
১৯৯১ সালে বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়
ধর্মতলার মোড়ে ঠিক যেখানে বর্তমান কটেজ ইন্ডাস্ট্রির বাড়িটি বাস রাস্তার উপরে শেষ হচ্ছে, ঠিক সেখানেই ১৪১ নং এস এন ব্যানার্জি রোডের বাড়িটির কঙ্কালসার ইট বের করা বাড়ির উপরিতলে ক’দিন আগেও পড়ে নেওয়া যেত “photographe” শব্দটি। তার ঠিক নিচে ‘Bourne & Shepherd’। এখন তাহলে প্রশ্ন হল তাহলে এই “photoghraphe” শব্দটির তাৎপর্য কী?
আসলে, জর্জ শেফার্ড এবং স্যামুয়েল বোর্ন ১৮৬৩-তে কলকাতার এই বাড়িতে যখন নিজেদের নামে স্টুডিও খুললেন, সেইসময় তাদের পার্টনারশিপ ব্যবসা হিসেবে সঙ্গে এসেছিলেন মিস্টার হাভাড। তাঁর ছিল ওই ‘Calcutta photographer’ নামের স্টুডিওটি। Calcutta Photographer-এর এই বাড়িটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৪০ সালে। সেখানে এসে উঠলেন এই বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ড।
আজকের প্রায় ভেঙে-ফেলা এই বাড়িটির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনেকটাই যেন টাইমমেশিনে চড়ে পিছনে যাওয়া যায়। প্রায় ৪০-৪২ জন কুলি হরেকরকম যন্ত্রপাতি নিয়ে এক বার এদিকে যাচ্ছে, একবার ওদিকে। তারপর কোথাও গিয়ে তাঁবু টাঙাচ্ছে। আর তারই সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিলিতি সাহেবদের ছবি তোলার বিস্তর আয়োজন। কখনও তাঁবু পড়ে গঙ্গার ঘাট তো, কখনও সাহেবরা তাঁবু ফেলে আজকের ডালহৌসি পাড়ায়। কলকাতা ছবিতে বন্দি হতে থাকে। শুধু কি তাই? এই সাহেবরা কুলিদের সঙ্গে নিয়ে কখনও কখনও ছোটেন অসমের চা বাগানে। তো কখনও ছোটেন রাজা বাদশাহদের বাড়িতে ছবি তুলতে। এসব তো গেল তথ্যপঞ্জির বিবরণ। এরই মাঝে এই সাহেবদের ছবি তোলার ব্যবসা শুরু হল studio photographer-এর নতুন দিশা নিয়ে।
এমনকি, তখনকার বনেদি বাড়ির মহিলারা ধর্মতলা স্ট্রিটে নামছেন ছবি তোলাতে। সেটা এমনই এক কাল, যখন তাঁরা বছরে একবারও বাড়ির বাইরে পা রাখতেন কিনা সন্দেহ। কীভাবে এক টুকরো কাচের পাতে সাহেবগুলো ছবিগুলিকে টপাটপ বন্দি করে, তা নিয়ে ভেবে রাতের-ঘুম চলে যেত তাঁদের। জনৈক রমণীর অপ্রকাশিত দিনলিপিতে পড়া যায়, “সাহেব যখন ছবি তুলিতে উদ্যত হয়, তখন সে একটি কালো নিকষ কাপড়ের মধ্যে মাথা গুঁজিয়া দেন। আমার তো মনে হয়, ওই কালো কাপড়ের মধ্যেই বোধ হয় ইংল্যান্ডের ডাইনি লুকিয়ে আছে, তাহার সহিত সলা ক্রিয়াই সাহেব ওই কাচের পাতে ছবি ফোটাইয়া তোলে।”
