েছে পাঠকের মন। সৃষ্টি আনন্দে তিনি এঁকে ফেলতেন অসাধারণ সব ছবি, মনের খেয়ালে সুরেলা কণ্ঠে গেয়ে উঠতেন গান। রসজ্ঞদের কাছে সেটাও বড়ো প্রাপ্তি।

দুই বছর আগেই টেকনো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট পেয়েছিলেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। তাঁর বইয়ের পাঠক সংখ্যা আকাশ ছোঁয়া। গল্প-উপন্যাসের যে মেজাজ, তা অনায়াসেই রিলেট করতে পারেন বছর পঁচিশের তরুণ-তরুণী। প্রসঙ্গত, তাঁর পাঠককূলের গড় বয়স কিন্তু বাইশ-ত্রিশ বছর। বুদ্ধদেব গুহ মূলত প্রকৃতি বিষয়ক লেখার জন্য ঘরে ঘরে সমাদৃত হয়েছেন। বহু অভিজ্ঞতাময় জীবন তাঁর। ইংল্যান্ড, ইউরোপের প্রায় সমস্ত দেশ, কানাডা, আমেরিকা, হাওয়াই, জাপান, থাইল্যান্ড ও পূর্বআফ্রিকা ঘুরে বেরিয়েছেন একসময়। পূর্বভারতের বন-জঙ্গল, পশুপাখি এমনকি জঙ্গলের মানুষের সঙ্গেও তাঁর সুদীর্ঘকালের নিবিড় পরিচয়। আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৭৭ সালে।

বুদ্ধদেব গুহর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সাহিত্য মহল।

Developed by DXDasia