September 3, 2019 | 12:00 PM

পাঁচ কোটি দেশি ফলের গাছ লাগানোই পণ আড়াইশো গাছপাগলের

বৃক্ষরোপণের নামে অধিকাংশ সময়েই লাগানো হয় বিদেশি গাছ। সেগুলি হয় মাটি থেকে জল শোষণ করে বেশি, কিংবা নানাভাবে ক্ষতি করে আঞ্চলিক বাস্তুতন্ত্রের। অথচ, বিশ্বজুড়ে দ্রুত কমছে গাছ। প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ বৃক্ষরোপণের। কিন্তু কোন গাছ? সেই ভাবনা থেকেই দেশি ফলগাছের চারা রোপণের বিষয়টি প্রথম মাথায় আসে মোহাম্মদ ফখর উদ্দিন তথা দ্রাবিড় সৈকতের। সৈকত বাংলাদেশের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি লক্ষ্য করেন, ফলের আমদানিতেও প্রচুর খরচ হচ্ছে দেশের। এদিকে দেশে দেশি ফলের গাছ কমছে। সবটা মিলিয়ে তিনি ও আরো কয়েকজন মিলে শুরু করলেন দেশি ফলগাছের চারা রোপণের কাজ। জন্ম নিল ‘ফলদ বাংলাদেশ’। প্রথমে নিজের বাড়ি, পাড়া, পড়শিদের গাছ বিতরণ থেকে বাড়তে বাড়তে ক্রমে প্রায় গোটা বাংলাদেশ জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে ‘ফলদ বাংলাদেশ’-এর কর্মকাণ্ড।

সৈকতের উদ্যোগ প্রথমে শুরু হয়েছিল কয়েকজন বন্ধু এবং কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়েই। তখন সৈকত সবাইকে বুঝিয়েছিলেন, পকেটে মাত্র ২০ টাকা থাকলেই লাগানো যায় একটি দেশি ফলগাছের চারা। পরে সেই গাছই ভরিয়ে দেয় ফলে, অক্সিজেনে। ক্রমে এই উদ্যোগে যোগ দেন আরো অনেকে। এখন ‘ফলদ বাংলাদেশ’-এর সদস্য-সংখ্যা আড়াইশোজন। বাংলাদেশের ৪৬টি জেলাতেই দেশি ফলের গাছ রোপণের কাজ করেছেন তাঁরা। লাগিয়েছেন লক্ষ-লক্ষ গাছ। সেইসব গাছের অনেকগুলিতেই ফল এসেছে ইতিমধ্যেই। কাজের পরিধিও বেড়েছে সৈকতদের। গাছ লাগানোর পাশাপাশি চলছে সচেতনতা নির্মাণের প্রচারও। কিন্তু তাঁদের স্বপ্নটা আরো অনেক বড়ো। ৫ কোটি দেশি ফলের গাছ লাগাতে চান তাঁরা। 

ছবি: ফলদ বাংলাদেশ ফেসবুক পেজের সূত্রে।