
অনাদি চরণ নায়েক। তিনি একজন প্রাক্তন শিক্ষক। পড়াতেন মুকুন্দপুর প্রাথমিক স্কুলে। বয়েস হয়েছে ৭৩। প্রতি দিন তিনি দেখতেন পুরুলিয়ার মানবাজার এক নম্বর ব্লকের চাঁদড়া গ্রামের হাইস্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা জল কাদা ভেঙে স্কুলে আসছে। দেখে খারাপ লাগত মাস্টারমশাইয়ের। প্রশাসনের অনেক জায়গায় দরবারও করেছেন রাস্তাটা পাকা করার জন্য। কিন্তু নানা কারণে কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। অবশেষে নিজেই নেমে পড়লেন পাকা রাস্তা তৈরির কাজে। নিজের কিছু জমানো টাকা ছিল, তাই নিয়েই তৈরি হল প্ল্যান। বাকিটা গল্পের মতো। মোট খরচ ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। কাজ শেষ করে স্থানীয় বিডিও সাহেবকেও অনাদিবাবু জানিয়ে দিয়েছেন রাস্তা পাকা করে ফেলার খবর।
শুধু পাকা রাস্তা নয়, গ্রামের সায়েরবাঁধে মহিলাদের জন্য একটি ঘাটও করে দিয়েছেন অনাদিবাবু। তাঁর বক্তব্য, ‘দেখতাম প্রতিদিন প্রচুর মহিলা গ্রামের সায়েরবাঁধে খোলা জায়গায় স্নান করছেন। খারাপ লাগায় সংশ্লিষ্ট সব স্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। এমনকী, ষোলো আনাকেও বলেছিলাম। সকলে মিলে চাঁদা তুলে যদি ঘাট তৈরি করে দেওয়া যায় বা একটা দেওয়াল তুলে দেওয়া যায়। কিন্তু আমার এই আহ্বানে কেউ তেমন রাজি না হওয়ায়, আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে দু’লক্ষ টাকা দিয়ে স্নানঘাট বনিয়ে দিয়েছি।
তখন মিস্ত্রি ও জোগানির খরচ বাঁচাতে নিজেই কাজ করেছিলাম, বললেন অনাদি বাবু। তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে চাকরি করে, আরও একজন ব্যবসা করেন। আমার নিজের চাকরি জীবনের সঞ্চয়ের টাকাতে এই দু’টি কাজ করেছি ।’ প্রতিদিন এক বার করে ওই স্নানের ঘাট ঝাঁটও দিয়ে দেন অনাদিবাবু।