
বইচিত্র সভাঘরে দিগন্ত চক্রবর্তীর একক প্রদর্শন
বইপাড়া কলেজ স্ট্রিট চত্বর। কলকাতা তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গের সৃজনশীল-মননশীল লোকেদের তীর্থস্থান। এখানেই ইন্ডিয়ান কফি হাউজের তিনতলায় বইচিত্র সভাঘরে গত ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার আয়োজিত হয়েছিল এক তরুণ ছবি আঁকিয়ের একক প্রদর্শন। কোনো নাম ছিল না সেই প্রদর্শনের, এত বিচিত্র বিষয়ের সমাবেশ ছিল সেখানকার ছবিগুলোতে যে শিল্পী চাননি কোনো নাম দিয়ে আয়োজনের ফ্লেভারটাকে সীমিত করতে। বছর আঠাশের যুবক দিগন্ত চক্রবর্তীর আলাদা করে ছবি আঁকার প্রথাগত শিক্ষা খুবই কম, তাঁর পরিবারের মধ্যেই পেইন্টিং-এর আবহাওয়া অনুপ্রাণিত করেছিল ছবিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে। বাবা দীপেন্দু চক্রবর্তী, কাকা উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর মতো মানুষেরা বাড়িতে সবসময়েই শিল্প-সাহিত্য চর্চার একটা বাতাবরণ তৈরি করে রাখেন। চণ্ডীগড়ের ‘প্রাচীন কলা কেন্দ্র’ থেকে ছবি আঁকা নিয়ে পাঁচ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পূর্ণ করেছেন দিগন্ত। এখন ছবি আঁকাই তাঁর জীবনে মূল অবলম্বন।

নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে মূলত তিনি ব্যবহার করেন পেন আর পেনসিলের স্কেচিং, জল রং আর অ্যাক্রেলিক। নিজের বাড়িতে ব্ল্যাকবোর্ডেও ছবির অনুশীলন করে থাকেন তিনি। স্কেচ পেন দিয়ে ছবি আঁকতে তাঁর ভারি পছন্দ। ভারতীয় সংস্কৃতির ধ্রুপদী বিষয়গুলিই সাধারণত ফুটে ওঠে তাঁর ছবিতে, তবে সমকালীন রুচি অনুযায়ী পরীক্ষানিরীক্ষাতেও তিনি সাবলীল। এই প্রদর্শনেই দেখা গেল যেমন রয়েছে দুর্গা কিংবা বুদ্ধের রঙিন প্রতিরূপ, তার মধ্যে রয়েছে বিমূর্ত শিল্পের ছোঁয়াও। তবে দিগন্তের বেশিরভাগ ছবিই পোট্রেট। ইউরোপে উনিশ শতকের একেবারে শেষে এক্সপ্রেশনিজম নামের এক শিল্প আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। এক্সপ্রেশনিস্ট ছবিতে সেভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল রূপের প্রচলিত কাঠামোকে, তার সঙ্গে খানিকটা মিল আছে দিগন্তের ছবির। তবে দিগন্তের এই স্টাইল একান্তই স্বকীয়, পাশ্চাত্যের কোনো নকলনবিশি নেই তাতে। তবে পাশ্চাত্য তাঁর ছবিতে একেবারেই ব্রাত্য নয়। তাই ক্রুশবিদ্ধ যিশু ক্যানভাসে সেজে উঠেছে নতুনভাবে। প্রদর্শনের বেশিরভাগ ছবিই স্কেচ পেনে আঁকা, কিছু নিসর্গদৃশ্য আছে জল রং-এ।

প্রদর্শনের উদ্বোধন করেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী সমীর আইচ। খ্যাতনামা এই শিল্পীর থেকে নানাভাবে পথনির্দেশ পেয়েছেন তরুণ দিগন্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আঁকা শেখার একটি টেকনিক্যাল দিকের কথা। এখন যারা পেইন্টিং-এর শিক্ষানবিশ, অনেকেই কম্পিউটার বা মোবাইলে ইন্টারনেটের ছবি দেখে আঁকা প্র্যাকটিস করেন। সমীর আইচ স্পষ্টই দিগন্তকে বলেছেন এই ধরনের অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে। এর পাশাপাশি নিজের আকাডেমিতে সপ্তাহে একদিন এই উঠতি শিল্পীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন সমীর আইচ।
