
নিছক সুস্বাদু ফলই নয়, জীবনাদায়ীও বটে। এমনিতে কমলালেবুর নানা খাদ্যগুণ নিয়ে আমরা সকলেই কম-বেশি ওয়াকিবহাল। কিন্তু সাপের বিষের প্রতিষেধকও যে কমলালেবুর মধ্যে লুকিয়ে, তা জানা ছিল না এতদিন। সদ্য এমন আবিষ্কারেই হইচই ফেলে দিয়েছেন আসানসোলের গুপ্ত কলেজ অব টেকনোলজিকাল সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক শুভময় পাণ্ডা। জিতে নিয়েছেন রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসে সেরা বিজ্ঞানীর তকমাও।
কমলালেবুতে থাকা হেসপেরেটিনকে অ্যান্টি ভেনাম সিরামের সঙ্গে মেশালে তৈরি হতে পারে চন্দ্রবোড়া, গেছোবোড়া বা বাঁশবোড়া সাপের বিষ-প্রতিষেধক। এইসব সাপের বিষে থাকে সিরিন প্রোটিএইচ নামের রাসায়নিক। যা সাপের কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে কোষ ধ্বংস হয় দ্রুত। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি এমনকি পচন ধরে ক্ষতস্থানেও। অ্যান্টি ভেনাম সিরাম দিলেও এইসব সাপের কামড়ে তা খুব একটা কার্যকর হয় না অনেকসময়েই। এই সিরিন প্রোটিএইচের প্রতিষেধকই হল কমলালেবুতে থাকা হেসপেরোটিন। যা ডকিং পদ্ধতিতে সিরিন প্রোটিএইচ-কে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।
কলকাতায় অ্যান্টিভেনাম তৈরি হয় না প্রায় গত দশ বছর ধরে। তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরম থেকে আমদানি করা অ্যান্টি ভেনাম সিরাম অনেকক্ষেত্রেই এই রাজ্যের সাপের বিষকে ঠিকমতো প্রতিরোধ করতে পারে না। সেই কারণে, স্থানীয়স্তরে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। শুভময় পাণ্ডার গবেষণা সেই চেষ্টারই বড়মাপের একটি সাফল্য।