
ইয়াসোনাস সারাকিস (Iasonas Psarakis)। একজন গ্রিক বংশোদ্ভূত সুরকার, সংগীতশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি উত্তর ভারতীয় ধ্রুপদী এবং বিশ্ব সংগীতে বিশেষজ্ঞ। গ্রিস থেকে ভারতে এসে বিশ্বভারতীর সংগীত ভবন থেকে হিন্দুস্তানি ধ্রুপদী সংগীতে (সেতার) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ইয়াসোনাসের মিউজিক পৌঁছে গেছে গ্রিস-ভারত সহ মিশর, ইতালি, লেবানন, বাংলাদেশ, তুরস্ক ও ইরানে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তাঁর মিউজিক্যাল অ্যালবাম ‘অ্যাস্ট্রিস’ জিতে নেয় বহু পুরস্কার; এমনকি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড-এ প্রথম রাউন্ডের ভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। শান্তিনিকেতন ও কলকাতায় প্রায় চার বছর কাটানোর পর ফিরে গিয়েছেন নিজের গ্রামে এবং ছড়িয়ে দিচ্ছেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারা। ইয়াসোনাস সারাকিস-এর সঙ্গে বঙ্গদর্শন.কম-এর পক্ষ থেকে কথা বললেন এক্সকিউটিভ এডিটর সুমন সাধু (Suman Sadhu)।
_______________________________________
সুমন: প্রথমেই গ্রিসে তোমার গ্রামের কথা জানতে চাইব। সেখানে তোমার জীবন আসলে কেমন?
ইয়াসোনাস: আমার গ্রামের নাম পেফকি, এটি দক্ষিণ গ্রিসে, ক্রিট নামক একটি দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যে তিন বছর ভ্রমণ এবং চার বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, মূলত সেতার ও এসরাজ শেখার পর কোভিড-লকডাউন শুরু হয়, তারপর আমি পেফকিতে ফিরে আসি। পেফকি মাত্র ৩০ জন বাসিন্দার একটা সুন্দর ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম, যেখান থেকে সমুদ্রও দেখা যায়। গ্রামের ভিতরে কোনও বড়ো রাস্তা নেই, কেবল ছোটো ছোটো গলি রয়েছে। অদ্ভুত সুন্দর প্রকৃতি ঘেরা আমার গ্রাম, যা সংগীত নির্মাণ, চর্চা এবং নানান শিল্পকর্মের মধ্যে নিয়োজিত থাকতে সাহায্য করে। বলা যায় আমার সংগীত অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস এই গ্রাম।
সুমন: সংগীত তোমাকে কোন বয়স থেকে এবং কীভাবে আকৃষ্ট করতে শুরু করল?
ইয়াসোনাস: জ্ঞান হওয়া থেকেই সংগীত আমাকে ভীষণ আকর্ষণ করেছে। আমি একটি শিল্পী পরিবারে বড়ো হয়েছি, আমাদের বাড়ি সবসময় সংগীত সমাবেশের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এমনকি আমাদের গ্রামে গ্রীষ্মকালে বাবা-মা এবং তাদের সঙ্গীতপ্রেমী বন্ধুদের সঙ্গে আমিও প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেরিয়েছি, সঙ্গে থেকেছে গান।
তবে বলা যায়, দশ বছর বয়স থেকে পাকাপাকিভাবে তালিম নিতে শুরু করি। গ্রিসের এথেন্সের একটি কনজারভেটরিতে ক্লাসিক্যাল গিটার এবং ইউরোপিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিক শিখতে শুরু করি, আমার সতেরো বছর বয়স পর্যন্ত সেটা চলতে থাকে। সেই সময়, আমি গানও লিখতাম – সামাজিক এবং পরিবেশগত বিষয়বস্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত নানান গান লিখে নিজের মতো পরিবেশন করতাম।
আঠেরো বছর বয়সে, আমি রাজধানী ছেড়ে একা থাকতে শুরু করি। প্রায় চার বছর ধরে লেসভোস দ্বীপ এবং পরে কিছু প্রত্যন্ত গ্রিক দ্বীপে চলে যাই। সেখানে ডিজেরিডু, জাইলোফোন, লুট ও গিটারের মতো বাদ্যযন্ত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাই। সেই সময় আমার নিজস্ব সাইকেডেলিক, পরীক্ষামূলক মিউজিক তৈরি করছিলাম, যদিও সেই প্রাথমিক পর্যায়ের কোনও রেকর্ডিং নিজের কাছে রাখিনি।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত আমার জীবনে খুবই অপ্রত্যাশিত এবং খানিকটা রহস্যময় উপায়েই প্রবেশ করেছে। আমার বয়স যখন ষোল, তখন দক্ষিণ ক্রিটের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে জীবনে প্রথমবার সেতার শুনেছিলাম।
ইয়াসোনাসের সাম্প্রতিক কাজের ব্যানার
সুমন: ভারতে শাস্ত্রীয় সংগীত প্রায় কয়েক হাজার বছরের একটা শিল্প মাধ্যম। ভারতীয় না হয়েও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত নিয়ে তোমার অধ্যয়ন, চর্চা এবং অভ্যাস কীভাবে তোমাকে প্রভাবিত করল?
ইয়াসোনাস: ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত আমার জীবনে খুবই অপ্রত্যাশিত এবং খানিকটা রহস্যময় উপায়েই প্রবেশ করেছে। আমার বয়স যখন ষোল, তখন দক্ষিণ ক্রিটের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে জীবনে প্রথমবার সেতার শুনেছিলাম। যন্ত্রটির শব্দ, আকৃতি ও এর ভায়েব্রেশন আমাকে চমকে দিয়েছিল, যা আমার পূর্ব অভিজ্ঞতার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
আঠেরো বছর বয়সে, রবিশংকরের অ্যালবাম শুনতে শুরু করি। তাঁর সেতারের প্রতি শ্রদ্ধা আর যন্ত্রটার শব্দ আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। চুম্বকের মতো, প্রায় ঐশ্বরিক এক অনুভূতি হয়েছিল। উনিশ বছর বয়স থেকে প্রতি রাতে কয়েক মাস ধরে সেতার নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। মনে হচ্ছিল যন্ত্রটা যেন আমাকে অন্য একটা ডাইমেনশন থেকে ডাকছে।
তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম বাকি জীবনটা আমি সেতারের জন্যই উৎসর্গ করব। জীবনের প্রথম সেতার কিনে দক্ষিণ গ্রিসের প্রত্যন্ত এক দ্বীপে চলে আসি। ছয় মাস ধরে, আমি আর আমার সেতার – স্বপ্ন বুনছিলাম। একটু একটু করে আমাদের বন্ধুত্ব হচ্ছিল আর অদ্ভুত একটা শক্তি আবিষ্কার করছিলাম।
এর পরপরই, পকেটে মাত্র ১০ ইউরো আর আমার সেতার নিয়ে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করি। ১৫ দিনের সেই ভ্রমণের লক্ষ্য ছিল সেতার শেখার জন্য ভারতে পৌঁছানো। তুরস্ক, ইরান ও লেবানন ভ্রমণ করেছি সেই সুবাদে – রাস্তায়, বিভিন্ন উৎসবে আমার মিউজিক পরিবেশন করেছি। সুফি ও দরবেশ সম্প্রদায়ের সঙ্গে থেকেছি, একে অপরের মিউজিক ভাগ করে নিয়েছি, এমনকি ইরানি সংগীতজ্ঞদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। সেতারের মতো ইরানি বাদ্যযন্ত্র নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি বেশ কিছুদিন। যদিও আমি তখন ভারতে পৌঁছাতে পারিনি, কিন্তু পুরো জার্নিটা আমাকে আমূল বদলে দিয়েছিল।
আড়াই বছর পর, তুরস্কে ফিরে কোনিয়ায় মিস্টিক মিউজিক ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করি; যেখানে ভারত, ইরান ও পাকিস্তানের মহান উস্তাদদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। উস্তাদ জাকির হুসেন এবং উস্তাদ আশিস খানের সান্নিধ্য পাই। আশিস খানের সঙ্গে আমার মিউজিক নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলি এবং তাঁকে ভারতে একজন সেতার শিক্ষকের সন্ধান দিতে বলি। তিনিই তখন উদ্যোগ নিয়ে তাঁর বোন আমিনা পেরেরার (উস্তাদ আলি আকবর খানের মেয়ে) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
এরপর আমি কলকাতায় চলে আসি। আমিনা পেরেরা আমার গুরুমা হয়ে ওঠেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন তাঁর কাছে তালিম নিতাম, দিনে ছয় থেকে দশ ঘণ্টা প্র্যাকটিস চলত। আমার মনে আছে ভারতে যাওয়ার প্রথম বছরে, এমনও দিন গেছে যখন আমি রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করতাম, তারপর সকালে গুরুমার সঙ্গে ক্লাসে যোগ দিতাম এবং পরে কলকাতার আশেপাশের পাবলিক প্লেসে জ্যাম করতাম। আমার পুরো জীবন সেতারকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছিল।
অনেক পরে, আমি জানতে পারি, মা গর্ভবতী থাকাকালীন প্রায়শই রবিশংকর শুনতেন। এখন আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে সেই মিউজিক্যাল ভাইব্রেশন জন্মের আগেই আমার অস্তিত্বে প্রবেশ করেছিল। তাই আজ হয়তো ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতই আমার প্রাণ। সেতারেই নিজেকে সঁপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রথমবার শান্তিনিকেতন যাওয়ার পর এক বাউল পরিবারের সঙ্গে ছিলাম। তখনই বিশ্বভারতীর পরিবেশ, চারপাশের প্রকৃতি এবং সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথ ও লালন ফকিরের দর্শনের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
‘অ্যাস্ট্রিস’ অ্যালবামে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা
সুমন: তুমি উস্তাদ আলি আকবর খানের মেয়ে আমিনা পেরেরার কাছে পড়াশোনা এবং সেতারে নিজেকে নিবেদিত করার কথা বললে। পরে, তুমি এসরাজও শিখতে শুরু করেছ। এই সময় শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে সংগীত নিয়ে পড়তে এলে। পড়াশোনা এবং অনুশীলনের সেই শুরুর দিনগুলো কেমন ছিল? শান্তিনিকেতনের পরিবেশ এবং রবীন্দ্রনাথের গান কতটা প্রভাবিত করেছে তোমায়?
ইয়াসোনাস: আমিনা পেরেরার কাছে শেখার সময় আমি প্রথমবার শান্তিনিকেতনের কলা ভবনে একটা কনসার্ট করি। এর আগে, গ্রিসে থাকাকালীন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রিক ভাষায় অনূদিত বই পড়েছিলাম। তাই শান্তিনিকেতনে পৌঁছানোর অনুভূতি স্বপ্নের মতোই ছিল কিছুটা।
প্রথমবার শান্তিনিকেতন যাওয়ার পর এক বাউল পরিবারের সঙ্গে ছিলাম। তখনই বিশ্বভারতীর পরিবেশ, চারপাশের প্রকৃতি এবং সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথ ও লালন ফকিরের দর্শনের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। তখনই আমার কাছে শান্তিনিকেতন বসবাস, অধ্যয়ন ও সংগীত অনুশীলনের জন্য একটা ইউটোপিয়ান জায়গার মতো হয়ে উঠেছিল।
আমার গুরুমা আমিনা পেরেরার সহায়তায় আইসিসিআর (ICCR) স্কলারশিপ পেয়ে বিশ্বভারতীর সংগীত ভবনে তিন বছর সেতার নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাই। সেই সময় প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার কলকাতায় গুরুমার সেতার ক্লাসে যেতাম।
তাঁর মৃত্যুর পর, পণ্ডিত দেবীপ্রসাদ চ্যাটার্জির অধীনে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাই। সংগীত ভবনে থাকাকালীন, দ্বিতীয় বাদ্যযন্ত্র হিসেবে এসরাজ শেখা শুরু করি। এসরাজও খুব রহস্যময় বাদ্যযন্ত্র, যেটা আমায় ভিন্ন ভাবে স্পর্শ করেছিল। এখনও আমি সেতার ও এসরাজ – দুটোই একসঙ্গে প্র্যাক্টিস করে যাচ্ছি।
সুমন: তুমি কলকাতাতেও থেকেছ প্রায় একবছর। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোন সেরা জিনিসটা নিয়ে তুমি নিজের দেশে ফিরলে, যা তোমার পরবর্তী প্রজন্মকেও শেখাতে চাও?
ইয়াসোনাস: প্রায় চার বছর আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক উপহার পেয়েছি। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান মানবিক আর আধ্যাত্মিক জিনিসগুলো। লালন ও রবীন্দ্রনাথের লেখায় পাওয়া ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীত, শেকড়ের টান ও শিল্পের গভীর দর্শন অনুভব করার চেষ্টা করেছি। সাম্যের মূল্যবোধগুলো নিজের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। ধ্রুপদী সংগীতের আধ্যাত্মিক সারাংশও আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছি—কীভাবে প্রতিটি রাগ প্রকৃতি, সময়, আবেগ এবং চিত্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত তা শিখেছি। জীবনের এই উপাদানগুলি আমৃত্যু আমার সঙ্গে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।
দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাও আছে কিছু। দক্ষিণ ক্রিটের মাটিতে বিশ্ব সংগীত ও শিল্পকলা চর্চার একটা জায়গা তৈরি করার স্বপ্ন দেখি। এমন একটা জায়গা তৈরি করব, যেখানে ভারত, ইরান ও অন্যান্য সংস্কৃতির সিনিয়ার সংগীতজ্ঞরা শিক্ষা দেবেন এবং অনুপ্রাণিত করবেন ছাত্রছাত্রীদের। সেটা এমন একটা প্রতিষ্ঠান হবে, যেখানে ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতের সংস্কৃতি এবং সেতারের শব্দ বিশ্বব্যাপী আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
সুমন: আমি দেখেছি, সারা পৃথিবী জুড়ে তুমি প্রচুর কনসার্ট করেছ। এরপর ২০১৬-তে তোমার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। গ্রাজুয়েশনের পরে তোমার সংগীতের সফর কেমন ছিল?
ইয়াসোনাস: সংগীত ভবন থেকে স্নাতক হওয়ার পর আমি মিশরে যাই। সেখানে কায়রোতে আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরির পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম একক কনসার্ট করি। সেই অভিজ্ঞতা একজন ইন্ডিপেনডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবে আমার জন্য নতুন অধ্যায় সূচনা করে।
এরপর, গ্রিসে ফিরে অনেক কনসার্ট করতে থাকি, আমার মিউজিক সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেবার সুযোগ পাই। শান্তিনিকেতনে সেতারে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য আরেকটি আইসিসিআর স্কলারশিপের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তারপরে কোভিড-১৯ মহামারী শুরু হয়, যার ফলে স্কলারশিপটা বাতিল হয়ে যায়।
লকডাউনের সময়, ‘অ্যাস্ট্রিস’ নামে একটি ১২০ মিনিটের কাজ লিখতে শুরু করি, যেটা ইয়াসি এনসেম্বলের অধীনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল। অ্যাস্ট্রিস হল একটি ওয়ার্ল্ড-ফিউশন অ্যালবাম যা ভারতীয় ধ্রুপদী, ফার্সি ধ্রুপদী, সুফি, প্রাচীন গ্রিক এবং নতুন যুগের মিউজিককে একসঙ্গে করে একটা অন্যরকম আন্তঃসাংস্কৃতিক সাংগীতিক ভাষা তৈরি করার চেষ্টা করে। সমস্ত ট্র্যাক 432 Hz-এ রেকর্ড করা হয়— যাকে আমরা “frequency of the universe” বলতে পারি।
‘অ্যাস্ট্রিস’ অ্যালবামের শুরুর অংশ
ভাবতে ভালো লাগে যে, অ্যালবামটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পেয়েছে। ছয়টি সিলভার গ্লোবাল মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, ক্লাউজিন ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে সেরা বিশ্ব অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃতি এবং সেরা গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও ভোট পেয়েছে।
এই প্রজেক্টে আমি সুরকার হিসেবে কাজ করেছি, সংগীত প্রযোজক নিকোলাস গকিনিস এবং ভারত, ইরান ও গ্রিসের বিভিন্ন সংগীতশিল্পীদের সহযোগিতা করেছি।
স্পটিফাইতে ‘অ্যাস্ট্রিস’ শুনুন: https://open.spotify.com/album/1LS4GJOuksV07qlbxbLq7b
অ্যালবামের পাশাপাশি, আমি নাচ-ভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেছি— বলা যেতে পারে এটা একটা প্রাচীন ও সমসাময়িক শৈল্পিক অভিব্যক্তির সেতুবন্ধন। তাছাড়া থিয়েটারে অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছি। মিউজিক ও ভিজ্যুয়াল গল্প বলার মাধ্যমে আপাতত জীবনটা উপভোগ করছি।
‘সি অফ ফায়ার’ আমার সর্বশেষ এবং খুবই আশাব্যঞ্জক দৃশ্যকল্প (চলচ্চিত্র) প্রকল্প। এটা একটা আন্তঃসাংস্কৃতিক নৃত্য-চলচ্চিত্র যা নাচ ছাড়াও সুফি কবিতা, সংগীত, এনশিয়েন্ট সিম্বলিজম এবং অ্যানিমেটেড মোশন আর্টকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসে।
সেতার প্র্যাক্টিস করছেন ইয়াসোনাস
সুমন: আমার শেষ প্রশ্ন, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমার সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘সি অফ ফায়ার’ (Sea of Fire by Iasonas Psarakis)-এর জন্য ক্রাউড ফান্ডিংয়ের পোস্ট আমার নজরে এল। এই প্রজেক্টটা নিয়ে বিশদে জানতে ইচ্ছা করছে।
ইয়াসোনাস: হ্যাঁ, ‘সি অফ ফায়ার’ আমার সর্বশেষ এবং খুবই আশাব্যঞ্জক দৃশ্যকল্প (চলচ্চিত্র) প্রকল্প। এটা একটা আন্তঃসাংস্কৃতিক নৃত্য-চলচ্চিত্র যা নাচ ছাড়াও সুফি কবিতা, সংগীত, এনশিয়েন্ট সিম্বলিজম এবং অ্যানিমেটেড মোশন আর্টকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসে। বলা যেতে পারে, সাংস্কৃতিক মিলন। এটি ভারত, গ্রিস, পাকিস্তান ও ইরানের শিল্পীদের একত্রিত করে – দেশের সমস্ত সীমানা অতিক্রম করে সৌন্দর্য ও চেতনার মাধ্যমে আমাদের সংযুক্ত করা ও শিল্পের শক্তির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এই ছবিতে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সুহাই আব্রো (Suhaee Abro/ My Pure Land, the official UK submission to the 90th Academy Awards- Oscars), যাঁর উপস্থিতি এই কাজটিকে জীবন্ত করে তুলেছে।
(SEE OF FIRE is deeply inspired by themes of inner transformation, mysticism, and the power of the sacred fire within us—that invisible force that drives us to rise, evolve, and create.)
মূল সাউন্ডট্র্যাকটি ভারতীয় ধ্রুপদী রাগ, ফার্সি ও সুফি সংগীতের ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। তাছাড়া এটা আমার আগের অ্যালবাম ‘অ্যাস্ট্রিস’-এর অংশ। তবে শব্দের ফিউশনের চেয়েও বেশি, এই মিউজিক ভৌগোলিক, আধ্যাত্মিক ও শৈল্পিকভাবে আমার নিজস্ব জার্নিটাকে রিফ্লেক্ট করে।
এই ভাবনাটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য, আমরা একটা ক্রাউড-ফান্ডিং প্রচার শুরু করেছি। পার্সোনাল ইনভেস্টমেন্ট ও গ্র্যান্টের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই মূল বাজেটের ৬০ শতাংশ আমরা সুরক্ষিত করতে পেরেছি। তবে কাজটা শেষ করার জন্য আরও অর্থ প্রয়োজন। এই ক্রাউড-ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আমরা পোস্ট-প্রোডাকশন শেষ করতে চাই, সবাইকে যাতে সাম্মানিক দিতে পারি এবং পৃথিবীর বিখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে যাতে ‘সি অফ ফায়ার’ দেখাতে পারি, তার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। যে বা যাঁরা ক্রাউড-ফান্ডিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন, আমাদের তরফ থেকে যৎসামান্য উপহারেরও ব্যবস্থা করেছি।
• ছবিটিতে প্রাথমিক ডিজিটাল অ্যাক্সেস
• ছবির টাইটেল কার্ড এবং IMDb-তে নাম-সহ কৃতিত্ব
• স্বাক্ষরিত অ্যালবাম ও পোস্টার
• ওরিজিনাল কনসেপ্ট আর্ট ও অপ্রকাশিত মেটেরিয়াল
• সহযোগী প্রযোজক হিসেবে কৃতিত্ব
‘সি অফ ফায়ার’-এর টিজার
‘সি অফ ফায়ার’ আসলে সিনেমার চেয়েও বেশি কিছু — এটি একটি সিনেম্যাটিক কবিতা, শিল্পের মাধ্যমে একপ্রকার নিরাময় যাত্রা (healing journey) এবং আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পুনঃসংযোগের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। একইসঙ্গে এটা আমাদের সকলের মধ্যে থাকা পবিত্র আগুনের উদযাপন, যা প্রতি মুহূর্তে আমাদের আন্দোলিত করে সংগীত মূর্ছনার সৃষ্টি হয় এবং যা হয়তো বা নানান পৌরাণিক কাহিনির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
আমি পাওয়ার অফ কমিউনিটি-তে বিশ্বাস করি। তাই বিশ্বজুড়ে সকলকে এই মনোরম যাত্রার অংশ হতে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
এই কাজের টিজার দেখতে চাইলে এবং সমর্থন জানাতে এখানে ক্লিক করুন: https://igg.me/at/seaoffire

