
অ্যাকোরিয়ামের জলে খেলে বেড়াচ্ছে রঙিন খুদে খুদে মাছ। এই দৃশ্যই এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে গ্রাম-মফস্সল-শহরতলির অনেক মানুষকে। রোজগারের স্বপ্ন। রঙিন মাছের চাহিদা বাড়ছে দ্রুত হারে। ফলে, মাছ-চাষের মাধ্যমে উপার্জনের পথও খুলে যাচ্ছে। রীতিমতো লাভজনক এই রঙিন মাছের চাষ জীবিকার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
কিছুদিন আগেও অ্যাকোরিয়ামে রঙিন মাছেদের দেখা মিলত মূলত শহরেই। কিন্তু, যত দিন যাচ্ছে শহর থেকে শহরতলি এমনকি মফস্সল, গ্রামেও জনপ্রিয় হচ্ছে রঙিন মাছ-সমেত অ্যাকোরিয়াম। বাড়িতে অ্যাকোরিয়ামে নানা প্রজাতির মাছকে একসঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে খরচও মোটে বেশি নয়। ফলে, মাছ-সমেত অ্যাকোরিয়ামের চাহিদা বাড়ছে গ্রাম-মফস্সলেও। বাজারও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। মাছচাষের এই নতুন জীবিকার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন অনেকেই।
নানা প্রজাতির রঙিন মাছচাষ খুব দুরূহ ব্যাপার নয়। বেশি জায়গাও লাগে না। মাটির মাঝারি গর্তে বা চৌবাচ্চাতেও দিব্বি হয় মাছের চাষ। অনেকক্ষেত্রেই এই চাষে সরকারি সাহায্যও মেলে। এমনকি, কিছু জেলায় মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে একশো দিনের কাজের প্রকল্পের ভিতরেও উৎসাহী যুবক-যুবতীদের জড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে এই চাষে। তাছাড়া, ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষ তো চলছেই। জায়গা বেশি থাকলে চাষের পরিমাণও বাড়বে। নাহলে, ছোটো জলাশয় তৈরি করে বা গর্ত করে পাম্পের মাধ্যমে জল তুলে চলছে চাষ। কেউ কেউ চৌবাচ্চাতেও চাষ করছেন। জলাশয়ে, গর্তে বা চৌবাচ্চায় লাগানো হচ্ছে অক্সিজেন পাম্প। সবটা মিলিয়ে বিনিয়োগ কিন্তু মোটেই খুব বেশি নয়।
অথচ, এই রঙিন মাছের চাষে মুনাফা নিশ্চিত। ছোটো পরিসরের চাষে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা রোজগার অনায়াসে হবে। জায়গা বড়ো হলে, চাষের পরিধি বাড়লে সেই মুনাফা লক্ষাধিক টাকাও ছাড়াতে পারে। বাজার যেহেতু এখন আগের মতো শহর-কেন্দ্রিক নয়, ফলে রঙিন মাছ চালানেও সমস্যা হচ্ছে না। স্থানীয় বাজার থেকেই লাভের মুখ দেখছেন অনেকে।
মৎস্যপ্রিয় বাঙালির মৎস্যপ্রীতির এক নতুন কারণ জন্ম নিয়েছে, বলাই বাহুল্য।