
বিশ্বকে প্লাস্টিক বর্জ্য-মুক্ত করার দিশা দেখাচ্ছেন একজন বাঙালি বিজ্ঞানী। নাম শান্তনু ভৌমিক। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে আসবাব ও অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্য তৈরি করে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ কমানোই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে হইচই পড়ে গেছে বিশ্বের নানা দেশে। বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড-এর মতো দেশগুলি থেকে ডাক পেয়েছেন তিনি।
শান্তনু ভৌমিক জানিয়েছেন, এই দেশে দৈনিক প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয় প্রায় ছাব্বিশ হাজার টন। রাজ্যে প্রায় আড়াই হাজার টন। যার পরিমাণ বাড়ছে রোজ। কিন্তু একইসঙ্গে আমাদের দেশে প্রায় ৭৬০০ কিমি সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা আছে, যেখানে আছে প্রচুর নারকেল ও কলাগাছ। প্লাস্টিক বর্জ্যের সঙ্গে নারকেল ও কলা গাছের তন্তু ব্যবহার করে তৈরি করা যায় নানা আসবাব, ফ্লোর-টাইলস, রুফ টাইলস, এমনকি নৌকাও। এতে শুধু প্লাস্টিক বর্জ্যকেই রিসাইকেল করে পরিবেশকে প্লাস্টিক-মুক্ত করা যাবে তাই শুধু নয়, বরং কর্মসংস্থানও হবে বিপুল। বর্জ্য সংগ্রহ, নারকেল ও কলাগাছের তন্তু সংগ্রহ, আসবাব নির্মাণ—প্রতিটি ধাপেই কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের প্লাস্টিককেই পুনর্ব্যবহার্য করে তোলা সম্ভব। আর, এই গোটা প্রক্রিয়ায় খরচও তেমন আহামরি নয়। কাজেই আসবাবগুলির দামও হবে প্রচলিত আসবাবের থেকে কম। এর ফলে উন্নতি হবে গ্রামীণ অর্থনীতিও। অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কও ঋণ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ২০১৯ সালে এই গবেষণায় সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের জুলাই মাসে ইউনেস্কোর পিস মিশনে প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে তাঁর আবিষ্কার নিয়ে অনলাইনে বক্তব্য রেখেছিলেন শান্তনুবাবু। পেয়েছেন ইউনেস্কোর লিডারশিপ অ্যান্ড এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড।
ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা শান্তনু ভৌমিক চেষ্টা করছেন নিজের দেশকেও প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত করে তোলার। ইতিমধ্যে এই গবেষণাকে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা নীতি আয়োগ। ২০১৯ সালে রাজ্যকে প্লাস্টিক মুক্ত করার উদ্দেশ্যে তাঁর গবেষণার মডেল গ্রহণ করেছিল সিকিম সরকার। ২০২২ সালে ঝাড়গ্রামের আর্ট অ্যাকাডেমিতে প্লাস্টিক থেকে বানানো রিসাইকেল টাইলস বসেছে তাঁর উদ্যোগে, যা পশ্চিমবঙ্গে প্রথম। এই টাইলসগুলির আয়ু চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর। তারপর আবার এই টাইলসগুলিকে রিসাইকেল করা যাবে। এছাড়া, এই কাজে পাশে পেয়েছেন নিজের জনা তিনেক ছাত্রকেও। যাঁরা নিজেদের উদ্যোগেই শুরু করেছেন দেশকে প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত করার কাজ। তার জন্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলিকে রিসাইকেল করা হচ্ছে। এতে নানা ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন তৈরি করা যাচ্ছে, তেমনই প্লাস্টিকমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকেও।