সুচিত্রা মিত্রের গানে ‘একলা চলা’র প্রেরণা পেতেন ইন্দিরা গান্ধি

আজ সুচিত্রা মিত্রের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী

সুচিত্রা মিত্রের জন্ম হয়েছিল চলন্ত ট্রেনে, বিহারের গুজন্ডি স্টেশনের কাছে। তাঁর ডাক নাম ‘গজু’। বাবা সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক। রবীন্দ্রনাথের অন্তরঙ্গ। বাড়িতে নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা হত। অল্প বয়স থেকেই রবীন্দ্রসংগীত শিখতে শুরু করেন সুচিত্রা। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে শান্তিনিকেতনের সংগীতভবন থেকে বৃত্তি অর্জন করেন। সেই বৃত্তি পেয়ে যখন শান্তিনিকেতনে পৌঁছন, মাত্র কয়েকদিন আগে প্রয়াত হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। 

রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও অতুলপ্রসাদের গান, হিন্দি ভজন, আধুনিক বাংলা গানে পারদর্শিতা ছিল সুচিত্রার। সেতার, তবলার মতো বেশ কিছু বাদ্যযন্ত্র শিখেছিলেন। শিখেছেন নাচও। আর অভিনয়ের দক্ষতা ছিল অল্প বয়স থেকেই। অভিনয় করেছেন একাধিক নাটকে ও চলচ্চিত্রে। তবে রবীন্দ্রসংগীতের কণ্ঠশিল্পী এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবেই তিনি খ্যাতির শীর্ষে উঠেছেন। সামলেছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব। 

তরুণ বয়স থেকে তাঁর ছিল রাজনীতির প্রতি ঝোঁক। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিপ্লবীদের মুক্তির দাবিতে তিনি পতাকা হাতে মিছিলে হেঁটেছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়ে পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন। টিয়ার গ্যাস সহ্য করে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন। ভারতীয় গণনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীর্ঘদিন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাঁর অবদান কেউ ভুলবে না। 

আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি বলেছিলেন, “সুচিত্রার কন্ঠে ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলরে’ শুনে আমি একলা চলার প্রেরণা পাই”।

ভারত সরকার পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করেছিল সুচিত্রা মিত্রকে। এছাড়াও তিনি পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। কলকাতার প্রথম মহিলা শেরিফের পদ তিনি অলংকৃত করেছেন। 

তথ্যঋণ – দেবাশিস ভট্টাচার্য, আশীষ চক্রবর্তী। 
 
 

Developed by DXDasia