November 23, 2018 | 12:00 PM

তেপান্তরের মাঠে ‘বাউল ফকিরি উৎসব’

তেপান্তরের মাঠে শুরু হচ্ছে ‘বাউল ফকিরি উৎসব’। ঠিকই শুনেছেন, তেপান্তরেই। তবে রূপকথায় নয়, এই তেপান্তর বাস্তবের। বর্ধমানের পানাগড় থেকে ২০ কিমি আর শান্তিনিকেতন থেকে ২৩ কিমি দূরে সাতকাহনিয়া গ্রামে এর ঠিকানা। সবচাইতে কাছের বাস স্টপেজই ১১ কিমি। শহুরে সভ্যতা থেকে দূরে সবুজে ঘেরা, নিরিবিলি একটা গ্রাম। বলা যেতে পারে নাটকের গ্রাম। এবারে এখানেই বসছে বাউল ফকিরদের গানের উৎসব। বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া থেকে বাউল-ফকিররা এসে যোগ দেবেন এই উৎসবে। হালকা হিম গায়ে মেখেই জমে উঠবে গানের আসর।

বাউল ফকির উৎসবকে বলা যেতেই পারে গানের মেলা। গত ৮ বছর ধরে এই মেলার আসর বসেছিল নদীয়ার গোড়ভাঙা গ্রামে। এবারে, সেই মেলাই উঠে এসেছে তেপান্তরে। তেপান্তর আদতে থিয়েটারের গ্রাম। গ্রামের ভিতরেই নাটক-যাপন চলে বেশকিছু শিল্পীর। নাটকের পাশাপাশি গ্রামের ভিতরেই চলে পশুপালন, ডেয়ারি এবং মৎস্যচাষের কাজ। কলকাতা থেকে ১৭৫ কিমি দূরে এই ঠেক। পাখিদের পসরা চারপাশে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোটো, মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দপ্তর এবং ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে ‘রুরাল ক্রাফট হাব অ্যান্ড কালচারাল হাব’ প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে এখানেই বাউলদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজিত হচ্ছিল গত দুবছর ধরে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের ‘বাউল ফকিরি উৎসব’ আয়োজিত হচ্ছে তেপান্তরেই।

এবারের মেলা স্বর্গীয় ‘তারক খ্যাপার স্মৃতি মেলা’। গানের আসর জমবে খোলা আকাশের নিচে। মাইক, অ্যাম্পিথিয়েটারের গমগমে আওয়াজ, ঝাঁ চকচকে আলোর চমক এখানে মিলবে না। খোলা গলায় এখানে গান ধরবেন কোনো খ্যাপা। পায়ে হয়তো তখন ঘুঙুর বাঁধবেন বাউল। ইজরায়েল, চেক রিপাবলিকের শিল্পীরাও যোগ দিচ্ছেন এই আসরে। সব মিলিয়ে ২৩-২৫ নভেম্বর বেশ ভালোই কাটবে গানপ্রেমীদের।

সঙ্গে উপরি পাওনা অবশ্যই তেপান্তরের নিসর্গ ও প্রকৃতি।  

ছবিসূত্রঃ ট্যুরইস্ট.ইন ওয়েবসাইট