‘আপনি নিজে পড়ুন এবং প্রিয়তমা কে পড়াইয়া আদর্শ গৃহিনী করিয়া লউন।’
উনিশ শতকের শেষ প্রান্ত থেকে বিশশতকের তৃতীয় দশক পর্যন্ত কলকাতার বাজারে হরেকপ্রকার ঘটনার পসরা। নানাবিধ চুরি-ডাকাতির পাশাপাশি কলকাতার এখনে সেখানে সেদিন মানুষ খুনের বন্যা। একদিকে বেথুন সাহেবের পাঠশালায় নারী শিক্ষার অগ্রগতি অন্যদিকে বিপথে চালিত হওয়ার অবাধ সুযোগ। কথা চালু ছিল কলকাতায় নাকি নতুন ‘মেয়ে ধরার’ জন্ম হয়েছে। সংবাদেও উঠে আসতে লাগল নতুন নতুন মেয়ে খুন কিনারার গল্পও।
আর প্রত্যেকটি গল্পের পিছনেই শোনা যেতে লাগল পরপুরুষের কালো হাতের ছায়া। কিন্তু সে যাই হোক না কেন এই নিত্যনতুন এই রমণী খুন কলকাতায় দুটি ক্ষেত্রের চেহারা বদলে দিল।
একদিকে আমহার্স্ট স্ট্রিট চত্বরে একজন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান নারীর খুনের কিনারা করতে গিয়ে তৈরি হয়ে গেল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর। অন্যদিকে বটতলা ছাপাখানায় সেই সব খবর কে ভিত্তি করে তৈরি হতে থাকল হরেক প্রকার গোয়েন্দা কাহিনী। কলকাতার বই বাজারে তখন রহস্যের কিনারা করার গন্ডা পাঁচেক চরিত্রও।
তেমনই হাজির হল পুলিশের পক্ষ থেকে কলকাতার প্রথম শার্লক হোমস ‘জন রিড’। বটতলার বই বাজারের সেই সব কাহিনীর নাম ‘মৃত্যু প্রহেলিকা’ তো কোনও কাহিনীর নাম ‘হারেম কাহিনি’। আবার কোনও কাহিনির নাম ‘কলঙ্কিনী’।
গুলু ওস্তাগর লেন থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের বিজ্ঞাপনে লেখা হল ‘আপনি নিজে পড়ুন এবং প্রিয়তমা কে পড়াইয়া আদর্শ গৃহিনী করিয়া লউন।’ এই বিজ্ঞাপনেই পরিষ্কার যে সেদিনের সমাজ এক অদ্ভুত অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। গৃহিনীর নয়া আদর্শ, লাম্পট্য, পরশ্রী ও পরস্ত্রী কাতরতা ইত্যাদি নিয়ে কলকাতার পাড়ার অলিগলি তখন মশগুল। আর তারই জেরে আজ এখানে কাল সেখানে কিংবা পরশু দর্জীপাড়ায় খুন। ফলস্বরূপ পাওয়া গেল আসল গোয়েন্দা আর গল্পের গোয়েন্দা।