
ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা-জীবন এবং স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন – পর্ব ২০
বরফে ঢাকা হাইওয়ে
“তারপরও কথা থাকে —
বৃষ্টি হয়ে গেলে পর
ভিজে ঠাণ্ডা বাতাসের মাটি-মাখা গন্ধের মতন
আবছায়া মেঘ মেঘ কথা;
কে জানে তা কথা, কিংবা
কেঁপে ওঠা রঙিন স্তব্ধতা।”
ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আমার দিন শেষ হয়ে আসছে।
অনেক কষ্টের পর, চোখের জলের পর, নতুন করে আবার রিসার্চ শুরু করার পর, প্রফেসরদের বিশ্বাস অর্জন করার পর, হারিয়ে যাওয়া সম্মান আবার ফিরে পাবার পর, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করার পর, শিশুকন্যাকে নিঃসীম একাকীত্বের মধ্যে একটু একটু করে মানুষ করার পর, সম্পূর্ণ নতুন একটা দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার পর, প্রিয় দেশ প্রিয় জন্মভূমিকে পিছনে ফেলে আসার পর …
আরো কত কী যে করতে হলো এই দুটো বছরে। বলে শেষ করা যায় না। কামারের হাতে লোহা পুড়িয়ে, পিটিয়ে তার রূপান্তর হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে – কাস্তে, কোদাল, তরোয়াল। রোমান্স হয়ে যাচ্ছে রক্তের দাগ। রূপকথা হয়ে যাচ্ছে বাস্তবতা।
“বাঁকানো চাঁদের সাদা ফালিটি
তুমি বুঝি খুব ভালবাসতে?
চাঁদের শতক আজ নহে তো
এ-যুগের চাঁদ হল কাস্তে!”
যা কখনো ভাবিনি এই দু বছর আগেও, তা ঘটে গেলো জীবনে। আমেরিকায় কখনো আসতে পারবো, ভেবেছিলাম কি? ভাবিনি। চেয়েছিলাম কি আসলে বিদেশে চলে আসতে? বিদেশে সারাটা জীবন কাটাতে? সত্যি চাইনি। ভারতবর্ষই ছিল আমার পৃথিবী, বাংলা নামের দেশটাই ছিল আমার মাতৃক্রোড়।
সেই পুরোনো কলকাতার পুরোনো জীবনটা! সেই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ভোরবেলায় গোয়াবাগান পার্কে ফুটবল পেটানো, আর রেডিওতে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল, পরিমল দে, সুকুমার সমাজপতি, হাবিব! সেই রথের মেলায় পাঁপড়ভাজা আর ভেঁপু বাজানো! সেই বন্ধুর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চীৎকার করে তার নাম ধরে ডাকা! সেই সন্ধ্যেবেলা মন্দিরে কাঁসরঘণ্টার আওয়াজ, সেই দুর্গাপুজোর ঢাক! সেই আনন্দের ফুলঝুরি আর রংমশাল, তুবড়ি, চরকি! সেই বাংলা ভাষা!
সেই “ছুটি হলে রোজ ভাসাই জলে কাগজ নৌকাখানি, লিখে রাখি তাতে আপনার নাম, লিখি আমাদের বাড়ি কোন গ্রাম, বড় বড় করে মোটা অক্ষরে যতনে লাইন টানি। … যদি সে নৌকা আর কোনো দেশে, আর কারো হাতে পড়ে গিয়ে শেষে” …
তারপর আমাদের চিরকালের প্রিয় কবি লিখছেন,
“আমার লিখন পড়িয়া তখন
বুঝিবে সে অনুমানি
কার কাছ হতে ভেসে এল স্রোতে
কাগজ-নৌকাখানি।”
আমার এই স্মৃতিকথাও সেই কাগজনৌকাখানির মতোই। কার হাতে পড়বে এ লেখা? একফোঁটা চোখের জল কি সে ফেলবে, এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া বন্ধুর জন্যে? দেশ ছেড়ে যে যেতে চায়নি, যে কখনো ভাবেনি দেশ ছেড়ে চলে গেলে তার পরিণাম কী হতে পারে, যে বোঝেনি সে মাতৃক্রোড় থেকে চিরবিচ্ছেদের দুঃখ?
আমেরিকা বড়ো নিষ্করুণ দেশ। স্মৃতিমেদুরতা এখানে বাঁচতে সাহায্য করে না। শেষ করে ফেলে। এখানে বাঁচতে গেলে নস্ট্যালজিয়াকে মন থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে। এখানে লক্ষ লক্ষ আমার মতো, আমাদের মতো মানুষ বাঁচার তাগিদে এসেছে – নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান – সবাই এসে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে এই ম্যাকডোনাল্ড, কোক, ওয়াল-মার্ট আর সিএনএন কালচারে। যেখানে তোমার দেশের কথা কেউ জানে না। টিভিতে কখনো বলে না।
যদি তুমি তার একজন হয়ে উঠতে না পারো, তাহলে তুমি হারিয়ে যাবে মুহূর্তের মধ্যে।
এ বড়ো কঠিন ঠাঁই। বাঙালির মিষ্টি জল, মিষ্টি কবিতা, মিষ্টি গান আর জড়িয়ে থাকা জীবন এখানে অচল। যে পারবে না, সে ফুরিয়ে যাবে, নিভে যাবে।
আমি ফুরিয়ে যাইনি, নিভে যাইনি। প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছি এই এতগুলো বছর। বাংলা ভাষাকেও বাঁচিয়ে রেখেছি। বাংলা গানকেও। সেই যে প্রথম একটা ক্যাসেট সঙ্গে এনেছিলাম যাতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আর রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গান ছিল, আর সঙ্গে ছিল আবোল তাবোল – সেই থেকে আজ পর্যন্ত। চেষ্টা করেছি নিজের মেয়েকে সেই ভাষা শেখাতে, সেই গান শেখাতে। হ্যাঁ, সেই ছোট্ট মেয়েটা – সে আর তার মা আমাকে এতগুলো বছর ধরে এই দ্বীপান্তর-একাকীত্বে সঙ্গ দিয়েছে, মৃত্যুর হাত থেকে ঝোড়ো হাওয়ায় প্রদীপের আলোর মতো দু হাত দিয়ে আড়াল করে রেখেছে।
তাদের কাছেই আমার না-বলা কৃতজ্ঞতার ভাষা।
ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আমার দিন শেষ হয়ে আসছে। পঁচাশির আগস্ট থেকে সাতাশির ডিসেম্বর – আড়াই বছর লেগে গেলো জীবনের দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্ৰী শেষ করতে। আই আই টি বা আই আই এম’এর মেধাবী ছেলেমেয়েরা বলবে, আড়াই বছর? কিন্তু একুশ বাইশ বছরের একটা ব্যাচেলর স্টুডেন্ট, আর একটা একত্রিশ-বত্রিশ বছরের বিবাহিত স্টুডেন্ট, তাও আবার সঙ্গে একটা ছোট্ট শিশু – এদের গল্প কি একরকম হতে পারে? এদের জীবনসংগ্রামের গল্প কি এক?
ক্রিটিকাল থিংকিং কাকে বলে, দেশে কখনো শিখিনি। এখানে এই আমেরিকায় ভীষণ শক্ত শক্ত ক্লাস নিয়ে কখনো রুক্ষ অকরুণ প্রফেসরের কাছে, আবার কখনো রজার অ্যান্ডারসনের মতো, ম্যাথু নাদাকাভুকারেনের মতো স্নেহশীল মানুষদের কাছে সে বিশ্লেষণ শিখছি। যা পরের ইউনিভার্সিটিগুলোতে গিয়ে আরো বেশি পরিশীলিত হয়েছে। সেই সাদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, সেই কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির কথা পরে আসবে। সেই ল্যারি ম্যাটেন, সেই বারবারা আর রেমন্ড স্টটলার, সেই জেমস ক্যারী, আর সেই বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক পণ্ডিত নোম চমস্কি। হ্যাঁ, জীবনটাকে একেবারে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। মাটির তালকে করে তুলেছেন একটা মুখ, লোহার পিণ্ডকে করে তুলেছেন ভাস্কর্য।
যা হবার ছিলো না, তাঁদের হাতের স্পর্শে তাই হয়েছে।
আই এস ইউ আমার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট। হ্যাঁ, অনেক ব্যর্থতা, অনেক চোখের জল, অনেক বুকচাপা কান্না। কিন্তু শেষ হাসি হেসেছিলাম আমিই।
যখন কোনোরকমে একটা মাস্টার্স থীসিস খাড়া করে তিনজনের একটা অ্যাডভাইসারি কমিটি তৈরি করা গেলো, তখন সে কমিটিতে লাইবারটা, অ্যান্ডারসন, আর শিকাগোর কাছে মর্টন আরবরেটাম থেকে আসা তৃতীয় প্রফেসর মাইকেল মিলার। স্ট্যাটিসটিকস করতে সাহায্য করলেন আমাদের আই এস ইউএরই এক লেডি প্রফেসর। আমাদের দেশে যাকে বলে ভাইভা ভোসি, আর এদেশে যাকে বলে ওরাল ডিফেন্স – তাতে আশ্চর্যজনকভাবে ইমপ্রেস করে দিলাম তিনজনের সঙ্গে থাকা ডঃ এন, ম্যাকক্র্যাকেন, আর যাঁরা উপস্থিত ছিলেন শেষ সেমিনারে, তাঁদের।
রজার অ্যান্ডারসনের সঙ্গে পরেও একবার দেখা হয়েছে ইলিনয় অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের কনফারেন্সে পেপার দিতে গিয়ে। তখন আমি সাদার্ন ইলিনয়ের সম্মানিত পিএইচি স্কলার। হাসিমুখে অ্যান্ডারসন হ্যান্ডশেক করেছিলেন। এই মানুষটিকে সঙ্গে করে নিয়ে চলে গিয়েছিলাম অনেক দূরে দক্ষিণ ইলিনয়ে। সে গল্প ভালো করে বলতেই হবে।
প্রেমেন্দ্র মিত্রর কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলাম আই এস ইউ জীবনের এই গল্পটা, এই এপিসোডে। এখন নিজের কবিতা থেকেও একটা লাইন তুলে দিলে যদি স্পর্ধা হয়, তাহলে ক্ষমা চেয়ে রাখছি। কিন্তু ওই যে বললাম, বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছি। আর নিজের কবিতাকেও!
“এখন সূর্যের আলো সত্যিই নরম।
চশমার লেন্সের ফাঁকে সবকিছু আধিভৌতিক —
ঘরের দরজা, রক, সিঁড়ি, ছাত, গাছপালা
আছে, কিন্তু আবছায়া
স্মৃতির বৃষ্টিতে ভেজা
পরিচিত শৈশবের ফুটবল মাঠ।
গোল দিয়ে চলে গেছে, খেলা শেষ, মাঠ ফাঁকা —
পুরোনো চাওয়াও যেন ঘষা ঘষা কাচের মতন।”
অনেক বন্ধুর নাম মনে আছে। অনেকের নাম, মুখ আর মনেও পড়ে না। অনেকের মুখ মনে আছে, নাম মনে নেই।
আমাদের গুজরাটি-আমেরিকান বন্ধু বিপুল সোলাঙ্কি আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলো তার গাড়িতে – কার্বনডেল নামক অজানা শহরে সাদার্ন ইলিনয় নামক অজানা এক বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরিয়ে দেখাতে। যাকে বলে ক্যাম্পাস ভিজিট। আমাদের মতো, ওই যে বলেছিলাম, রুকী বা আমেরিকা ওয়ান-ও-ওয়ান ছাত্রদের কাছে তখনকার দিনে ক্যাম্পাস ভিজিট মঙ্গলগ্রহে সোভিয়েত বা মার্কিন স্পেসক্র্যাফট অবতরণের মতোই।

সাদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস
বিপুল সোলাঙ্কি আমেরিকায় বড় হওয়া গুজরাটি ছেলে। ওই গর্ডন স্টুয়ার্টের মতোই পরোপকারী, হাস্যমুখ। বিপুল বললো, “ম্যান, ইউ গট ইন দেয়ার। ইউ নীড টু চেক ইট আউট।”
তার মানে কী?
বিপুল বুঝিয়ে দিলো, দেখে এসো জায়গাটা একবার। সাদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডির জন্যে এ্যাপ্লিকেশন পাঠিয়েছিলাম – আই এস ইউ’তে পিএইচডি হবার কোনো সম্ভাবনা নেই দেখে। হয়ে গেলো সেখানে। আবার শিকে ছেঁড়া। অবশ্য এখন আমি আড়াই বছরের ভেটারান সৈন্য – যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা। ইংরিজি বলতে পারি। আমেরিকার একটা ইউনিভার্সিটি থেকে এম এস ডিগ্রী ঝুলিতে। এখন একটু একটু জানি, রিসার্চ করার প্রোপোজাল কীভাবে তৈরী করতে হয়। আর জানি, কোন প্রফেসরকে সরাসরি লিখলে তার কাছে ছাত্র হয়ে ঢুকে যাবার সম্ভাবনা আছে। কম্পিউটার জানি।
আমি এস আই ইউ কার্বনডেলের ক্যাটেলগ দেখে প্রফেসর ওয়াল্টার সান্ডবার্গকে চিঠি লিখলাম। মাশরুম মর্ফোলজি আর ইকোলজির সম্পর্কে আমার “তীব্র আগ্রহ” তাঁকে জানালাম। সে সময়কার সে আগ্রহ পরে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। কারণ, কেন মর্ফোলজি, আর কেনই বা ইকোলজি – সে সম্পর্কে ধারণা আমার নিজেরই তখন ফিকে ছিল। ক্রিটিকাল থিংকিং সে জায়গায় তখন পৌছোয়নি।
কিন্তু, বেড়াল এবং তার শিকে। যতই হোক না কেন ফিকে।
ওয়াল্ট সান্ডবার্গের একজন ডক্টোরাল স্টুডেন্ট গিনিপিগ দরকার ছিল। ফলে, আই এস ইউ’এর বেড়াল থেকে আমি এস আই ইউ’এর গিনিপিগ পদে প্রোমোশন পেয়ে স্ত্রীকে উচ্চকিত এবং শিশুকন্যাকে অনুচ্চারিত আনন্দে খবরটা জানিয়ে দিলাম। একটাই মুশকিল, জানুয়ারী মাস থেকে স্প্রিং সিমেস্টার শুরু হবে, এবং স্প্রিং সিমেস্টারে ফুল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া যায় না। কপাল ভালো যে সান্ডবার্গ একটা হাফ স্টাইপেন্ড জোগাড় করে দিলেন। অর্থাৎ, সেই যে আই এস ইউ জীবন শুরু হয়েছিল মাসে তিনশো আশি দিয়ে, এবারে হবে তিনশো কুড়ি। তবে হ্যাঁ, এস আই ইউ’এর ফুল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বিশাল – হাহা, মাসে ছশো চল্লিশ। যা পাওয়া যাবে পরের ফল সিমেস্টার থেকে। তার মানে হলো গিয়ে, হাহা, জানুয়ারী থেকে মে তিনশো কুড়ি মাসে, আর জুন থেকে আগস্ট – ইয়ে, মানে, কিছুই পাওয়া যাবে না।

ওয়াল্ট সান্ডবার্গ (ডানদিকে)
মুক্তি বললো, “একটা কিছু ব্যবস্থা হয়ে যাবে ঠিক।” ভদ্রমহিলার এই অদ্ভুত ইতিবাচকতা!
বিপুল নিয়ে গেলো ছ ঘণ্টা ড্রাইভ করে ওর সাদা রঙের পন্টিয়াক গাড়িতে। ঘষা কাচের সেই আয়নায় আজ আর সেই বাঙালি ছেলেগুলোর নাম মনে নেই, যাদের বাড়িতে এক রাত ছিলাম অতিথি হয়ে। জয়দীপ, মিত্রজিৎ, আর কে কে যেন। তোমরা পড়লে ক্ষমা করে দিও। কৃতজ্ঞতা তোলাই যাচ্ছে সারাজীবন।
তাদের শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে রাত্রিযাপন। পরের দিন সান্ডবার্গ দর্শন, ডিপার্টমেন্ট ভ্রমণ, এবং বিকেলে রওনা দিয়ে অনেক রাতে গৃহ-প্রত্যাগমন।
এখন, আর দেরী নয়, ধর গো তোরা। … ইত্যাদি। … সামনে মিলনস্বর্গ।
অথবা, আরও সত্যি কথা বলতে গেলে,
“তল্পিতল্পা নিয়ে এবার
ভালোয় ভালোয় কেটে পড়ো।
এ সংসার মায়া প্রপঞ্চময় বড়।”
গর্ডনের গাড়িতে আমাদের স্থাবর অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি। মেয়ের জামাকাপড়, কম্বল, মিল্ক পাউডার, খেলনা, এটা সেটা। আর কীই বা সম্পত্তি থাকতে পারে তখন?
আর আমাদের সেই বীরবিক্রম ভ্যালিয়েন্ট গাড়িতে আমি স্টিয়ারিং হুইলে। পিছনে মুক্তি ও আমাদের ছ'মাসের মেয়ে নন্দিনী।
দুটো গাড়ি ছুটে চললো দুশো পঁয়ত্রিশ মাইল দূরের নতুন ঘরের দিকে। ডিসেম্বরের শেষদিক। মধ্য ইলিনয় রাজ্যে তখন তুষারপাত শুরু হয়েছে। চারদিক দিনের বেলাতেই প্রায় অন্ধকার। আমাদের দুটো পুরোনো গাড়ি এক শিশুকে নিয়ে, পরিবারকে নিয়ে সেই তুষারাচ্ছন্ন হাইওয়ে দিয়ে ধীরগতিতে চলেছে।
একটু অসাবধান হলেই ব্ল্যাক আইসে গাড়ি পিছলে যেতে পারে। আর গেলেই …
(চলবে)
*আমেরিকা-জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রখ্যাত মানবধিকার কর্মী ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলামে চলছে ‘মেরিকামায়া সাতকাহন’।
ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার সন্ধে ৬টায় প্রকাশিত হচ্ছে শুধুমাত্র বঙ্গদর্শন-এ।
‘মেরিকামায়া সাতকাহন’-এর সমস্ত পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
