১০০০ বইয়ের স্টল নিয়ে শুরু হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ৪৯ বছর

৯৭৬ সালের কলিকাতা পুস্তকমেলা-ই আজকের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। ১৯৮৪ সালে এই বইমেলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে। বারোদিন ধরে প্রতিবছর এই বইমেলা হয়ে ওঠে বইপ্রেমীদের দুর্গাপুজো। ঠিক এই কারণেই কলকাতা বইমেলাকে বলা হয় বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ। কলকাতা বইমেলা এশিয়ার বৃহত্তম বইমেলা।

সাংবাদিক বৈঠকে পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ড-এর সভাপতি সুধাংশুশেখর দে জানান, মেলায় ছোটো-বড়ো মিলিয়ে এক হাজারের বেশি স্টল থাকছে। এ বারেই প্রথম মেট্রো সংযোগের মাধ্যমে হাওড়া ও এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি মেলায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা-র শুভ উদ্বোধন আজ অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবছর বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। উদ্বোধনে অন্যান্য বিশিষ্টদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে ও ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনোও। সল্টলেকের করুণাময়ীর কাছে সেন্ট্রাল পার্ক মেলার মাঠে অর্থাৎ বইমেলা প্রাঙ্গণে বইমেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাংবাদিক বৈঠকে পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ড-এর সভাপতি সুধাংশুশেখর দে জানান, মেলায় ছোটো-বড়ো মিলিয়ে এক হাজারের বেশি স্টল থাকছে। এ বারেই প্রথম মেট্রো সংযোগের মাধ্যমে হাওড়া ও এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি মেলায় পৌঁছানো যাবে।

এক নজরে বইমেলা

• এ বারের বইমেলায় থাকছে ১০০০-এরও বেশি স্টল। ২০টিরও বেশি দেশ যোগ দিচ্ছে বইমেলায়।

• প্রতিবছরের মতো বইমেলায় এবারও থাকছে মোট ৯টি গেট। তার মধ্যে দুটি গেট আর্জেন্টাইন স্থাপত্যের আদলে হবে। দুটি গেট হবে প্রফুল্ল রায় এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁকে উৎসর্গ করে থাকবে একটি গেট।

• কমিকস-স্রষ্টা ময়ূখ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষে, চিলড্রেন প্যাভিলিয়নটি হচ্ছে তাঁকে উৎসর্গ করে। এ বারের লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়ন হচ্ছে প্রয়াত কবি রাহুল পুরকায়স্থর নামে।

• ২৫-২৬ জানুয়ারি লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল চলবে। ‘চির তরুণ’ নামে সিনিয়র সিটিজেন ডে পালিত হবে ৩০ জানুয়ারি। এছাড়াও ছোটোদের জন্য, ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চিলড্রেন’স ডে। সলিল চৌধুরী ও ভূপেণ হাজারিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা।

আসা-যাওয়া
বাস: করুণাময়ীতে আসার জন্য প্রতি বছরের মতো এবছরও রয়েছে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা। যা ছাড়বে করুণাময়ী থেকে। হাওড়া স্টেশন যাওয়ার জন্য রয়েছে দুটি বাস – AC 12, C25। আবার সাঁতরাগাছি যাওয়ার জন্য রয়েছে VS 12। যাদবপুর যাওয়ার জন্য রয়েছে AC 9 এবং S9। অন্যদিকে পর্ণশ্রী যাওয়ার জন্য রয়েছে S4। শকুন্তলা পার্ক, জোকা এবং গড়িয়াহাট যাওয়ার জন্য রয়েছে S 22 এবং 46। গড়িয়া এবং কামালগাজি যাওয়ার জন্য S14। বারুইপুর যাওয়ার জন্য রয়েছে S12। বারাসাত যাওয়ার জন্য রয়েছে AC 36, EB 12 এবং D 19B। ব্যারাকপুর যাওয়ার জন্য রয়েছে S 15। আবার বালি হল্ট যাওয়ার জন্যও রয়েছে বেশ কিছু বাস। সেগুলি হল AC 23 এবং S 23। বইমেলা থেকে এয়ারপোর্ট যাওয়ার জন্য রয়েছে AC 38। বালি হল্টগামী বাসগুলোও এয়ারপোর্ট হয়ে যাবে। সরকারি বাসগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বাস পরিষেবাও চালু থাকবে।

মেট্রো: এই প্রথম মেট্রোর মাধ্যমে হাওড়া ও এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি করুণাময়ী (বইমেলা প্রাঙ্গন) পৌঁছানো যাবে। কলকাতা, হাওড়া এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক বইপ্রেমী যাতায়াতের জন্য মেট্রো ব্যবহার করতে পারবেন। গিল্ডের অনুরোধে, মেট্রো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মেট্রো পরিষেবার ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেষ মেট্রোটি মেলার সমস্ত দিন রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। মেলায় একটি বিশেষ বুথও থাকবে, দর্শনার্থীরা সেই বুথ থেকে UPI-এর মাধ্যমে টিকিট বুক করতে পারবেন।

এছাড়াও শিয়ালদহ, রাজাবাজার, মন্দিরতলা ও উল্টোডাঙা স্টেশন পর্যন্ত বইমেলার জন্য দেওয়া হয়েছে বিশেষ শার্টেল পরিষেবা। করুণাময়ী আসার জন্য রয়েছে বিভিন্ন অটো পরিষেবাও।
 

Post Tags
Developed by DXDasia