
ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা-জীবন এবং স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন – পর্ব ৫৫
মাইকেল মধুসূদন, রাজা রামমোহন, রাসবিহারী বসু, নেতাজি সুভাষ, মানবেন্দ্রনাথ রায়…তাপ্পর ধরুন… পার্থ বাঁড়ুজ্যে…
শেষ পর্বে একটু হাসার চেষ্টা করলাম। নাহলে সবাই বলবেন, লোকটা কি বিদেশে গিয়ে হাসি একেবারেই ভুলে গেলো নাকি? না না, তা হতে দেওয়া যায় না।
খুব হাসতাম। খুব হাসাতাম। বন্ধু, বান্ধবীদের জিজ্ঞেস করে দেখবেন। সেই ইস্কটিশ চার্চ ইসকুল থেকে বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ। তারপর সুন্দরবন হাজী দেশারত কলেজের চার বছর অজ্ঞাতবাস। হাসি, গল্প, গানের জন্যে বিখ্যাত ছিলাম বন্ধুমহলে, বান্ধবী যে দু-চারজন জুটেছিল অনেক কষ্টে তাদের মহলে, আর সহকর্মী মহলে।
সেই পার্থ বিদেশে এসে হাসি হারিয়ে ফেললো, এ কি হতে দেওয়া যায়, আপনারাই বলুন!
তাই একটু হাসলাম এই শেষ পর্বে। যারা বুঝবে, তারাও হাসবে। আর হাসির কথা যাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতে হবে, তাদের কথা ভেবেই হাসি পায়।
রেখো মা দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ ঘটে যদি পরমাদ
মধুহীন কোরো নাগো তব মনঃ-কোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে জীবতারা যদি খসে
এ দেহ আকাশ হতে
নাহি খেদ তাহে
জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে
চিরস্থির কবে নীর হায় রে জীবননদে।
মধুকবি লিখে গিয়েছিলেন শতাব্দী আগে। আমরা বাল্যবয়সে স্কুলে পড়তাম। ব্যাখ্যা লিখতাম।
সেই ধন্য নরকুলে লোকে যারে নাহি ভুলে, মনের মন্দিরে নিত্য সেবে সর্বজন।
তারপর আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইংরিজি শেখার পর, আর মার্কিনি উচ্চারণ শেখার পর গান শোনার কান তৈরি হলো। সানুনাসিক কিন্তু হৃদয়ভরা পরিশীলিত উচ্চারণে লাখো শান্তিপ্রিয়, যুদ্ধবিরোধী আমেরিকানদের কাঁপিয়ে দেওয়া পীট সীগার তাঁর বিখ্যাত ম্যান্ডোলিন আর ব্যাঞ্জো বাজিয়ে গান গাইতে এলেন সেই অলব্যানি নামক বরফ আর কুয়াশায় ছ’মাস ঢাকা ছোট্ট শহরেই।
ব্যাখ্যা আজ যা লিখতে পারি এ কবিতার, পৃথিবীর কোনো সাহিত্যবোদ্ধা সে ব্যাখ্যা লিখতে পারবে না। কারণ, আমার এখনকার এই ব্যাখ্যার সঙ্গে অনেক চোখের জল, অনেক স্বেদ রক্ত মেশানো। এর স্বাদই আলাদা।
বিদেশে আসবো, থাকবো, জীবনের প্রায় চল্লিশটা বছর কেটে যাবে – কখনো ভাবিনি। এই সেদিন রাস্তায় রাস্তায় গ্রীষ্মের ছুটির দুপুরবেলায় রবারের বল নিয়ে ফুটবল খেলে বেড়াতাম ঝাঁ ঝাঁ রোদে। এই সেদিন লাইন দিয়ে ইস্টবেঙ্গল এরিয়ান মাঠের কাঠের গ্যালারিতে বসে পরিমল দে, রামবাহাদুর, শ্যাম থাপা আর মোহন সিংয়ের জাদু দেখতাম। এই সেদিন মিনারে গুপী গায়েন বাঘা বায়েন দেখে নাচতে নাচতে বেরিয়েছিলাম। দেখো রে নয়ন মেলে জগতের বাহার।
সেইসব দিনগুলো মনে পড়ে। সকালে উঠেই আগে দেখে নেওয়া আনন্দবাজারের পাতায়। আমেরিকায় আটত্রিশ বছরে অরণ্যদেব আর ডায়ানাকে কোনো দোকানে, কাগজে, ম্যাগাজিনে খুঁজেই পেলাম না। কেউ জানেই না।
দিনের আলোয় অন্ধকার কেটে যাচ্ছিলো।
এই সেদিন দুর্গাপুজো কালীপুজোর ফেলে রাখা প্যাণ্ডেলে সারারাত গানের জলসা। প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, নির্মলা মিশ্র, আরতি মুখোপাধ্যায়, পিন্টু ভট্টাচার্য্য, অনুষ্ঠান ঘোষণায় বোরোলীনের সংসারের শ্রাবন্তী মজুমদার।
শ্রাবন্তী মজুমদারের সঙ্গে এখন কখনো সখনো হোয়াটস্যাপে কথা হয়। তিনিও আজ দূর দ্বীপবাসিনী প্রবাসিনী। হয়তো আমার এই মেরিকামায়া সাতকাহনের তীব্রতা তিনি একটু বুঝতে পারবেন।
এমন একটি ঝিনুক আর খুঁজে পেলাম না। আমেরিকার ঝিনুকে মুক্তো নেই। সব মেকী। স্বাদ নেই, গন্ধ নেই, শুধু আছে ঠাট। তার নেই কোনো কোমলতা, কোনো স্বপ্ন, কোনো অদেখা, অজানা ইঙ্গিত।
যাঁরা স্বর্গের দেবদেবী ছিলেন, তাঁদের দেখতে পেতাম দূর থেকে বছরে, দু বছরে একবার। তখন টিভি নেই। তাই কল্পনা ছিল খুব বেশি। ইডেন গার্ডেনের ছবি দেখতাম অজয় বসু, পুষ্পেন সরকারের রেডিও ধারাভাষ্যে। তাই প্রথম যেদিন বাবার হাত ধরে ইডেন গার্ডেনের ভেতরে ঢুকেছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা একদিনের টিকিটে দেখতে, মনে হচ্ছিলো এর চেয়ে বেশি স্বর্গীয় ব্যাপার আর কিছু পৃথিবীতে থাকতেই পারে না। আমাদের লোভ ছিলো না, আমাদের আমেরিকান ষড়রিপু ছিলো না। আমরা খুব ভালো ছিলাম।
তাই আমি হাসতাম সেসব দিনে। আমেরিকায় এসে পাপ গ্রাস করেছে। হাসি কেড়ে নিয়ে গেছে ইডেন গার্ডেনে চোরাগোপ্তা ঢুকে পড়া শয়তান। সে খলখল করে হেসেছে নিঃশব্দে। সে বলেছে ভৌতিক স্বরে, “তোমার হাসি, তোমার নিষ্পাপ জীবন, তোমার লোভহীনতা, তোমার সততা, তোমার প্রিয় দেশ আমি কেড়ে নেবো।”
সব কেড়ে নিয়েছে সে।
কিন্তু গান কেড়ে নিতে পারেনি। গান আমার রক্ষাকবচ হয়ে থেকেছে। তাই একেবারে শেষ হয়ে যায়নি আমার এই ঈশ্বরের দেওয়া প্রাণ, এই পবিত্র আত্মা।
কেড়ে নিতে পারেনি বাংলা ভাষাটাকে, বাংলা কবিতাকে। কেড়ে নিতে পারেনি রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ, বিভূতিভূষণ, জীবনানন্দ, লালন, নজরুল, শরৎ, বঙ্কিম, লীলা, আশাপূর্ণা, মহাশ্বেতাকে। পরশুরাম, শিব্রাম, টেনিদাকে। কেড়ে নিতে পারেনি শরদিন্দু, ভোম্বল সর্দার, সহজ পাঠকে।
এই বাংলা ভাষার ভেলায় ভেসে চলেছি তীব্র খরস্রোতা নদীতে আজ প্রায় চল্লিশ বছর ধরে।
বহু, বহুবার স্বপ্ন দেখেছি কলকাতার ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা। স্বপ্নে দেখেছি আমাদের উত্তর কলকাতার ধূলিধূসর সরু গলিতে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন হচ্ছে। কাঠের চেয়ারে বসে তদ্গতচিত্তে ঈশ্বরপ্রাপ্তির অনুভবে তাঁর গান শুনছি দেবব্রত বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র, সুমিত্রা সেন, সাগর সেন, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, স্বপন গুপ্ত, আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায়। স্বপ্ন দেখেছি কালীপুজোর পর গলির গলি তস্য গলি প্যারীমোহন সুর লেনে স্টেজ বেঁধে সারারাতের ক্লাসিকাল গানের আসর বসেছে। সুনন্দা পট্টনায়ক, বাহাদুর খাঁ, শ্যামল বসু, জয়া বিশ্বাস, কল্যাণী রায়। কলামন্দিরে সরোদের ওপর ধ্যানস্থ ঋষি আকবর। সঙ্গে আমার গুরুর গুরু কেরামত সাহেবের অঙ্গুলি জলতরঙ্গ।
নির্মলেন্দু চৌধুরী আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “ছেলেটা তো গান জানে ভালো দেখি!” তাতেই আমি আহ্লাদে আটখানা। পাড়ার জলসায় সাগরকূলের নাইয়া গাইতে অনুরোধ করেছিলাম। তখন আমার ষোলো বছর বোধহয়। পাশের বাড়ির সঙ্ঘমিত্রা পঞ্চদশীর ছোঁয়ায়। আরতি মুখোপাধ্যায় গাইলেন এই মোম জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে এসো না গল্প করি। একটু আগে হাসির রাজা মিন্টু দাশগুপ্ত প্যারোডি গেয়ে গেছেন রয়না রয়না রয়না মাসের শেষে টাকা রয়না। গুল সবই গুল। হাসতে শিখিয়ে গেছেন এঁরাই।
কলকাতা থেকে, দেশ থেকে কোনো শিল্পী এলেই ছুটে যেতাম দেখতে, গান শুনতে, কথা বলতে। প্রথম দেশ থেকে আসা শিল্পীর গান শুনেছিলাম বোধহয় সাত আট বছর পরে। অলব্যানির হিন্দু মন্দিরে লোকশিল্পী স্বপন বসু।
তারপর আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইংরিজি শেখার পর, আর মার্কিনি উচ্চারণ শেখার পর গান শোনার কান তৈরি হলো। সানুনাসিক কিন্তু হৃদয়ভরা পরিশীলিত উচ্চারণে লাখো শান্তিপ্রিয়, যুদ্ধবিরোধী আমেরিকানদের কাঁপিয়ে দেওয়া পীট সীগার তাঁর বিখ্যাত ম্যান্ডোলিন আর ব্যাঞ্জো বাজিয়ে গান গাইতে এলেন সেই অলব্যানি নামক বরফ আর কুয়াশায় ছ’মাস ঢাকা ছোট্ট শহরেই। একেবারে সামনে বসে শুনলাম দিস ল্যাণ্ড ইজ ইওর ল্যাণ্ড, ল্যাটিন আমেরিকা ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া গুয়ান্তানামেরা, আর শেষে সবাই মিলে গাওয়া উই শ্যাল ওভারকাম। সেই ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যারের অনুষ্ঠান দেখেছিলাম রুমা গুহঠাকুরতা হল কাঁপানো স্বরে। আবার আমেরিকায়। যুদ্ধের বিরুদ্ধে, হিংসা ঘৃণার বিরুদ্ধে, জাতি ধর্মবৈষম্যের বিরুদ্ধে, শান্তির স্বপক্ষে গান গেয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর কোণে কোণে অ্যাক্টিভিস্ট কবি শিল্পীরা।
দেশে তেমনভাবে তাঁদের শরিক হতে পারিনি। সে শিক্ষা ছিলো না। সে অন্তর্দৃষ্টি ছিলো না।
অশীতিপর পীট সীগার। আনন্দে, আশায়, মানুষের গানে ভাসিয়ে দিয়ে গেছেন দেবপ্রতিম এই মানুষটি।
আমেরিকা তার যুদ্ধবাদিতা, বিশ্বব্যাপী বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেন ইউরোপের অত্যাচার শেষ হবার পর। আবার এই আমেরিকাতেই এসে দেখলাম তার বিরুদ্ধে লড়াই চলছে সর্বত্র। না, মিডিয়া তাদের কথা বলে না। ঠিক যেমন বলে না প্রতিদিন কত নিরীহ মানুষ পুলিশের অত্যাচারে শেষ হয়ে যাচ্ছে এই স্বর্গরাজ্য আমেরিকায় – কেবলমাত্র গরিব কৃষ্ণবর্ণ বা বাদামি রঙের ইমিগ্রেন্ট হওয়ার জন্যে। তাদের পাশেও কিন্তু দাঁড়িয়ে লড়াই করছে অসংখ্য আমেরিকান। আর তাদের গান, কবিতাও লেখা হচ্ছে, গাওয়া হচ্ছে ইংরিজি, স্প্যানিশ ভাষায়।
জোন বেজের গান শুনলাম। বব ডিলান ও তাঁর বিখ্যাত ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী গান। পল সাইমন গাইলেন ইফ ইউ বি মাই বডিগার্ড আই ক্যান বি ইওর লংলস্ট প্যাল। রবিন উইলিয়ামসের সিনেমা দেখলাম গুড মর্নিং ভিয়েতনাম। দেখলাম দক্ষিণের বীভৎস বর্বরতা ও দাসপ্রথার গল্প নিয়ে করা ছবি মিসিসিপি বার্নিং।
হৃদয়মথিত করা ড্রাইভিং মিস ডেইজি। জন ডেনভারের রকি মাউন্টেন হাই। সে আমেরিকার গল্প বলাও বাকি থেকে গেলো এখনকার মতো।
তারপর কোভিড সংকটে দশ লক্ষ মানুষের মৃত্যু এই স্বর্গীয় দেশে। আমেরিকার আসল চেহারাটা জানতে আর আমার বাকি নেই।
রাজা রামমোহন বিলেতে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের কাছে সতীদাহ প্রথা রদ আইন পাশ করার দাবী নিয়ে। তিনি আর দেশের মাটিতে, তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেননি। ব্রিস্টলে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। একবার তখন আমি বোধহয় অলব্যানিতেই থাকি – সক.কালচার.ইন্ডিয়া নামের একটা সেই প্রথম অনলাইন যুগের গ্রুপে আলাপ হয়ে গেলো রোহিত মালহোত্রা বলে একটা ছেলের সঙ্গে। বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। সে থাকে ব্রিস্টলে। প্রায় ঠিক করে ফেলেছিলাম একবার গিয়ে দেখে আসবো নববঙ্গের নবযুগের চালকের সমাধির ওপর গড়ে তোলা স্মৃতিফলক।
এই প্রবাসে দৈবের বশে নিঃসঙ্গ জীবনে ছোট্ট পরিবার আর ছোট ছোট দুঃখকথা নিতান্তই সহজ সরল। মা প্রকৃতি, সবুজ আর নির্জনতাকে উপভোগ করি।
যাওয়া হয়নি। যেমন অনেক কিছুই করা হয়নি। আমেরিকার মিড্-ওয়েস্ট অঞ্চলে দীর্ঘ সাত বছর কাটানোর পরেও মিসিসিপি নদী পার হয়ে ওপারে একবার দেখে আসা হয়নি মার্ক টোয়েনের হ্যানিবল। দেখা হয়নি প্রিয় কবি রবার্ট ফ্রস্টের জন্মভূমি, কর্মভূমি এই উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে এতগুলো বছর কাটানোর পরেও। সত্যিই মনে হয়, আর কি কখনো কবে এমন সন্ধ্যা হবে?
বিভিন্ন মিউজিয়ামে বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পীদের আসল ছবি দেখার সুযোগ হয়েছে আমেরিকায়। পিকাসো, রেনোয়াঁ, মাতিস, সেজান, ভ্যান গখ।
প্রদোষকাল দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। গেলো রে দিন বয়ে, বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা ঝরছে রয়ে রয়ে।
মাতৃভূমি ভেঙেচুরে যাচ্ছে। সেখানে শ্বাপদের শ্ব-দন্ত ক্রমশঃই আরো ভয়ানক চেহারা ধারণ করছে। মুখোশ খুলে যাচ্ছে রাজাধিরাজের, মন্ত্রী অমাত্য সান্ত্রীর। আমার দেশ, আমার ভারতবর্ষ, আমার প্রিয় বাংলা, আমার প্রিয় শহর কলকাতা ভীষণ সঙ্কটের একেবারে দোরগোড়ায়।
আমি আজকাল হাসতে ভুলে গেছি। সত্যিই ভুলে গেছি।
এই জীবনকাহিনির মধ্যভাগ রাখা থাকলো। উত্তরভাগ লিখে ফেলতেই হবে। কারণ, সে লেখায় থাকবে মাতৃভূমির প্রতি অনেক জমানো ঋণের কিছুটা পরিশোধের কথা। সে লেখায় থাকবে লোভের, স্বার্থপরতার, ঘৃণা, বিভেদ, অহংসর্বস্বতার চারদিকে বসিয়ে রাখা ফাঁদকে এড়িয়ে, বাঁচিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়েও এই নিউ ইয়র্ক মহানগরীতে এসে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু কাজ করে যাওয়ার কথা। আর সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাকে একটু একটু করে বাস্তবসম্মত করে তোলার গল্প। সে গল্পও হবে অতি আকর্ষণীয়।
যারা মন দিয়ে পড়বে, তারা অনুভব করবে। যাদের সে চোখ আছে, তারা দেখতে পাবে।
মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও
মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতো পাশে দাঁড়াও
মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও।
মানুষের পাশে থাকবো চিরদিন। পৃথিবীর মানুষের পাশে। হিন্দুর পাশে, মুসলমানের পাশে, শিখ জৈন পারসিক খ্রিস্টানীর পাশে। যেখানেই মানুষ কাঁদছে, সেখানেই চোখ মুছিয়ে দেওয়ার জন্যে আমি থাকবো। আমার কোটি কোটি টাকা নেই, আমার রাজনৈতিক দল নেই, আমার মিডিয়া স্ট্যাটাস নেই। আমি গরিব ঘরের কান্নাভেজা মাটি থেকে উঠে এসেছি আজ। সেই কান্নার শব্দ আমার বুকের ভেতরে নিরন্তর।
সে আমি যেখানেই থাকিনা কেন, যতকালই কাটাই না কেন।
(মেরিকামায়া সাতকাহন আপাততঃ সমাপ্ত।)
*আমেরিকা-জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রখ্যাত মানবধিকার কর্মী ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলামে এতদিন আপনারা পড়লেন ‘মেরিকামায়া সাতকাহন’, যা ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার সন্ধে ৬টায় প্রকাশিত হচ্ছিল শুধুমাত্র বঙ্গদর্শন-এ।
‘মেরিকামায়া সাতকাহন’-এর সমস্ত পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
