ভারতের বিপ্লব হবে অহিংস, স্বপ্ন দেখেছিলেন তারাশঙ্কর

তারাশঙ্কর একজন কালের কথাকার

সমকালের রাজনীতি একজন সৎ শিল্পীকে ভাবিয়ে তোলে। শুধু শিল্পী কেন, যেকোনো সাধারণ মানুষই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতির সঙ্গে। ব্যতিক্রম নয় সাহিত্যিকদের জীবনও। একজন শিল্পী বা সাহিত্যিক যদি নির্দিষ্ট কোনো আদর্শে বিশ্বাসী হন, তাহলে তাঁর শিল্পকর্মে সেই বিশেষ আদর্শটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঠিক যেমন হয়েছিল সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে৷ 

বিশ শতক। এমন চাপান-উতোর এবং টানাপোড়েন বোধহয় তার আগে বা পরে দেখেনি ভারতবাসী। চলছে দেশ স্বাধীনের কাজ। বীরভূমবাসী তারাশঙ্কর জীবনের প্রথমদিকে শ্রেণিহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। যুক্ত হয়েছিলেন বিপ্লববাদের সঙ্গে। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর মনে হয়েছিল এই আদর্শ আদতে হিংসার বীজ ছড়াচ্ছে। তারপরেই এই পথ থেকে সরে এসে অহিংসার পথে যুক্ত হলেন। বিশ্বাস করলেন, “ভারতবর্ষে বিপ্লব হবে, কিন্তু সে হবে অহিংস বিপ্লব”।

নিশ্চিতভাবে তারাশঙ্কর একজন কালের কথাকার। কিন্তু তাঁর সেই কাল অতিক্রম করে আমাদের সময়ে এসে পড়লেও একইরকম জীবন্ত থাকে। তারাশঙ্কর পেরেছিলেন তাঁর নিজস্ব সময়টাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে। বীরভূমের রাঢ় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যে গ্রামীণ মানুষ ও জীবনচর্যার নকশা বুনেছিলেন, তা বাংলা সাহিত্যে এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। বিশ শতকের সমাজব্যবস্থা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে চরমভাবে বিবর্তিত হয়েছে। 

বিবর্তনের সেই রাস্তাই ধরতে চেয়েছেন তারাশঙ্কর। বারবার চেয়েছিলেন গ্রামের পুনর্গঠন এবং পুরোনো গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখে অহিংসার মধ্যে দিয়ে গণচেতনা ও গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে। তাঁর উপন্যাসে বলেওছেন সে কথা। তাঁর সেই ছোটোবেলার বন্ধু, নলিনী বাগচী। যাঁর সঙ্গে পরিচয় হবে তারাশঙ্করের। কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে জেগে উঠবে বিপ্লবী চেতনা। তারপর একের পর এক উপন্যাস-ছোটোগল্পের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করবেন তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থা। আজ এই কিংবদন্তির মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করব তাঁর সৃষ্টির মধ্যেই।
 

Developed by DXDasia