
৬০ বছর পূর্ণ করল শংকরের ‘চৌরঙ্গী’ আর এবছরই ঘোষিত হল আকাদেমি সম্মান
মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, আপামর পাঠকদের কাছে তিনি শংকর নামেই পরিচিত। তাঁর কলমেই সৃষ্ট হয়েছে স্যাটা বোস, মার্কো পোলো, মিসেস পাকড়াশি, সুজাতা মিত্ররা। এবছর তাঁর হাতেই যাচ্ছে সাহিত্য আকাদেমি। আজই ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি’র এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক থেকে ঘোষণা করা হয় শংকরের নাম।
শংকরের জন্ম বাংলাদেশের যশোরে হলেও বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগেই চলে আসেন পশ্চিম বাংলার হাওড়ায়। এই শহরেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং লেখালেখির শুরু। যুবকবয়স খুব একটা সুখের ছিল না। আজীবন লিখতে চাওয়া এই মানুষটি কখনও ফেরি করেছেন, টাইপ-রাইটার ক্লিনারের কাজ করেছেন, প্রাইভেট টিউশানি করেছেন, আবার কখনও জুট ব্রোকারের কেরানিগিরিও করেছেন। তারপরেই শংকরের সঙ্গে আলাপ হয় এক ইংরেজের। যাঁর অনুপ্রেরণায় শুরু করেন লেখালেখি।
২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘একা একা একাশি’ গ্রন্থের জন্য তাঁকে সাহিত্য আকাদেমি দেওয়া হচ্ছে। শংকরকে আমরা আজীবন মনে রাখব ‘জন অরণ্য’, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘কত অজানারে’, ‘স্থানীয় সংবাদ’, কিংবা ‘চৌরঙ্গী’র জন্য। ‘চৌরঙ্গী’ উপন্যাসের জন্য তিনি অমর। এখনও এই শহরে স্যাটা বোস যে কোনো তরুণের কাছেই বড়দার মতো। সাহিত্যমহলে বলা হয়, গত ৬০ বছর তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে ৬০ বছর পূর্ণ করল শংকরের ‘চৌরঙ্গী’ আর এবছরই ঘোষিত হল আকাদেমি সম্মান। এই পুরস্কারপ্রাপ্তিতে গর্বিত বাংলার লেখক ও পাঠক।
