পূর্বপুরুষের নামে নিজেই তৈরি করতে পারবেন অরণ্য, অভিনব প্রয়াস ACT-এর

নিজেদের পূর্বপুরুষের নামে তৈরি করতে পারেন বন। জলপাইগুড়ি জেলার তিস্তা ও করতোয়া নদী সংলগ্ন বৈকুন্ঠপুর বনকে সামনে রেখে আপনার পূর্ব পুরুষের নামে তৈরি করতে পারেন সেই বন। রাজ্যের বন দপ্তরের সহযোগিতায় অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অফ ট্যুরিজম (ACT) এই অন্যরকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মৃতি’ বন। শিলিগুড়ি ছাড়াও কলকাতা, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই থেকে ১২ জনেরও বেশি প্রকৃতি প্রেমিক মানুষ এই প্রকল্পকে সফল করতে এগিয়ে এসেছেন।

জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুন্ঠপুর ফরেস্টের কথা নতুন করে বলার নেই। জলপাইগুড়ি রাজার ফরেস্ট বৈকুন্ঠপুর। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এই ফরেস্ট থেকেই একসময় সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ হয়েছিল। একসময় এই এলাকায় বহু মঠ ছিল, বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হতো। বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ উপন্যাস বৈকুন্ঠপুর ফরেস্টকে ঘিরেই লেখা হয়েছিল। বৈকুন্ঠপুরের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে তিস্তা, আর তার সঙ্গেই একসময় করতোয়া ছিল বড় নদী। কিন্তু ১৮৭৮ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে পুরো ভুগোল বদলে যায়। করতোয়া নদী তার আগের তেজ হারিয়ে ছোট নদীতে পরিনত হয়। তখন এই করতোয়ার পাশ দিয়েই ছিল ঐতিহাসিক পৌন্ড্র বর্ধন রাজ্য, এখন যা বাংলাদেশের অধীন। একসময় সেখানে প্রচুর আখ চাষ হতো, ছিল অনেক গুড় তৈরির কারখানা। এর বাইরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পড়াশোনার জন্য নালন্দার থেকেও বড় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এখানে। আর এসবকে কেন্দ্র করেই ঘিরে ছিল  বৈকুন্ঠপুরের বিরাট ঘন জঙ্গল। ১৯৬৮ সালে বড়োসড়ো বন্যা হলে বৈকুন্ঠপুর ফরেস্টই কার্যত রক্ষা করে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ির মতো শহরকে। সেই বৈকুন্ঠপুর ফরেস্টের ঘনত্ব আজ আর তেমন নেই। সেকারণেই শুরু হয়েছে ‘স্মৃতি বন’ প্রকল্প।অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন এন্ড ট্যুরিজম-এর কর্মকর্তা তথা বিশিষ্ট ভ্রমণ গবেষক রাজ বসু জানাচ্ছেন, “বন ও নদী সংরক্ষণ আজ খুব জরুরি। তাই বৈকুন্ঠপুর ফরেস্টের সঙ্গে করতোয়া নদী ঘিরে গাজলডোবার আশপাশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে স্মৃতি বন। এখনো পর্যন্ত তিনশ’টি গাছ লাগানো হয়েছে সেই প্রকল্পে। কেউ যদি একটি গাছ পিছু এক টাকা করে দান করেন এবং একশ’টি গাছের বন তৈরির উদ্যোগ নেন, তাহলে বছরে তিনি প্রদান করছেন ৩৬ হাজার টাকা। সেই টাকায় সেই গ্রাম বা বনবস্তির একজন গরিব মানুষ বিশেষ ভাবে উপকৃত হবেন। যিনি সেই বন তৈরির জন্য অর্থ প্রদান করবেন তার পূর্বপুরুষের নামেই তৈরি হবে স্মৃতি বন।”

অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অফ ট্যুরিজম থেকে সমরজিৎ রায় এই প্রকল্প দেখভাল করছেন। এ জন্য ওই সংস্থা কিছু স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে বন মিত্র কর্মী নিয়োগও শুরু করেছে। মডেলা কেয়ারটেকার স্কুলও এই কাজে বিশেষ সহযোগিতা করছে। যে সব স্থানে বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছিল, নষ্ট হতে বসেছিল প্রকৃতির ভারসাম্য, সেখানে নতুন করে সবুজ পরিবেশ তৈরির এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বন বিভাগ।

Written by