বুধবার তিন পাতার এই চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে
গোটা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। বিশেষ করে আজ, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সবার নজর নন্দীগ্রামের দিকে। ইতিমধ্যেই, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দেশে একদলীয়, স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চায় বিজেপি, এই অভিযোগ তুলে দেশের তামাম বিরোধী নেতাদের একজোট হওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী নেতাদের পাঠানো তৃণমূল সুপ্রিমোর চিঠি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে। বুধবার তিন পাতার এই চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে।
মোট ১৪ জন বিজেপি বিরোধী নেতাকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। সেই তালিকায় অবশ্য সিপিএম-সিপিআই নেতৃত্ব নেই, কিন্তু চিঠিপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন সিপিআই (এমএল) লিবারেশন নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তাৎপর্যপূর্ণভাবেই রয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। তাঁর দল অবশ্য এবারও বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে হারাতে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করেছে। সোনিয়া-দীপঙ্কর ছাড়াও চিঠিপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার, ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিন, আপের অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, বিজেডির নবীন পট্টনায়েক, আরজেডির তেজস্বী যাদব, শিবসেনার উদ্ধব থ্যাকারে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হেমন্ত সোরেন, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জগন্মোহন রেড্ডি, কে এস রেড্ডি, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লা, পিডিপির মেহবুবা মুফতি।
মমতা চিঠিতে লিখেছেন, গণতন্ত্র ও সংবিধানের উপর বিজেপি যে আঘাত হানছে, তার প্রতিবাদে এটাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপযুক্ত সময়। চিঠির শুরুতেই দিল্লির প্রসঙ্গ টেনেছেন মমতা। সংসদের দুই কক্ষে বিল পাস করে দিল্লির নির্বাচিত সরকারের হাত থেকে সব গণতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্র কেড়ে নিতে চাইছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবার বিরোধী নেতাদের লেখা চিঠিতেও তৃণমূল সুপ্রিমো সেই ‘ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি অব দিল্লি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’-এর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ডাক দিয়েছেন। কেজরিওয়ালের সাফল্যের কথাও উঠে এসেছে চিঠিতে। মমতা উল্লেখ করেছেন, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে দিল্লির সব আসনে বিজেপি জিতেছিল। কিন্তু তারপর বিধানসভা ভোটে কেজরিওয়ালের দল বিপুল ভোটে জয়ী হয়। এখানেই মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন মমতা। লিখেছেন, যে সব রাজ্যে অবিজেপি সরকার আছে, সেখানে সমস্যা তৈরি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিস হিসেবে কাজ করছে। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। লিখেছেন, সিবিআই, ইডিকে বিভিন্নভাবে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি সরকার। চিঠিতে মোট সাতটি বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মমতা লিখেছেন, রাজ্যগুলির সঙ্গে বঞ্চনা করছে কেন্দ্র। অবিজেপি রাজ্যগুলির নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।