করোনা রোগীদের জন্য ‘সেফ হোম’ পরিষেবা চালু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে

মাত্র ৩৫০০ টাকায় করোনা রোগীর বাড়িতেই মিলছে চিকিৎসার যাবতীয় বন্দোবস্ত

কলকাতায় গত দু’সপ্তাহ ধরে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা অত্যাধিক বেড়ে চলেছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে করোনা রোগীদের জন্য ফাঁকা বেড পাওয়াই দুষ্কর। মুশকিল আসান করতে জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মহানগরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করেছে স্যাটেলাইট হেলথ ফেসিলিটিস (এসএইচএফ)। হেলথকেয়ার ইউনিটের কাছেই বিকল্প অবসার্ভেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়। যেসব করোনা রোগীদের কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি বা সামান্য দেখা দিয়েছে, তাঁদের রাখা হচ্ছে সেখানে। এর ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের বেড পাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমেছে। 

ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার কলকাতায় ৬০০০-এর বেশি বেডযুক্ত ১০৬টি সেফ হোম সেন্টার (এসএইচসি) খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। উপসর্গ না থাকা অথবা সামান্য উপসর্গ দেখা দেওয়া করোনা রোগীদের সেখানে রাখা হবে। এই পরিষেবার জন্য ইতিমধ্যেই গীতাঞ্জলি এবং কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামের এসএইচসি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় কলকাতা মেট্রোপলিটান ডেভলপমেন্ট অথরিটিকে (কেএমডিএ)। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামের সেফ হোম সেন্টারের ভার পেয়েছে পূর্ত বিভাগ। এক প্রশাসনিক কর্তা জানিয়েছেন, এসএইচএফ এবং এসএইচসি উদ্যোগ সারা ভারতের মধ্যে এখানেই প্রথম। সংকটাপন্ন করোনা রোগীদের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক বেডের বন্দোবস্ত করতেই এমন উদ্যোগ।

অবশ্য প্রবীণ নাগরিকরা অন্য একটি সমস্যার সম্মুখীন হন। তাঁদের ছেলেমেয়েরা অনেকেই কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে অথবা বিদেশে থাকেন। করোনা পজিটিভ কিন্তু উপসর্গহীন অথবা স্বল্প উপসর্গযুক্ত প্রবীণ মানুষেরা সরকার পরিচালিত সেফ হোমে ভর্তি হতে খুব একটা আগ্রহী নন। তাঁরা সংক্রমণের ভয় পান। এছাড়া বাড়ি থেকে হাসপাতালে যাওয়াও বেশিরভাগ প্রৌঢ়-বৃদ্ধের কাছে খুবই কষ্টকর। তাঁরা চান, বাড়িতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এঁদের জন্য হোম কেয়ার প্যাকেজ চালু করেছে। করোনার উপসর্গ অল্প থাকলে বাড়িতেই এখন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। 

শহরের একটা হাসপাতাল অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে কোভিড রোগীদের সেফ হোম পরিষেবা শুরু করেছে। মাত্র ৩৫০০ টাকায় ১৪ দিনের জন্য করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে উত্তর কলকাতার জেএন রায় হাসপাতাল। ভিডিও কনফারেন্সে ডাক্তারের পরামর্শ, অভিজ্ঞ নিউট্রিশনিস্টের উপদেশ, দক্ষ নার্সের বন্দোবস্ত থাকছে। একটি ডিজিটাল থার্মোমিটার, এক জোড়া গ্লাভস, ফেস মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার পৌঁছে দেওয়া হয় রোগীর বাড়িতে। রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়। এরকম স্বল্পমূল্যের পরিষেবা ভারতের আর কোথাও নেই। এই সংকটকালে জেএন রায় হাসপাতালের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বতোভাবে কোভিড রোগীদের পাশে থেকে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। 

Post Tags
Developed by DXDasia