আয়লা-আমফান থেকে শিক্ষা, ‘ইয়াস’-এর মোকাবিলায় প্রস্তুত রাজ্য সরকার

বুধবার আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

কিছু বছর আগে আয়লা, আর আগের বছর ২০ মে আমফানের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তছনছ হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবারেও। তাই এবার, বিগত ঝড়গুলোর ধ্বংসলীলার কথা মাথায় রেখে ঢাল তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গোসাবা, কাকদ্বীপ, দীঘা, ডায়মন্ডহারবার, বাসন্তী, ঝড়খালি-‌সহ সমস্ত সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলোর কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি ঢেলে সাজাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। একইসঙ্গে মৎসজীবী ও সামুদ্রিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ মে-র মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে ইয়াস। ২৫ মে থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হবে বৃষ্টি। ওই দিন ৭০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। ২৬ মে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিনই ঝড় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বলে মনে করা হচ্ছে। আবহবিদরা এটাও মনে করছেন, ইয়াস আমপানের মতো শক্তিশালী হবে না। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন তাঁরা।

নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইয়াস-এর মতো ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় নবান্ন এবং উপান্নে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখানে থেকেই রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক যেমনটা তিনি করেছিলেন আমপানের ক্ষেত্রেও। ২৫ এবং ২৬ মে, পর পর এই দু’দিন তিনি থাকবেন নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকরা।এ ছাড়াও পুলিশ, উপকূলরক্ষী বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ছাড়াও গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, এসডিও, বিডিওদের ঝড় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও জলসম্পদ প্রকল্প (‌পিএইচই)‌’‌র মাধ্যমে ২ লাখ জলের পাউচ তৈরি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাগর, কাকদ্বীপ, গোসাবা, ডায়মন্ডহারবার, মথুরাপুর অঞ্চলে ক্যুইক রেসপন্স টিম, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (এনডিআরএফ) তৈরি রাখা হয়েছে। বিদ্যুত্ ব্যবস্থা যাতে দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়, তাই ৫০,০০০ বিদ্যুতের খুঁটি আগাম মজুত রাখা হয়েছে। ঝড়ের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয়, সেজন্য ২০টি স্যাটেলাইট ফোনে রাখা হবে হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হবে ২৫টি ড্রোন। শুধু তাই নয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে সংস্থাগুলির সঙ্গে আগাম বৈঠক করছে রাজ্য। জেলা থেকে যেকোনও সাহায্যের জন্য মহকুমা স্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে গ্রামাঞ্চলগুলোতে আগেভাগে ত্রিপল, সাবান, চাল, ডাল, বেবিফুড পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপকূলবর্তী এলাকাগুলোয় দুর্গতদের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিন লাখ মানুষ যাতে একত্রে থাকতে পারেন সেজন্য, ১১৫টি আয়লা সেন্টার ও ২৫০টি আইসিডিএস সেন্টার ছাড়াও স্কুল-কলেজে থাকার ব্যবস্থা ‌করা হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। এমনকী, যদি কেউ আহত হন তার জন্যেও ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধও মজুত করা হয়েছে। এমনকী, সংশ্লিষ্ট সব দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

রাজ্য সরকার আপনাদের সুরক্ষায় যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা তো নিচ্ছেই, আপনারাও ব্যক্তিগতভাবে সচেতন থাকুন। টর্চ, মোমবাতি, পর্যাপ্ত জল, ওষুধ, হাত পাখা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখুন। মাথায় রাখুন আগের বছর ঝড়ে কী কী অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল আপনাকে। নিজে সতর্ক থাকুন, অন্যকে সতর্ক করুণ।

 

 

Developed by DXDasia