ইতিহাস এবং আধুনিকতার মেলবন্ধনে নতুন সাজে বেলেঘাটার ‘গান্ধিভবন’

১৩ অগাস্ট গান্ধিজির এই ভবনে পদার্পণ করার ৭৪ বছর পূর্তি হল

নতুন রূপে সেজে উঠছে বড়ো বড়ো সাদা গম্বুজ ওয়ালা বিশালাকার নিঃসঙ্গ বাড়িটা, যার গায়ে লেপ্টে রয়েছে ইতিহাস। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নতুন করে সংস্কার হচ্ছে বেলেঘাটার ‘গান্ধিভবন’। ঐতিহ্য এবং ইতিহাসকে অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রযুক্তিগত ভাবে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে গান্ধিজির স্মৃতি বিজড়িত কলকাতার এই ভবনটি।

বেলেঘাটার এই গান্ধিভবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের স্বাধীনতা এবং তার অব্যবহিত পরের কয়েকটি দিনের অমূল্য ইতিহাস৷ ১৯৪৭ সালের ১৩ অগস্ট গান্ধিজি এসে উঠেছিলেন বেলেঘাটার ‘হায়দরি মঞ্জিল’ বাড়িটিতে (পরবর্তী সময়ে এই বাড়িই হয়ে ওঠে গান্ধিভবন)। স্বাধীনতার প্রাকমুহূর্তে গোটা শহর তখন উত্তাল দেশভাগের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়৷ হিন্দু-মুসলিম অধ্যুষিত বেলেঘাটার এই পাড়ায় গান্ধিজির আসার উদ্দেশ্য ছিল সেই দাঙ্গার উত্তেজনা প্রশমন৷ কিন্তু রক্তপাত থামাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অনশন শুরু করেন জাতির জনক৷ তাঁর সেই অনশনে শেষ পর্যন্ত শান্তি ফেরে৷ ৪ সেপ্টেম্বর, দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি পেয়ে অনশন ভঙ্গ করেন গান্ধিজি৷ ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির টালমাটাল সময়ে দিল্লি থেকে বহু দূরে, বেলেঘাটার এই বাড়িতেই বিষণ্ণ দিন কাটিয়েছিলেন গান্ধিজি৷

সেই গান্ধিভবন এখন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী একটি সংগ্রহশালা। মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই সংস্কার হয়েছে। বেড়েছে ঘরের সংখ্যা। তৈরি হয়েছে গ্যালারি। রয়েছে গান্ধিজির লেখা চিঠি, বিছানা, চরকা, ঘড়ি, লাঠি সহ তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস। আধুনিক রূপ পাচ্ছে সেই সংগ্রহশালাটি। থাকবে ই-ভিজিটরস বুক, ডিজিটাল লাইব্রেরি। দেখানো হবে গান্ধিজির জীবন ও গান্ধিভবনের ইতিহাসের স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে প্রদর্শনী হবে। তবে কাজকর্ম এখনও পর্যন্ত শুরু করা যায়নি। করোনার কারণে উদ্বোধন অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে। তবে ভিতরের অন্দরসজ্জার কাজকর্ম প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পূর্ণ। ডিজিটালাইজেশনের কাজ বাকি রয়েছে। আগের তুলনায় আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে এই সংগ্রহশালা। তবে উদ্বোধন কবে করা যাবে, সেটা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে।একটা সময় প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা গান্ধিজির পৌত্র গোপালকৃষ্ণ গান্ধি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে এই ভবনের কিছু সংস্কারের কাজ করিয়েছিলেন। তারপর ২০১৮ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ভবনটিকে আরও আধুনিক মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। বরাদ্দ হয় সাড়ে তিন কোটি টাকা। আমজনতা বিশেষ করে পড়ুয়াদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এই সংগ্রহশালা। ১৩ আগস্ট গান্ধিজির এই ভবনে পদার্পণ করার ৭৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৭৫ জন গরিব মানুষের রেশন সামগ্রী তুলে দেবে গান্ধি স্মারক সমিতি।

Post Tags
Developed by DXDasia