
ট্যাক্সির মধ্যে হঠাৎই কুড়িয়ে পাওয়া একটি ক্যামেরা দিয়ে তাঁর ছবি তোলা শুরু
ছবির ফ্রেম কথা বলে। সেই মুহূর্তে সেই অবস্থানে যা যা ঘটছে তার একটা ধারাবিবরণী থাকে ছবিতে। ছবি – ফটোগ্রাফ – আলোকচিত্র – স্থিরচিত্র – যা খুশি হতে পারে। আসলে শিল্পের মজা এখানেই। ঠিক যেমন কিংবদন্তি আলোকচিত্রী নিমাই ঘোষের ছবি নিয়ে খানিক গবেষণা করলে আমরা পেয়ে যাব সাদা-কালোর আশ্চর্য এক ধূসর জগৎ। কল্পনাদীপ্ত বিভাজনের নানা মাত্রার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তি ও পরিবেশের ভেতর বাস্তবোত্তীর্ণ অনির্বচনীয় এক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।
অশনি সংকেত (পরিচালকঃ সত্যজিৎ রায়)
চরিত্রের পিছনে দৌড়াচ্ছেন পরিচালক এবং চিত্রগ্রাহক
ট্যাক্সির মধ্যে হঠাৎই কুড়িয়ে পাওয়া একটি ক্যামেরা দিয়ে তাঁর ছবি তোলা শুরু। সত্যজিৎ রায়কে যিনি ফ্রেমবন্দি করে ‘আনকাট সত্যজিৎ’ হিসাবে বিশ্বের সামনে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তিনি নিমাই ঘোষ। শুধু সত্যজিৎ কেন! মৃণাল সেন, শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্তের মতো বহু গুণী মানুষের অসামান্য সব ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।
উৎপল দত্ত
একদিন হঠাৎ করেই খবর পেয়েছিলেন সত্যজিৎ রায় ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’-এর শুটিং করছেন বোলপুরে। ক্যামেরা নিয়ে চলে গেলেন নিমাই। সেটা ছিল রিহার্সাল। সত্যজিৎ রায়কে সেই প্রথম ক্যামেরাবন্দি করা।
শুটিং চলাকালীন একটি মুহূর্ত
আন্তর্জাতিক মহলে তিনি ‘রে’স লেন্সম্যান’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৩৪ সালে নিমাই ঘোষের জন্ম। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা নিমাই ঘোষ স্থিরচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ চলচ্চিত্রে। এরপর ১৯৬৯ থেকে দীর্ঘ প্রায় দু’দশক স্থিরচিত্রী হিসেবে তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রেও তিনি স্থিরচিত্র সংগ্রাহক ছিলেন।
ঘরে বাইরে (পরিচালকঃ সত্যজিৎ রায়)
রায় পরিবার
২০০৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির জুরি সদস্যও ছিলেন নিমাই ঘোষ। ২০১০ সালে তাঁকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। দীর্ঘ ২৫ বছরের চিত্রগ্রাহক জীবনে নিমাই ঘোষ ৯০ হাজারের বেশি ছবি তুলেছেন।
মৃণাল সেন

তৃপ্তি ও শম্ভু মিত্র
রামকিংকর বেইজ
দুই বছর আগে প্রয়াত হয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। আজ বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে বঙ্গদর্শন সেজে উঠল তাঁর ছবির মুহূর্তে।
___________________
ছবি সৌজন্যে- পিনাকী দে
