
ঘোষিত হল আনন্দ পুরস্কার ১৪২৫। পুরস্কারের দৌড়ে ছিল তিনটি বই- দীপেশ চক্রবর্তীর ‘মনোরথের ঠিকানা’, সন্মাত্রানন্দের ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ এবং নলিনী বেরার ‘সুবর্ণরেণু সুবর্ণরেখা’। অবশেষে ১৪২৫ সালের আনন্দ পুরস্কার পাচ্ছেন সাহিত্যিক নলিনী বেরা।
মানুষ পরিব্রাজক। জীবনের অন্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে কোথা থেকে কোথায় সে পৌঁছে যায় নিজেও জানে না। উৎস থেকে মোহনায় এসে সমুখে শান্তি পারাবার দেখে তার মনে পড়ে শেকড়ের কথা। শেকড়ের খোঁজে সে ফিরতে চায় স্মৃতি-বিস্মৃতির পথ বেয়ে তার প্রত্ন-ইতিহাসে। যে ইতিহাস চর্চা থেকে উঠে আসে প্রান্তিক জনপদের কাহিনি, সাম্প্রতিককালে যা সাবল্টার্ন ইতিহাস। সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী, উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত, কত জনপদ, জনজীবন আর কত শত পরিবার। এমনই এক পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা, বিবর্ধিত ও আলোড়িত এক আশ্চর্য আখ্যান শোনাচ্ছেন দলিত সাহিত্যিক নলিনী বেরা। তাঁর এই আশ্চর্য আখ্যানই এবারের আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত হতে চলেছে। বইটির প্রকাশক- দে’জ পাবলিকেশন। প্রচ্ছদ শিল্পী- দেবাশিস সাহা। মুদ্রিত মূল্য- ৩৫০ টাকা।
উল্লেখ্য, ৬১ বছরে পদার্পণ করছে আনন্দ পুরস্কার। ১৯৫৮ সাল থেকে শুরু হয়েছিল এই সম্মান। বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন, প্রমথনাথ বিশী, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আবুল বাশার, জয় গোস্বামী, আনিসুজ্জামান প্রমুখ লেখক সম্মানিত হয়েছেন আনন্দ পুরস্কারে। এই তালিকায় নলিনী বেরার নাম দেখে গর্বিত বাংলার সব শ্রেণির পাঠক। লেখককে অভিনন্দন।