
পাহাড়ে বিজেপি এবং জিএনএলএফের ভোট-জোট হয়েছে এবার
পাহাড়ে বিজেপি এবং জিএনএলএফের ভোট-জোট হয়েছে এবার। আর সেই জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র পেশ করার সময় সোমবার কার্শিয়াং এসে বিতর্কের মধ্যে পড়লেন বিজেপির শীর্ষ নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।
বিজেপি জয়ী হলে "নেপালের ১১ জনজাতির " সমস্যা সমাধান করা হবে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে বৈঠক করার মাধ্যমে। এই বক্তব্যের পরপরই বিতর্কে পড়েছেন কৈলাশবাবু। তাঁর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিনয়পন্থী শাখার সভাপতি বিনয় তামাং। তিনি বলেছেন, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে পাহাড়বাসীর কাছে। কেননা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় পাহাড়ের মানুষকে কার্যত “নেপাল থেকে আসা” বলে উল্লেখ করেছেন।
ভোটের মুখে পাহাড়ের রাজনীতি এখন গরম। এই ভোটে বিনয় গোষ্ঠী জনমুক্তি মোর্চা পাহাড়ের তিন আসনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়ে লড়াই করছে। পাহাড়ের তিন আসনে আলাদাভাবে লড়াই করলেও সমতলের তরাই ও ডুয়ার্সে বিনয় তামাং গোষ্ঠী জনমুক্তি মোর্চা তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থন করছে। বিনয় তামাং বলেছেন, বিজেপি পাহাড়ের গোর্খাদের সমস্যা অতীতে কখনোই আন্তরিকভাবে বিবেচনা করেনি। এরমধ্যেই আবার কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ওই ধরনের মন্তব্য করেছেন। এর আগে পাহাড় থেকে জয়ী হওয়া বিজেপি সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়াও পাহাড়ের গোর্খাদের সমস্যা সমাধান করা হবে বলেও কোনও কাজ করেননি। তাই এবার পাহাড়, সমতল সর্বত্র বিজেপিকে রুখে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন বিনয় তামাং। অন্যদিকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার গুরুংপন্থী শাখার প্রধান বিমল গুরুংও আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, পাহাড় সমতল সর্বত্র বিজেপিকে একটি ভোটও নয়। সমতলে তাঁরা তৃণমূলকেই সমর্থন করছেন।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ের তিন আসনে সোমবার জি এন এল এফ এবং বিজেপি জোটের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র পেশ করেছেন। সেই সময় কার্শিয়াং এসে বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় আরও বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল হবে। উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা উন্নয়ন বোর্ড তৈরি হবে। আর চা শ্রমিকদের মজুরিও বাড়ছে।
কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র বক্তব্যের পাল্টা প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে তৃণমূল নেতা মদন ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি উত্তরবঙ্গের জন্য কিছু করেনি। আর করবেও না। কেন্দ্রে তো অনেক দিন বিজেপি সরকার আছে, কী করেছে তাঁরা? শুধু একটা কাজই জানে তাঁরা। তা হল, ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে এসে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করা। উত্তরবঙ্গে যা উন্নয়ন হয়েছে তা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড় থেকে সমতল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার উত্তরবঙ্গে এসে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন, উন্নয়ন কাকে বলে। চা সুন্দরী প্রকল্প নেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গে। কন্যাশ্রী থেকে রুপশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী ছাড়াও আরও বহু প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিন বঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ এক নতুন নজির। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাস্ত করতে এবার ভোটে সর্বত্র মানুষ তৃণমূলকেই আবারও বেছে নেবেন বলে মদনবাবু জানিয়েছেন।
