
ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক তিনি
ডাঃ কাদম্বিনী বসু গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৬১-১৯২৩), যাঁর ঝুলিতে রয়েছে একগুচ্ছ রেকর্ড। প্রথম নারী যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন। তিনি ও চন্দ্রমুখী বসু ছিলেন ব্রিটিশ অধিকৃত দেশগুলির মধ্যে প্রথম ভারতীয় নারী, যাঁরা প্রথম বি.এ পাশ করেন। ভারত উপমহাদেশের মেয়েদের মধ্যে তিনি-ই প্রথম নারী যিনি বিদেশ থেকে মেডিকেল ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক। তিনিই প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি পাশ্চাত্য চিকিৎসারীতিতে চিকিৎসা করবার অনুমতি পেয়েছিলেন। মেডিক্যাল কলেজে পড়াকালীন তিনি সে যুগে মাসে ২০ টাকা সরকারি স্কলারশিপ পেতেন। তাঁর বাড়ির ঠিকানা- ১৩এ বিধান সরণি। অতীতের কর্নওয়ালিস স্ট্রিট। সেই বাড়িটিই এবার সংস্কার করতে উদ্যোগী হলো রাজ্য হেরিটেজ কমিশন।
অতীতের কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের ঠিকানাতেই এক সময়ে বসবাস করতেন কাদম্বিনী দেবী। আবার এই বাড়িতেই জন্মেছেন সুকুমার রায়। সত্যজিৎ রায়ও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন এই বাড়িতে। এমনকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিও জড়িয়ে যে বাড়িটির সঙ্গে, এতদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল সেটি। অথচ বাংলার গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী এই বহু প্রাচীন বাড়ি।
ইতিমধ্যেই কমিশনের ‘হেরিটেজ’ তালিকাভুক্ত হয়েছে বাড়িটি। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন জানিয়েছেন, উত্তর কলকাতার বিধান সরণিতে যে বাড়িটিতে ডাক্তার কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন, সেটিকে মেরামত করা হবে। তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অতি সম্প্রতি বাড়িটিকে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাড়িটি বর্তমানে ব্রাহ্ম মিশনের হাতে রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে যে ভাবেই হোক বাড়িটির সংস্কার করা হবে।
জানা যাচ্ছে, সংস্কার করার পর সেখানে ছোটোখাটো একটা মিউজিয়াম তৈরি করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষ বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করতে এবং সেখানে যে সব বিখ্যাত মানুষ বসবাস বা আসা-যাওয়া করতেন, তাঁদের সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন।
