
গান মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। মানুষের দুঃখ, সুখ, আনন্দ, আবেগ সবকিছুর মধ্যেই একপ্রকার সুর আছে। যে সুর কখনও উদাত্ত, কখনও করুণ হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষের প্রত্যেকটি দিনের সাক্ষী এই গান। যে গান শুনে মানুষ খুঁজে বেড়ান তাঁর শৈশবকে, হাতড়ে বেড়ান প্রিয় মানুষের মুখ- একমাত্র গানই পারে মানুষের আবদার মেটাতে। আর শীতের শহরে একটু গান-বাজনা হবে না, তা হয় নাকি!
কেউ আসবেন মেদিনীপুর থেকে, কেউ আবার বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে, কেউ শহর কলকাতারই – কলকাতার দশটি মঞ্চে অংশগ্রহণ করবেন পাঁচ হাজারেরও বেশি সংগীতশিল্পী এবং যন্ত্রসংগীত শিল্পী। উদ্দেশ্য ‘বাংলা সঙ্গীতমেলা ২০১৯’। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৯৪ হাজার লোকশিল্পীকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এত বড়ো সংগীত মেলার আয়োজন ভারতের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় বৈকি।
আগামী ৪ ডিসেম্বর কলকাতার নজরুল মঞ্চে সঙ্গীত মেলার শুভ সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎসব হবে দশটি মঞ্চে। রবীন্দ্র সদন, শিশির মঞ্চ, একতারা মুক্তমঞ্চ, মোহরকুঞ্জ, রবীন্দ্র-ওকাকুরা ভবন, ফণীভূষণ বিদ্যাবিনোদ মঞ্চ, হেদুয়া পার্ক, দেশপ্রিয় পার্ক, মধুসূদন মুক্তমঞ্চ এবং রাজ্য সংগীত আকাদেমি। তবে এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে ১২ ডিসেম্বর একতারা মুক্তমঞ্চের একটি আলোচনা সভা। যার বিষয়- ‘বাংলা গান – গ্রামোফোন থেকে ইউটিউব’। তাতে অংশগ্রহণ করবেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীরা। এছাড়াও গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালায় থাকবে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি – মান্না দে: সে নাম রয়ে যাবে...’ শীর্ষক প্রদর্শনী। বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রতিভাবান নবীন শিল্পীরাও অংশ নেবেন। ৩২টি স্কুল ও ১৬টি কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও গান গাইবেন। বিশ্ববাংলা লোকসংস্কৃতি উৎসবে অংশ নেবেন সব জেলার লোকশিল্পীরা।