পঞ্চমদার নয়া ঠিকানা ‘সংগীত সরণি’

দেব বর্মন বাড়িতে গড়ে উঠবে মিউজিয়াম

একশো বছরের জন্মজয়ন্তী পার করেও বাঙালি তো বটেই, গোটা উপমহাদেশের সংগীতপিপাসু মানুষদের হৃদয়ে এখনও স্বমহিমায় জায়গা করে আছেন শচীন দেব বর্মন। বাংলা হোক বা বলিউড, রেডিও হোক বা সিনেমা, একই সঙ্গে গায়ক, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, লোকসংগীত শিল্পী শচীন কর্তা যেন একটা যুগ। এবং যুগ হয়েও যুগোত্তীর্ণ। ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মাণিক্য রাজপরিবারের সন্তান তিনি। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেব বর্মন ছিলেন সেতারবাদক এবং ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী। স্ত্রী মীরা দেব বর্মনও সুরকার এবং সংগীতশিল্পী হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে উঠেছিলেন। আর ছেলে রাহুল দেব বর্মন তো গানের জগতে কিংবদন্তি।

দক্ষিণ কলকাতার সাউথ এন্ড পার্কে একসময়ে বাস করতেন শচীন দেব বর্মন। গড়িয়াহাট গোলপার্ক থেকে পঞ্চাননতলার দিকে হাঁটলে ডান দিকে পড়বে এই রাস্তা। একটু এগোলেই দেখা যাবে দেব বর্মন পরিবারের বাড়ি, ৩৬/১, সাউথ এন্ড পার্ক যার ঠিকানা। ১৯৪৪ সালে জমি কিনে এই বাড়িটি তৈরি করানো শুরু করেছিলেন শচীনকর্তা। তার আগে পরিবারকে নিয়ে হিন্দুস্তান রোডে ভাড়া থাকতেন তিনি। ১৯৪৮ সালে নতুন বাড়িতে গিয়ে উঠলেন সবাই মিলে। 

রাহুল দেব বর্মনের তখন ডাক নাম ছিল টুবলু। শচীন ও মীরা যখন মুম্বাই চলে গেলেন, রাহুল দেব বর্মন এই বাড়িতে থাকতেন দিদিমাকে নিয়ে। এখানেই তাঁর স্কুলজীবন। তারপর বোম্বে পাড়ি। মাঝেমাঝে পঞ্চম যখন কলকাতায় আসতেন, এই বাড়িতেই থাকতেন। কত বিখ্যাত গান বাঁধা হয়েছে এই বাড়িটায়। এখানে পা রেখেছেন উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, গুরু দত্ত, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো কত বরেণ্য মানুষ। পরে সেই বাড়ি রাহুল দেব বর্মন বিক্রি করে দেন।

সাউথ এন্ড পার্ক এবার থেকে পরিচিত হল ‘সংগীত সরণী’ নামে। পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের সভাপতি শুভাপ্রসন্ন, কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম উপস্থিত থাকবেন নামকরণ অনুষ্ঠানে। সংবাদ মাধ্যমকে শুভাপ্রসন্ন জানান, “ভারতের যত কিংবদন্তি সংগীতিশিল্পী এখানে বসবাস করেছেন এবং এসেছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য। রাহুল দেব বর্মন তো বটে, আরতি মুখোপাধ্যায়ও থাকতেন এই পাড়ায়। অল্প সময়ের জন্য সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ও থেকেছেন।”

দেব বর্মন বাড়ির বর্তমান মালিকের সঙ্গে কথা বলে সেখানে এক মিউজিয়াম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। একটি নীল ফলক লাগানো হবে বাড়ির সামনে। বাড়িটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখা থাকবে তাতে। 
 

Post Tags
Developed by DXDasia