জেলখানায় বন্দি অবস্থায় প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসটি লিখেছিলেন সমরেশ বসু

আজ সমরেশ বসুর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

সমরেশ বসুর সৃষ্টি ছিল বহুমুখী। রাজনৈতিক মতাদর্শের সংকট, শ্রমজীবীদের যন্ত্রণা এবং লড়াই, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রেম, আকর্ষণ, যৌনতা – নানারকম টানাপোড়েন তিনি সাবলীলভাবে তুলে এনেছেন নিজের লেখায়। ব্যক্তিগত জীবনে এক সময়ে প্রবল দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করেছেন, আবার সাহিত্যকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে পৌঁছেছেন খ্যাতির শীর্ষে। আজ সমরেশ বসুর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। 

সমরেশ জন্মেছিলেন বিক্রমপুরে। নৈহাটিতে তাঁর জীবনের একটা বড়ো অংশ কেটেছিল। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি এক সময়ে মাথায় ফেরি করে ডিম বিক্রি করতেন, ইছাপুর গান ফ্যাক্টরিতে কাজ করেছেন। ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির লড়াকু সদস্য, যোগ দিয়েছিলেন শ্রমিক আন্দোলনে। ১৯৪৮ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বেআইনি ঘোষিত হয়, পার্টির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার জন্য সমরেশ বসুকে কারাবন্দি করা হয় ১৯৪৯ সালে। প্রায় বছরখানেক জেলখানায় ছিলেন তিনি। জেলখানাতে বসেই তিনি লিখেছিলেন ‘উত্তরঙ্গ’, যা তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এর আগে অবশ্য ‘নয়নপুরের মাটি’ উপন্যাসটি লিখেছিলেন তিনি, তবে সেই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে পরে।

জেল থেকে বেরিয়ে তিনি পেশাদার লেখক হিসেবে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। লিখে ফেলেন ‘গঙ্গা, ‘প্রজাপতি’, ‘দেখি নাই ফিরে’, ‘বিটি রোডের ধারে’-র মতো বিখ্যাত সব উপন্যাস। ছোটোগল্পেও তিনি শৈল্পিক নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। শিশু-কিশোরদের জন্য ‘গোগোল’ চরিত্রটি নিয়ে বেশ কিছু ছোটোগল্প ও উপন্যাস লিখেছেন। ‘কালকূট’, এবং ‘ভ্রমর’ দুটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন তিনি। ‘কালকূট’ নামে লেখা ‘শাম্ব’ উপন্যাসের জন্য সমরেশ বসু সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন ১৯৮০ সালে। ১৯৮৮ সালের ১২ মার্চ তিনি প্রয়াত হন। কালজয়ী সাহিত্যিক সমরেশ বসুর প্রতি রইল বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধা। 

তথ্যঋণ – সৌম্য মাইতি, প্রিন্স গুপ্তা।

Developed by DXDasia