
শুক্রবার ধর্মতলায় ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে ‘বিজেপি ভারত ছাড়ো’ ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৯ আগস্ট ‘কুইট ইন্ডিয়া’ দিবসটিকেই এই আন্দোলনের শুরুর দিন হিসেবে বেছে নিলেন তিনি। মমতা নিজে আন্দোলনের সূচনা করবেন। ৩০ আগস্ট সমাপ্তি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকবেন তিনি।
শুক্রবারের জনসভায় তৃণমূল নেত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ জানালেন বিজেপি-কে। বললেন, ‘আগামী লোকসভা ভোটে একটি আসনও দেব না বিজেপি-কে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৮টি দল জোট বেঁধেছিল। তারা প্রায় ৩৫% ভোট পেয়েছে। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সংখ্যা বেড়েছে। লোকসভায় মোদীবাবুর দল ৩০% ভোটও পাবে না।’ কর্মীদের ২১ জুলাই দিনটিকে ‘অঙ্গীকার দিবস’ হিসেবে পালন করতে নির্দেশ দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘সারা ভারত জুড়ে জরুরি অবস্থা চলছে। একজন নাগরিক হিসেবে আমার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে কিনা, আজ আমরা জানি না। নকল হিন্দুদের দল এসব করছে। বিরুদ্ধে লিখলে সাংবাদিকদের চাকরি যাচ্ছে, টিভি চ্যানেল পছন্দ না হলে সেখানে রেইড হচ্ছে।’ মমতা অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজস্থানে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি চলছে। কর্নাটকে রেড্ডিবাবুদের দুর্নীতি, মধ্যপ্রদেশে ব্যাপম দুর্নীতিতে ৫০ জন খুন হয়ে গেছে, গুজরাটে ২০ হাজার কোটি টাকার পেট্রোলিয়াম কেলেঙ্কারি, সেখানে সিবিআই ইডি-র কোনও তৎপরতা নেই। যত বাড়াবাড়ি এই রাজ্যে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা।’
জনসভায় উপস্থিত সব সমর্থকদের মমতা বলেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে কড়া নজর রাখতে। কোনও অপ্রীতিকর পোস্ট দেখলে বিরোধিতা করতে ও প্রশাসনকে জানাতেও নির্দেশ দেন তিনি। তিনি তথ্য দিয়ে জনসভায় বলেন, বিমুদ্রাকরণ এবং জিএসটি-র ফলে গত এক বছরে দেশের জিডিপি কমেছে, শিল্পের সূচক নেমেছে, কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ কমে গেছে প্রায় অর্ধেক। মমতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শাসকদল চেষ্টা করছে মানুষের খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণে গোরক্ষকের নামে গোরাক্ষস বাহিনী তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির।’ পাশাপাশি, এও জানান তিনি, ‘নারদা-সারদা দিয়ে আমাদের অপমান করা হচ্ছে। আজ শোভন চট্টোপাধ্যায়কে, কাল সৌগত রায়কে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। মানহানির মামলা করে ক্ষতিপূরণ চাইব।’