আজ বিনয় মজুমদারের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী
কবি বিনয় মজুমদার জন্মেছিলেন মায়ানমারে। পূর্ববঙ্গের স্কুলে শুরু হয়েছিল তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। দেশভাগের সময়ে ১৯৪৮ সালে সপরিবারে কলকাতা চলে আসলেন তিনি। মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট, প্রেসিডেন্সি করেছে তাঁর ছাত্রজীবন কেটেছে। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এই কবি আশ্চর্য দক্ষতায় গণিতের সঙ্গে কবিতাকে মিশিয়েছিলেন।
সেই সময়ের তরুণ কবিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠিছিলেন বিনয়। ফলে, তাঁর শত্রুর সংখ্যাও বাড়ছিল। সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষের কার্যকলাপে বিনয় হয়ে উঠছিলেন অপমানিত ও ক্রুদ্ধ। একবার তিনি ভাবলেন, কলকাতার অস্বস্তিকর পরিবেশ ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাবেন। তখন তিনি ৩২ বছরের যুবক।
যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। ১৯৬৬ সালে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে ঢুকে পড়লেন। চলে গেলেন ফরিদপুরে নিজের গ্রাম তরাইলে। সেখানে কিছু আত্মীয়-স্বজনের দেখা পেলেন, বন্ধুও জুটে গেল বেশ কিছু। তবে কিছুদিন পর সেখানে আবার হাঁফিয়ে উঠলেন বিনয়। আঞ্চলিক থানায় গিয়ে জানালেন, বিনা পাসপোর্ট-ভিসায় তিনি ভারত থেকে পাকিস্তানে ঢুকেছেন। আর বললেন, তিনি গ্রামেই থেকে যেতে চান, দরকার হলে মুসলমান হতেও তিনি রাজি। কিন্তু ভারতে যেন তাঁকে ফেরত পাঠানো না হয়।
বিনয়কে জেরা করতে ঢাকা থেকে গোয়েন্দা এলেন। তাঁর কবিতা সম্পর্কে খোঁজ নিলেন। সাদা কাগজ দিয়ে বললেন কবিতা লিখে দিতে। দু’পাশ থেকে, সামনে, চুলদাঁড়ি-সহ, চুলদাঁড়ি কামিয়ে নানাভাবে বিনয়ের ছবি তোলা হল। বিচারাধীন বন্দি হিসেবে তাঁকে রাখা হল জুডিশিয়াল কাস্টডিতে। ৬ মাস পর অবশ্য বিনয়কে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়। কিছু টাকা দেওয়া হল তাঁকে। দু’জন এসকর্ট সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠিয়ে দিল বিনয় মজুমদারকে।
তথ্যঋণ – মলয় রায়চৌধুরী
