
খাদ্যসংকটে ভুগছেন পাহাড়ের দমকলকর্মীরা। সমতল থেকে তাদের জন্য ত্রাণ যাচ্ছে। খাবার বাঁচিয়ে রাখতে আলুসেদ্ধ-ভাত খাচ্ছেন তাঁরা। রবিবার কার্শিয়ং থেকে এমন কথাই জানালেন দমকলকর্মীরা। একই সঙ্গে সমতল থেকে যাওয়া অনেক দমকল ইঞ্জিনচালক পাহাড়ের রাস্তায় ইঞ্জিন চালাতে পারছেন না। আর তাঁদের পাহাড়ি রাস্তায় ইঞ্জিন চালানোর দক্ষতা না থাকায় দুটি ইঞ্জিন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার রাতে কার্শিয়ং দমকলকেন্দ্রে এসে মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় হামলা চালায় বনধ সমর্থকরা। তিনটি ইঞ্জিনের সামনে পেট্রোল বোমা ফেলা হলে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দমকলকর্মীদের ধারণা, শনিবারই একটি পঞ্চায়েত অফিসে আগুন নিভিয়ে আসেন দমকলকর্মীরা। তারই জেরে রাতে কার্শিয়ং দমকলকেন্দ্রে হামলা।
পাহাড়ে এখন শুধু আগুন জ্বলছে। এখন পর্যন্ত মিরিক, বিজনবাড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়ং, কালিম্পং মিলিয়ে পাঁচটি দমকলকেন্দ্রে কুড়িটিরও বেশি আগুন নেভানোর ডাক পেয়েছেন দমকলকর্মীরা। কালিম্পং-এ ৫টি, দার্জিলিং-এ ৪টি, কার্শিয়ং-এ ৩টি, বিজনবাড়িতে ৩টি, মিরিকে ৩টি, অন্য মিলিয়ে ২০টি। আগুন নেভানোর জন্য পাহাড়ে ১০টি ইঞ্জিন আছে। সমতল থেকে ৬টি ইঞ্জিন গিয়েছে পাহাড়ে। কিন্তু, পাশাপাশি জলের সমস্যার কথাও জানিয়েছেন দমকল অফিসার অশোক ভট্টাচার্য। আরও জানান, সমতল থেকে পাহাড়ে আগুন নেভানোর জন্য অনেক জলের গাড়ি যাচ্ছে।
পাহাড়ে ধীরে ধীরে খাদ্যসঙ্কট হতে থাকায় মোর্চা নেতাদের ওপরও মানুষ ক্রমশ ক্ষিপ্ত হচ্ছেন। তবে মুখে মাস্ক পরে যারা পাহাড়ের অনেক স্থানে আগুন ধরাচ্ছে তারা বাইরে থেকে আসা কোনও জঙ্গি বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। এর মধ্যেই রবিবার দার্জিলিং-এ দুটি বাস ভাঙচুর হয়েছে। গারিধুরাতে একটি পুলিশের গাড়ির ওপর হামলা হয়েছে। মোর্চা রবিবার টর্চ মিছিলের ডাক দেয় সুকনাতে। পৃথক রাজ্যের দাবিতে সালুগারাতেও মিছিলের ডাক দেয় মোর্চা। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ করে রবিবার শিলিগুড়ি বাগডোগরা শিবমন্দির এলাকাতে মিছিল করে গোর্খাল্যান্ড বিরোধীরা। সমতল থেকে পাহাড়ের আন্দোলনের প্রতিবাদ শুরু হওয়ায় সিকিমেও খাদ্যসঙ্কট দেখা দিচ্ছে। সিকিমে কোনও পর্যটক নেই। ফলে অর্থনৈতিক ভিত ক্রমশ ভেঙে পড়ছে সেখানেও।