
রাজ্য প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দফতর কাতারে ৭ টন মাটন রপ্তানি করছে
আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মহাসমারোহে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ (FIFA World Cup Qatar 2022)। এবারের বিশ্বকাপে সরাসরি বাংলার যোগ। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা হরিণঘাটা মিট (Haringhata Meat) থেকে এবার পাঁঠার মাংস যাচ্ছে কাতারে। মাংস রপ্তানির দায়িত্বে রয়েছে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের অধীনে থাকা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’ (West Bengal Livestock Development Corporation Limited)।
এমনিতে কাতারে রেড মিটের চাহিদা প্রবল। গোটা বিশ্বজুড়ে বাংলার মাংসের নামডাক রয়েছে কয়েকবছর ধরেই। তাই ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবল খেলা দেখার পাশাপাশি দর্শকরা পেয়ে যাবেন বাংলার ব্র্যান্ড হরিণঘাটার পাঁঠার মাংস।
সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দফতর কাতারে ৭ টন মাটন রপ্তানির অর্ডার পেয়েছে। মাংস বিক্রি করে বাংলার ঘরে আসতে পারে প্রায় ১ কোটি বিদেশি মুদ্রা। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কাতারেই নয়, হরিণঘাটার মাংস এবার মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশেও সরবরাহ করা হবে। যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেই মাংস পৌঁছে যাবে বিদেশের বাজারে। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর থেকে জানা গিয়েছে, হরিণঘাটার মাংস পৌঁছে যাবে হংকং, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, ওমান, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, বাহারিনের মতো দেশে।
ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য সমগ্র বিশ্ববাসীর মতোই বাঙালির হৃদয়ও যে উতলা হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? স্পেন নাকি জার্মানি? – বাঙালির ঘরে ঘরে বেজায় তর্ক-বিতর্ক শুরু হবে এবার। আর যাঁরা সুদূর কাতারে গিয়ে সরাসরি ফিফা দেখার সুযোগ উপভোগ করবেন, ম্যাচের পাশাপাশি তাঁরা চেখে দেখার সুযোগ পাবেন বাংলার সেরা পাঁঠার মাংস। নাহ্, বিশ্বকাপ ফুটবলের ধারে কাছে নেই ভারত। যদিও কয়েক মাস আগে থেকেই কাতার বিশ্বকাপের টিকিট সংগ্রহ করতে শুরু করে দিয়েছেন অনেক ভারতীয়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ২৪ হাজার টিকিট কেটেছেন ভারতীয়রাই। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ময়দানে ভারতের খেলার সুযোগ কোনও দিন হবে কিনা, তা বলবে ভারতীয় ফুটবল টিমের ভবিষ্যৎ।
সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দফতর কাতার বিশ্বকাপে ৭ টন মাটন রপ্তানির অর্ডার পেয়েছে। মাংস বিক্রি করে বাংলার ঘরে আসতে পারে প্রায় ১ কোটি বিদেশি মুদ্রা। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কাতারেই নয়, হরিণঘাটার মাংস এবার মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশেও সরবরাহ করা হবে।

এবার কাতারে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে সরাসরি তৈরি হল বঙ্গযোগ। খেলা দেখা যেমন খিদে মেটাবে, তেমনই স্বাদে-গন্ধে হাজির হয়ে যাবে গরম পাঁঠার মাংস। জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ফার্মাস প্রোডিউসার কোম্পানি খোলা হচ্ছে। তাতে মানুষের কর্মসংস্থান অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে। কিছুদিন আগেই নদিয়ার হরিণঘাটায় রাজ্যের প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ (Swapan Debnath) সাংবাদিক বৈঠকে জানান, “প্রতিটি ব্লকে ফার্মাস প্রোডিউসার কোম্পানি খোলা হলে আগামী দিনে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে অন্যদিকে রাজ্য থেকে বিদেশের মাটিতে মাংস রপ্তানি হলে আগামী দিনে রাজ্যের সচ্ছলতাও বাড়বে অনেকটাই।”
আরও পড়ুন: ভারতীয় টেলিভিশনে প্রথমবার বিশ্বকাপ-যুদ্ধ
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের টিকিট এবং ভিসা পেলেই প্রতিযোগিতার সময় কাতারে যাওয়া যাবে না। থাকতে হবে হায়া কার্ড। এই কার্ড না থাকলে কাতারে এবং বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলিতে প্রবেশ করা যাবে না। কাতার বিশ্বকাপের সরকারি ওয়েবসাইটেই হায়া কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। মোবাইল অ্যাপেও এই কার্ড পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা। কাতার সরকারের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের মুখপাত্র জাবর হাম্মউদ বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হলেই আমরা টিকিটহীন ফুটবলপ্রেমীদের কাতারে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। ২ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা কাতারে আসতে পারবেন। বিশ্বকাপের উত্তাপ সকলেই উপভোগ করতে পারবেন।’’
