রাস্তায় হঠাৎ রিভলবার চাইলেন স্কুলপড়ুয়া ক্ষুদিরাম, চমকে গেলেন বিপ্লবী হেমচন্দ্র

আজ ক্ষুদিরাম বসুর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী

ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন পড়াশোনায় মেধাবী, তারই সঙ্গে দুরন্ত এবং দুঃসাহসী। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তিনি স্কুল ছেড়ে বিপ্লবী দলে যোগ দেন। সেই থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফাঁসির ঘোষণা শুনে ভয় পাননি, বরং এক স্মিত হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল তাঁর মুখ।

মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুরে ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর। খুব অল্প বয়সেই বাবা-মায়ের প্রয়াণ ঘটে, তাই দিদির কাছেই বেড়ে উঠছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছিলেন গ্রামের স্কুলে, সেখানে পড়াশোনা শেষ করে তমলুকের হ্যামিল্টন স্কুল এবং তারপর মেদিনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। স্কুল জীবন থেকে তিনি মানসিকভাবে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। তাঁর যখন ১৩-১৪ বছর বয়স, মেদিনীপুরের রাস্তায় যাচ্ছিলেন অরবিন্দ ঘোষের সহযোগী বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগো। হঠাৎ তাঁকে আটকালেন ক্ষুদিরাম, আবদার করলেন, একটা রিভলবার দিতে হবে। অচেনা এক বাচ্চা ছেলের মুখে এই কথা শুনে চমকে গিয়েছিলেন হেমচন্দ্র। এদিকে ক্ষুদিরাম বলে যাচ্ছেন, ব্রিটিশরা খুব অত্যাচারী, রিভলভার দিয়ে তিনি ইংরেজদের খুন করবেন। তখনকার মতো ক্ষুদিরামকে ধমক দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন হেমচন্দ্র। তবে পাকা জহুরির মতো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই ছেলের মধ্যে আগুন আছে। 

পরে হেমচন্দ্রের গুপ্ত সমিতিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম। সেই সংগঠনেরই আরেক কর্মকর্তা বিপ্লবী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নির্দেশে মেদিনীপুরের কৃষি-শিল্প প্রদর্শনীর সামনে ব্রিটিশ-বিরোধী ইশতেহার বিলি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। যদিও, সেবার পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে আরেকবারও তাঁকে পুলিশ ধরে, বিচারে অল্প সাজাও হয়। একের পর এক দুঃসাহসী কাছে অংশ নিয়ে বিপ্লবীদের আস্থা জয় করে নিয়েছিলেন তরুণ ক্ষুদিরাম।

কলকাতা প্রেসিডেন্সির চিফ ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর কঠোর সাজা দিয়েছিলেন ডগলাস কিংসফোর্ড। যুগান্তরের বিপ্লবীরা তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে মারার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীকে। কিংসফোর্ড তখন বদলি হয়ে বিহারের মুজাফফরপুরের সেশন জাজের পদে কর্মরত। সেখানেই রওনা দিলেন দুই বিপ্লবী। কিংসফোর্ডের গতিবিধির ওপর নজর রাখা শুরু করলেন। ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে কিংসফোর্ডের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। গাড়ি পৌঁছল, তাঁরা বোমা মারলেন, কিন্তু সেই গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না। নিহত হলেন অন্য দুই মহিলা – মিসেস এবং মিস কেনেডি।

এই ঘটনার পর ক্ষুদিরাম এবং প্রফুল্ল চাকী পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওয়াইনি রেল স্টেশনে ধরা পড়েন ক্ষুদিরাম। আর মোকামাঘাট রেল স্টেশনে পুলিশ যখন প্রফুল্ল চাকীকে পাকড়াও করতে যায়, প্রফুল্ল নিজের রিভলবারের সাহায্যে আত্মহত্যা করেন। ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ক্ষুদিরামের ফাঁসি দেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকার। 

_______

তথ্যঋণ: মোনেম আহমেদ, শৈলেশ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

Developed by DXDasia