পাখিরা বাসা করবে বাড়ির ছাদে, বেনজির উদ্যোগ নিউ টাউনে

আজ বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস

পরিবেশ রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে নিউ টাউন কলকাতা ডেভলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ)। এবার থেকে যত বাড়ি তৈরি হবে, সেগুলির ছাদে পাখিদের থাকার বন্দোবস্ত রাখা বাধ্যতামূলক করতে চলেছেন তাঁরা।

এনকেডিএ-র পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মীয়মান প্রত্যেকটি বাড়ির ছাদে বাক্সের মতো কাঠামো লাগাতে হবে। যাতে পাখিরা সেখানে ইচ্ছেমতো থাকতে পারে। বাসা গড়তে পারে। সম্প্রতি হাউজিং ইনফাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন (হিডকো) একটি আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল। হাজির ছিলেন পাখি বিশেষজ্ঞ তথা নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি (নিউজ)-এর সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী। কলকাতার পাখিদের নিয়ে তিনি বক্তব্য রাখেন।  বলেন, আগেকার বাড়িগুলো ঘুলঘুলি থাকত, যাতে সহজেই বাসা গড়তে সক্ষম হত পাখিরা।  সামাজিক বনসৃজনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

ইকো পার্কের অতিকায় খাঁচা 

নিউ টাউনের পাখিবিতান এবং আশেপাশের অঞ্চলে প্রায় ১৩৩ প্রজাতির পাখি চিহ্নিত করা গিয়েছে। এদের মধ্যে ৯৯ ধরনের পাখি পরিযায়ী।  ৩৪ রকমের পাখি সারা বছরই থাকে।  বিরল প্রজাতির মধ্যে রয়েছে সাইবেরীয় চুনিকণ্ঠী, তাইগা ফ্লাইক্যাচার, হলদে বক প্রভৃতি। এরা যাতে মানুষের তৈরি বাড়িতেও নির্ভয়ে বাসা গড়তে পারে, তার পরিকল্পনা করছে এনকেডিএ। এছাড়া বৃক্ষরোপণের জন্যও উদ্যোগ নিচ্ছে হিডকো। কোন কোন গাছ রোপণ করা হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কমিটিতে বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরীও থাকবেন।  গত বছর আমফানে প্রচুর গাছ ধ্বংস হয়েছিল। হিডকো এবং এনকেডিএ ইতিমধ্যেই অনেক গাছ রোপণ করেছে নিউটাউনে। এবার পাখিদের আকর্ষণ করতে ১০০-র বেশি রকম গাছের তালিকা বানিয়েছেন তাঁরা। বট, পেয়ারা, নিম, আমের মতো গাছকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইকো পার্কে একটি কর্মশালার আয়োজন করে নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি (নিউজ)।  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়ারা অংশ নিয়েছিলেন তাতে।  পাখিদের খাঁচা থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। খাঁচায় বন্দি করলে পাখিরা যে ভালো থাকে না, তা বোঝাতে পার্কে বসানো হল একটি অতিকায় খাঁচা। 

বক্তব্য রাখছেন প্রদ্যুৎ চৌধুরী

পাখিবিদ এবং ফটোগ্রাফার প্রদ্যুৎ চৌধুরী ছিলেন অন্যতম বক্তা। তিনি আমাদের জানান, “হিডকোর সভাপতি দেবাশিস সেন পাখি এবং বন্যপ্রাণীদের ওপর নজর দিয়েছেন। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। ইকোপার্কে প্রচুর পাখি রয়েছে। তাদের আশ্রয় দরকার। এখন চড়াই পাখি কমে যাচ্ছে। আগে বাড়িতে পায়রা থাকত, এখন দেখা যায় না। এদের জন্য বাড়ির ছাদে থাকার জায়গা করা খুবই জরুরি।”

বন্যপ্রাণ সংস্থা ‘শের’-এর কর্ণধার জয়দীপ কুণ্ডু আমাদের বললেন, “কলকাতায় এক সময় পাখির বৈচিত্র্য ছিল প্রচুর। এখন নগরায়ন বাড়ায় পাখি কমছে। রাজারহাট-নিউ টাউনে আগে বহু লোক জলাভূমিতে পাখি দেখতে যেতেন। এখন জলাভূমি সংকটে। গাছও কাটা পড়ছে। সব গাছে পাখি থাকে না। ইউক্যালিপটাস, দেবদারু গাছে বাসা বাঁধে না পাখিরা। নিউ টাউনে এনকেডিএ অন্যরকম চিন্তাভাবনা করছে, এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।  কিন্তু শুধু আইন করে সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবেশ সচেতন মানসিকতা তৈরি করতে হবে নাগরিকদের। তবেই আমরা প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠব।”

 

Post Tags
Developed by DXDasia