নতুন রূপে কলকাতার রাজপথে ফিরল হলুদ ট্যাক্সি

শহরে চালু হল ইয়েলো হেরিটেজ ক্যাবস

প্রায় কয়েক হাজার হলুদ ট্যাক্সি পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাবার খবর হয়েছিল কিছু মাস আগে। ফেব্রুয়ারির শেষ লগ্নে এল সুখবর। খানিকটা অপ্রত্যাশিতই ছিল। তাই কলকাতাবাসীদের কাছে এ-খবর উচ্ছ্বাসের। নতুন রূপে ফিরে আসছে কলকাতার ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলুদ ট্যাক্সি। রং এক থাকলেও বদলে যাচ্ছে চেহারা। একটি বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব সংস্থা চালু করল সেই ঐতিহ্যের হলুদ ট্যাক্সি, কিন্তু নতুন রূপে। নাম দেওয়া হয়েছে ইয়েলো হেরিটেজ ক্যাবস (Yellow Heritage Cabs)। পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এরকম কুড়িটি হেরিটেজ ক্যাবের উদ্বোধন করলেন।

মোট চারটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে একটি হল এনএ মোবিলিটি প্রাইভেট লিমিটেড (NA Mobility Private Limited)। হিন্দুস্তান মোটর্স বন্ধ করে দেয় অ্যাম্বাসেডর গাড়ির উৎপাদন, তাই এনএ মোবিলিটি প্রাইভেট লিমিটেড চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মারুতি সংস্থার সঙ্গে৷ এই সংস্থার উৎপাদিত ওয়্যাগন আর মডেলের গাড়িটিকে অতি পরিচিত হলুদ রং দিয়ে পথে নামানো হচ্ছে। নতুন এই হলুদ ট্যাক্সির দুদিকেই রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ, শহিদ মিনারের মতো কিছু হেরিটেজ ছবি। জানা গিয়েছে, আপাতত কুড়িটি নতুন হলুদ ট্যাক্সি রাস্তায় নামলেও ধীরে ধীরে ৩,০০০ ট্যাক্সি আসতে চলেছে রাজপথে। গাড়িগুলি চলবে পেট্রোল ও সিএনজি-তে।

হিন্দুস্তান মোটর্স বন্ধ করে দেয় অ্যাম্বাসেডর গাড়ির উৎপাদন, তাই এনএ মোবিলিটি প্রাইভেট লিমিটেড চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মারুতি সংস্থার সঙ্গে৷ এই সংস্থার উৎপাদিত ওয়্যাগন আর মডেলের গাড়িটিকে অতি পরিচিত হলুদ রং দিয়ে পথে নামানো হচ্ছে।

নতুন মডেলের হলুদ ট্যাক্সি

অতি প্রাচীন প্রায় কয়েক হাজার হলুদ ট্যাক্সি ব্যবহারের প্রায় অনোপযোগী হয়ে উঠেছিল। বাড়ছিল দূষণ। তাই চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল ট্যাক্সিওয়ালাদের কপালে। হলুদ ট্যাক্সির সঙ্গে কলকাতাবাসীর সম্পর্কের ইতিহাস একশো বছরের পুরোনো। আবেগ বজায় রাখতেই রাজ্য সরকারের এহেন উদ্যোগ। আপাতত রাজ্য সরকারের যাত্রী সাথী অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা যাবে এই হেরিটেজ ইয়েলো ক্যাব। উল্লেখ্য, যে ট্যাক্সিগুলি বাতিল হয়ে গিয়েছে, সেই চালকরা যাতে আবার এই ট্যাক্সিগুলি চালাতে পারেন সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ট্যাক্সি বাতিল হলেও চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন না।

গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের সব দায়িত্ব সংস্থার। তবে গাড়ির জ্বালানি এবং রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে চালকদের একটা মূল্য তুলে দিতে হবে সংস্থার হাতে ৷ চালকদের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা দেবে এই সংস্থা। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করবে।

পুরোনো মডেলের হলুদ ট্যাক্সি

নতুন এই হলুদ ট্যাক্সির দুদিকেই রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ, শহিদ মিনারের মতো কিছু হেরিটেজ ছবি। জানা গিয়েছে, আপাতত কুড়িটি নতুন হলুদ ট্যাক্সি রাস্তায় নামলেও ধীরে ধীরে ৩০০০ ট্যাক্সি আসতে চলেছে রাজপথে।

হলুদ ট্যাক্সি কলকাতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার। ১৯০৯ সালে এই শহরে প্রথম ট্যাক্সি আসে। বর্তমানে যেখানে এখন ফ্র্যাঙ্ক রস কোম্পানির ওষুধের দোকান রয়েছে চৌরঙ্গী রোডে, সেখানেই ছিল ফরাসি শেভিজাঁ কোম্পানির অফিস। তারাই কলকাতার পথে প্রথম ট্যাক্সি চালু করে। তখন চৌরঙ্গী থেকে মিটারওয়ালা দেওয়া গাড়ি পৌঁছে যেত দমদম, ব্যারাকপুর, বজবজ। তবে পরিবেশের দিকে নজর দিতে গিয়ে ১৫ বছরের বেশি পুরোনো প্রায় ২,৫০০ ট্যাক্সিকে রাস্তায় নামার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল সরকারি তরফে। নতুন রূপে ফের রাজপথে হলুদ ট্যাক্সি নামায় খুশি শহরের সাধারণ মানুষ।

Post Tags
Developed by DXDasia