লাইব্রেরি কালচার তথা পাঠ-অভ্যাস গড়ে তোলার নতুন প্রয়াস
লকডাউনে শুরু হওয়া যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন এবং বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার সুবিধার্থে ইতিমধ্যেই যাদবপুর শ্রমজীবী ট্রাস্ট গঠন করেছে মার্কসবাদী বামপন্থী সংগঠন। সেই ট্রাস্টের উদ্যোগেই বিজয়গড় নিকুঞ্জ ভবনের দোতলায় একটি রিডিং লাইব্রেরি ও স্টাডি সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই লাইব্রেরি ও স্টাডি সেন্টারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বই-ঠেক-খানা’। কিন্তু, বইপ্রেমীরা যখন লাইব্রেরি বিমুখ, ই-বুকের প্রতি বেশি করে আকৃষ্ট হচ্ছে, এমন একটা সময় দাঁড়িয়ে লাইব্রেরি চালু করার ভাবনা কেন? এছাড়া, ‘বই-ঠেক-খানা’ নামটাই বা কেন?
এই বিষয়ে কথা বলছিলাম যাদবপুর শ্রমজীবী ট্রাস্টের বর্তমান সম্পাদক অঞ্জন চক্রবর্তীর সঙ্গে। বঙ্গদর্শন.কম-কে এ প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, “এখনও অনেক অঞ্চলেই হয়তো লাইব্রেরি রয়েছে কিন্তু সেগুলোর অবস্থা ভালো নয়। ফলে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে সময়োপযোগী একটা লাইব্রেরি করার। এখনও আলোচনা চলছে। আমাদের এখানে বই বিনিময় করা যাবে। পু্রোনো বই যে যা পড়েছে তাঁরা ফেরত দিয়ে নতুন বই নিয়ে যাবেন। লাইব্রেরিতে এমন একটা বিষয় থাকবে। এছাড়াও ইচ্ছে আছে ২০ বা ১৫ শতাংশ কমিশন দিয়ে বই বিক্রি করার। সারা বছর তো আমাদের বই মেলা হয় না। ফলে এখান থেকে সারা বছর বই বিক্রি হবে। আরেকটা পাঠশালা বা স্টাডি সার্কেল করার ইচ্ছে রয়েছে। তার সঙ্গে একটু আড্ডা আর চা, কফির ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে মোটামুটি এই হল বই-ঠেক-খানা’র পরিকল্পনা।”
লাইব্রেরিতে মানুষ আর তেমন যায় না। অনেক জায়গায় বইপত্রও নেই। আমাদের এখানে শুধু বই পড়া হবে না। একটু খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। চা, কফি, স্ন্যাকস খাওয়া যাবে। একটু আড্ডা দেওয়া যাবে। একটু অন্য ফর্মে ভাবা হচ্ছে।
বই-ঠেক-খানায় বিভিন্ন ভাষার ফিকশন ও নন-ফিকশন সহ শিশু সাহিত্য ও প্রগতিশীল সাহিত্যের বইও থাকবে। কমিক্স, গ্রাফিক নভেল, সমাজনীতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির বই রাখা হবে বলেই প্রচারপত্রে জানাচ্ছেন উদ্যোগক্তারা। স্টাডি সেন্টারে ছোটো আলোচনাসভা, কোচিং ক্লাস করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে আড্ডা, আলোচনা, চা-কফিতে চুমুক ও বই বিনিময়ের মাধ্যমে বিকল্প লাইব্রেরি কালচার তথা পাঠ-অভ্যাস গড়ে তুলতে চাইছে যাদবপুর শ্রমজীবী ট্রাস্ট। “আমাদের যাদবপুরে বছরে একবার করে ‘বই বিনিময় উৎসব’ হয়। বরাবর দেখেছি, পুরোনো বই পড়া হয়ে গেছে, বাড়িতে প্রচুর বই পড়ে রয়েছে, সে'সব বই ফেরত দিয়ে মানুষ নতুন বই নিয়ে যায়। যেগুলো পড়া হয়নি। এবার এটাই সারা বছর করতে চাই। পুজোর সময় পাঁচদিন বুক স্টল চলে। সারা বছর মানুষ বই খোঁজেন। তাঁদের জন্য কমিশন দিয়ে বই বিক্রির ব্যবস্থা করা। সঙ্গে পাঠশালা চালু করার কথা হয়েছিল। যারা প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া বা যারা প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তে পারছে না, এমন ছেলেপুলেদের জন্য পড়ানোর ব্যবস্থা করা। ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে আছেন। তাঁদের নিয়ে যদি আমরা একটা পাঠশালা খুলতে পারি, সেটাও আলোচনা স্তরে আছে। স্টাডি সার্কেলে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা হবে। এই সব ভাবনা চিন্তা নিয়েই বই-ঠেক-খানা দাঁড় করানোর কথা হচ্ছে।” জানান অঞ্জনবাবু।
বই-ঠেক-খানা-র মাধ্যমে কি লাইব্রেরি কালচার ফেরানোর চেষ্টা করছেন? অঞ্জনবাবুর কথায়, “হ্যাঁ। লাইব্রেরিতে মানুষ আর তেমন যায় না। অনেক জায়গায় বইপত্রও নেই। আমাদের এখানে শুধু বই পড়া হবে না। একটু খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। চা, কফি, স্ন্যাকস খাওয়া যাবে। একটু আড্ডা দেওয়া যাবে। একটু অন্য ফর্মে ভাবা হচ্ছে। শুধু যাবে বই দেখবে, বই নেবে এমন তো হবে না। অন্য কিছুও ভাবা যায় কিনা দেখছি। ইন্টারনেট সুযোগ, সুবিধা যদি দেওয়া যায়। সবই ভাবা হচ্ছে। বইপত্র, বই রাখার জিনিসপত্র পেয়ে যাবো। কিন্তু পরিকাঠামোর জন্য লাখ তিনেক টাকার এখনই দরকার। আপাতত তহবিল সংগ্রহের কাজ চলছে।”
কবে থেকে শুরু হবে এই বই-ঠেক-খানা, তা এখনও ঠিক হয়নি। তহবিল সংগ্রহের পর যাবতীয় সিদ্ধান্ত হবে। উদ্যোগের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অঞ্জনবাবু জানালেন, “এটা করতে গেলে একটা লোক রাখতে হবে (স্থায়ী কর্মী হিসেবে)। আপাতত প্রচার চালিয়ে বুঝে নিতে চাইছি কেমন অবস্থা। এটা (পরিকল্পনা) প্রচারের মধ্যে রয়েছে। এখনও ঠিক করিনি কবে থেকে আমরা করতে পারবো। সবার থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে। খুললাম, বন্ধ করে দিলাম, পারলাম না; তা নয়। তাই আগে একটু দেখে নিচ্ছি বিষয়টা।”