February 26, 2019 | 12:00 PM

কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দিতে আরো আধুনিক প্রযুক্তি

শীত ফুরোতে না ফুরোতেই কালবৈশাখীর দেখা পেয়েছে দক্ষিণবঙ্গ। পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও ঝড়ের দাপটে প্রাণ গেছে অন্তত ৬ জনের। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে ভালোই। এই ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর জন্য কালবৈশাখীর আরো সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। তার জন্য আসতে চলেছে আধুনিকতর ‘সোয়ারলেস’ প্রযুক্তি।

ভূ-উষ্ণায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত দু’বছরে ঝড়-ঝঞ্ঝার দাপাদাপি ক্রমশ বাড়ছে। সাময়িক স্বস্তির পাশাপাশি একাধিক আশঙ্কাও বয়ে আনে এই ঝড়। ঝড়ে গাছ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি থেকে শুরু করে বজ্রপাতে মৃত্যু। এমনিতে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস খুব বেশি আগে দেওয়া সম্ভব হয় না। কালবৈশাখীর বজ্রগর্ভ মেঘ দ্রুত তৈরি হয়ে ধেয়ে আসে। এতদিন ডপলাস রেডারের মাধ্যমে মেঘের গতিবিধি পর্যালোচনা করে কোথায় কখন কালবৈশাখী আছড়ে পড়বে, কয়েক ঘন্টা আগে তার একটা পূর্বাভাস দিত আবহাওয়া দপ্তর। কালবৈশাখী হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এটা জানানো সম্ভব হত ২৪-৪৮ ঘন্টা আগে। কিন্তু কোথায়, কত বেগে সেই ঝড় আসবে—সে সম্পর্কে আগাম কিছুই জানানো সম্ভব হত না।

এখন সেই পূর্বাভাসই আরো নিঁখুত আর সঠিক হতে চলেছে আধুনিক সোয়ারলেস (শর্ট রেঞ্জ ওয়ার্নিং অব ইনটেনস রেইনস্ট্রম ইন লোকালাইজড সিস্টেম) প্রযুক্তির মাধ্যমে। কালবৈশাখী-সহ যে কোনো ঝড়ের বজ্রগর্ভ মেঘ কখন, কতখানি, বেগে, কোথায় ধেয়ে আসছে তা জানানো সম্ভব হবে এই প্রযুক্তিতে। ঝড়ের সময় নেহাত বাধ্য না হলে, কেউ যেন বাইরে না থাকেন, তাও নিশ্চিত করা যাবে আগাম পূর্বাভাস এলে। তাতে বজ্রাঘাতে পথচারীর মৃত্যুর ঘটনাও কমবে। অনেকক্ষেত্রে আগাম সতর্কতাও নেওয়া যাবে ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর জন্য।

ডপলাস রেডারে এমনিতেই তিনশো কিলোমিটার দূর অবধি মেঘেদের গতিবিধি ধরা যায়। তার সঙ্গে, সোয়ারলেস প্রযুক্তি যুক্ত হলে ঝড়ের আগাম খবর আরো নিখুঁতভাবে দেওয়া সম্ভব বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। কালবৈশাখী গ্রীষ্মের সময় স্বস্তি দিক, সঙ্গে বয়ে আনা অস্বস্তিকে যাতে ঠেকানো যায়—তাই এই ব্যবস্থা। এই আধুনিক ব্যবস্থাও ‘ঝড়ে উড়ে যাবে’ কিনা– সেটাই আপাতত দেখার।