কালোজিরেতে কালোবাজারি : হাতেনাতে ধরে তদন্ত করল কলকাতা পুলিশ

কলকাতার বাজারে বিক্রি হওয়া কালোজিরেতে মেশানো হয়েছে ইঁদুরের বিষ্ঠা ও পোড়া কালো মোবিল

রান্নাঘরের দৈনন্দিন জিনিসে রীতিমতো ভেজাল! এ কথাতে তো আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ভাগাড়ের মাংস থেকে প্লাস্টিকের ডিম — নিত্যনৈমিত্তিক খাবারের জিনিস কিনে ঠকার সম্ভাবনা কি প্রবল? এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় খোঁজেন হেঁসেলের মানুষরা। এবার কালোজিরেতে ‘বিষ’। সামান্য কালোজিরের ফোড়নে রান্নাঘর হয়ে ওঠে ম-ম। কখনও ফুলকো লুচিতে, কখনও পাতলা ইলিশের ঝোলে। বাঙালির পাতে কালোজিরের জুরি মেলা ভার। সেই কালোজিরেতেই এবার কালোবাজারি। আর সেই কালোবাজারির তদন্তে নেমে শিউরে ওঠার মতো তথ্য পেল কলকাতা পুলিশ৷

ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতার বাজারে বিক্রি হওয়া কালোজিরেতে মেশানো হয়েছে ইঁদুরের বিষ্ঠা ও পোড়া কালো মোবিল। এই বস্তুটি শরীরে মিশলে তার ফল যে হতে পারে মারাত্মক, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞরাও তা জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশকে।

গত শুক্রবার কলকাতার পোস্তা বাজারে তল্লাশি চালিয়ে একটি ট্রাক থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার অত্যন্ত ক্ষতিকর কালোজিরে উদ্ধার করেছেন কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখার গোয়েন্দারা। শনিবার লালবাজারে ডিসি (ইবি) বিদিশা কলিতা জানান, এই ব্যাপারে কিছুদিন আগেই লক্ষ্মীকান্ত সাউ নামে জোড়াবাগান এলাকার এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জেরা করেই পোস্তার একটি ট্রাক থেকে ২২২ বস্তা ভেজাল কালোজিরে উদ্ধার করা হয়েছে। একেকটি বস্তার ওজন প্রায় ৫০ কেজি। মোট ১১ হাজার ১০০ কেজি এই ভেজাল কালোজিরে উদ্ধার হয়েছে। 

ইবির গোয়েন্দাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানের একটি গোডাউনে জড়ো করা হয়েছে বস্তাভর্তি ভেজাল কালোজিরে। তারপর গোয়েন্দারা তল্লাশি চালিয়ে ৩৯ কেজি ভেজাল কালোজিরে উদ্ধার করেন। গ্রেপ্তার হন ব্যবসায়ী লক্ষ্মীকান্ত সাউ। চকচকে চেহারার ওই কালোজিরে হাতে ঘষতেই কালো রঙে ভরতি হয়ে যায় গোয়েন্দাদের হাত। সেইসঙ্গে গন্ধও ছিল সন্দেহজনক। তারপর তা পাঠানো হয় ফরেনসিকে।

ফরেনসিক রিপোর্ট জানায়, কালোজিরেতে মেশানো রয়েছে গাড়িতে ব্যবহার করা পোড়া মোবিল, এমনকি ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর বিষ্ঠাও মেশানো রয়েছে এই নমুনায়। গত দেড় মাস ধরে কলকাতায় আসা প্রত্যেকটি ট্রাককে ইবির গোয়েন্দারা পরীক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার গভীর রাতে ইবির গোয়েন্দাদের তল্লাশিতে পোস্তা বাজার থেকে ধরা পড়ে একটি ট্রাক। পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে পড়ে ২২২ বস্তা ভেজাল কালোজিরে। ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা ও প্রাথমিক তদন্ত করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, নদিয়ার নাজিরপুরের কাছে একটি জায়গায় তৈরি হচ্ছে ভয়ানক ভেজাল কালোজিরে।

মোবিল মেশানো ওই বিষাক্ত কালোজিরে বাইরে থেকে ভীষণ চকচকে। যার ফলে ক্রেতাদের চোখে পড়ে। অনেকসময় দোকানদারও না জেনে বিক্রি করেন। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়পক্ষকেই সাবধান হতে হবে এই ব্যাপারে। প্যাকেটের কালোজিরে না কিনে খুচরো কেনাই এক্ষেত্রে ভালো। কেনার আগে ভালো করে হাতে ঘষে দেখে নিতে হবে। হাত কালো হয়ে গেলে বুঝতে হবে, এই কালোজিরেতে ভেজাল রয়েছে।

কলকাতা পুলিশের আরও একটি তদন্তের সাফল্যে বঙ্গদর্শন-সহ আপামর কলকাতাবাসী তাদের কুর্নিশ জানাচ্ছে।

Post Tags
Developed by DXDasia