‘দ্য লাস্ট প্রিন্স অফ বেঙ্গল’ : প্রপৌত্রীর কলমে বাংলার শেষ নবাবের অপ্রকাশিত সত্যি

মুর্শিদাবাদের প্রাসাদ থেকে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার কাহিনি

অধ্যাপক তথা লেখিকা লিন ইনেজ়

বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের বংশজ আপনি, এই ব্যাপারটা কেমন ভাবে দেখেন ?

বাংলার শেষ নবাবের বংশধর, এ গরিমা যেমন তিনি জন্মসূত্রে পেয়েছেন, তেমনই তাঁকে সম্মুখীন হতে হয়েছে এই প্রশ্নেরও। কিন্তু, সামান্যতম বিব্রত না হয়েই তিনি উত্তর দেন, “গর্ব বা লজ্জা, আমার কোনও অনুভূতিই নেই এ ব্যাপারে। তবে, হ্যাঁ এর জন্য আমি ভারতীয়দের সঙ্গে জড়িয়ে আছি, এটা আমাকে আনন্দ দেয়।” এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট-এ উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক তথা বাংলার শেষ নবাব মনসুর আলি খানের প্রপৌত্রী লিন ইনেজ়।

লিন বড় হয়েছেন যখন অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন নীতি কার্যকর ছিল এবং ভারতীয়দের অস্ট্রেলিয়ায় থাকার কথা ছিল না। ফলস্বরূপ, তাঁর মা খুব কমই ভারতের হেরিটেজ সম্পর্কে কথা বলতেন এবং তাঁদেরও এ বিষয়ে কথা বলতে দিতেন না। তাই তাঁর কাছে ব্যাপারটা খুব গোপন, কিছুটা নিন্দনীয়ও ছিল।

লিনের প্রমাতামহ মনসুর আলি খান ছিলেন বাংলা, বিহার, ওড়িশার নবম নবাব। পলাশির যুদ্ধে ক্লাইভের সাহায্যে সিরাজ-উদ-দৌল্লাকে হারিয়ে সিংহাসনে বসেছিলেন মিরজাফর। তাঁরই বংশধর মনসুর। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের তিন গুণ আয়তনের এই রাজত্বের শেষ শাসক ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত লিনের বই ‘দ্য লাস্ট প্রিন্স অব বেঙ্গল’-এ তাঁদের পরিবারের মুর্শিদাবাদের প্রাসাদ থেকে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার কাহিনিই আছে।

ক্ষমতা ও ভাতা কমিয়ে দেওয়ার পর, ১৮৬৫-তে নবাব দুই ছেলেকে নিয়ে রানি ভিক্টোরিয়ার কাছে দরবার করতে ইংল্যান্ডে যান। জমকালো জোব্বা, মাথায় পাগড়ি— অভিজাত চেহারার মনসুর অল্প দিনেই ব্রিটেনের অভিজাততম গোষ্ঠীগুলোর নিয়মিত মুখ হয়ে উঠলেন। তারই মধ্যে প্রেমে পড়লেন এক হোটেল পরিচারিকার। তাঁর নাম ভেনেল। বিয়ে করলেন তাঁকে— নাম দিলেন সারা বেগম। ও দিকে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁর পদমর্যাদা বাংলার নবাব-নাজিম থেকে ছেঁটে করে দিল শুধু মুর্শিদাবাদের নবাব। ভারতে ফিরে মারা যান তিনি। সারা বেগম লন্ডনে থাকতেন। তাঁদের ছেলে নুসরত আলি মির্জ়া অক্সফোর্ডে পড়তেন। তিনিই লিনের দাদু। মুর্শিদাবাদের প্রাসাদে মনসুরের বিখ্যাত পোর্ট্রেট চাক্ষুষ করেছেন লিন। বাংলার নবাবের বংশজরা কী ভাবে অস্ট্রেলিয়ার মেষপালক হয়ে গেলেন সেই কাহিনি তো রয়েছেই, এছাড়া জাতি, শ্রেণী এবং লিঙ্গ সংক্রান্ত জটিল কুসংস্কারকে উন্মোচন করে প্রকাশিত হয়েছে লিনের আশ্চর্য ‘সত্যি’ কাহিনির এই বই।

তথ্যসূত্রঃ newsclick

আনন্দবাজার পত্রিকা

 

Developed by DXDasia