
গুয়াহাটির দম্পতি তাঁরা। বিয়ের ন’বছর পরও কোনও সন্তান আসেনি কোলে। শেষে, শিলিগুড়িতে আইভিএফ পদ্ধতিতে গ্রহণ করেন নলজাতক সন্তান। যমজ সেই সন্তানদুটির একটি ছেলে, একটি মেয়ে। কিন্তু ওজন খুবই কম। ফলে, বিপন্ন হয়ে পড়ে তাদের জীবন। শিলিগুড়ির বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে ঘুরলেও সুরাহা হয়নি কোনও। শেষে, বিপর্যস্ত অভিভাবক শেষ আশা হিসেবে শরণাপন্ন হন ডাঃ সুবল দত্তের। তেরো দিন অক্লান্ত চিকিৎসার পর শিশু দুটিকে সুস্থ করে তোলেন ডাঃ দত্ত।
এমন অনেক ক্ষেত্রেই অপুষ্টিতে আক্রান্ত অত্যন্ত কম ওজনের শিশুদের বাঁচিয়ে শিরোনামে এসেছেন তিনি। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিওনেটাল বেবি কেয়ার ইউনিট তৈরিতে তাঁর অবদান এখনও স্বীকার করেন প্রত্যেকে। শিশুদের বাঁচাতে হাসপাতালে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিনে আনা, দিনরাত শিশুদের সুস্থ করে তোলার জন্য পরিশ্রম – ভোলার নয় এসবও। জেলা হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহণের পর শিলিগুড়িরই নবীন সেন রোডে নিজের চেম্বারে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রবীণ এই ডাক্তার।
ডাক্তার দত্ত জানান, যেসব শিশুর চামড়ার নিচে চর্বি কম থাকে, যাদের ওজন ও শরীরের তাপমাত্রা কম, তারাই তাপমাত্রা ধরে রাখতে না-পেরে হাইপোথারমিয়ায় মারা যায়। এজন্য বিশেষ ওয়ার্মার ব্যবহার করা হয়। আবার, কম ওজনের সদ্যোজাত শিশু মায়ের দুধ টানতে না পেরে মারা যায় হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েও। গ্লুকোজ ৪৫-এর নিচে নেমে গেলেই বিপত্তি। তাদের জন্যেও রয়েছে বিশেষ চিকিৎসা।
পাশাপাশি, মায়েদের উদ্দেশ্যেও তাঁর আর্জি, শিশুদের যেন কৌটোর দুধ না-খাইয়ে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। তাঁর মতে, মায়েরা কিছু নিয়ম মেনে চললে, বহু শিশুমৃত্যু প্রতিহত করা সম্ভব হবে।