করাচি, টোকিও থেকে লন্ডন, বেইজিং – বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা

বিশ্বে বাংলা ভাষার স্থান পঞ্চম

করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ

থনোলগ-এর বিংশ সংস্করণের সমীক্ষা (২০১৭) অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলা ভাষার স্থান পঞ্চম। সমীক্ষায় জানানো হয়, প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন।

বাংলাদেশেই বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষ বাংলায় কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ধানবাদ, মানভূম, সাঁওতাল পরগনাতেও রয়েছে বাংলা ভাষার প্রচলন। ভারত-বাংলাদেশের বাইরে নেপাল, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, চিন, সিঙ্গাপুর, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইতালি ইত্যাদি দেশেও বিপুল পরিমাণ বাংলাভাষী অভিবাসী ও প্রবাসী রয়েছেন।

শোনা যায়, একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় গবেষণা করার সুযোগ ছিল। লন্ডনের সোয়াসে প্রাচ্যবিদ্যা ও ভাষাচর্চা বিভাগে এখনও চলছে বাংলা ভাষার চর্চা ও গবেষণা। নিউইয়র্ক, ইথাকা, শিকাগো, মিনেসোটা, ফ্লোরিডা, মেরিল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি গবেষণাকেন্দ্রে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে নিয়মিত।

প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন।

টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ

বাংলা ভাষা চর্চায় অগ্রণী চিন ও জাপান। প্রায় ৭০ বছর আগে কাজুয়ো আজুমা রবীন্দ্রপ্রেম থেকে বাংলা ভাষার চর্চা শুরু করেছিলেন জাপানে। প্রায় দশ বছর বছর আগে টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে বাংলা ভাষা শেখানো শুরু হয়। বর্তমানে এই বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন।

বেশ কিছু বছর ধরে চিনের রেডিও বেইজিং থেকে নিয়মিত বাংলায় সম্প্রচার হচ্ছে চিনের খবর। চায়না ব্রডকাস্টিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান চাংসিং বেশ কয়েকজন চিনা ভাষাবিদ-গবেষককে বাংলাবিষয়ক গবেষণায় যুক্ত করেছেন।

বেইজিং ইউনিভার্সিটি

চিনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় বেইজিং ইউনিভার্সিটি ও বেইজিং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে বাংলা ভাষার কোর্স চালু হয়েছে। এমনকি চালু হয়েছে বাংলা বিষয়ে অনার্সও। 

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সে দেশের বিদ্যালয়ে যেসব এশীয় ভাষা শেখার অনুমতি দিয়েছে, সেখানে বাংলা ভাষার অবস্থান তৃতীয়। ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান ও কানাডা থেকে বাংলা ভাষায় বর্তমানে একাধিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে।

প্রায় দশ বছর বছর আগে টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে বাংলা ভাষা শেখানো শুরু হয়। বর্তমানে এই বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন।

বাংলা ভাষার প্রতি আগ্রহের কারণে বিশ্বের প্রায় ১০টি দেশের রাষ্ট্রীয় বেতারে বাংলা ভাষার আলাদা চ্যানেল রয়েছে। বাংলা ভাষায় যুক্তরাজ্য থেকে মোট ১২টি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ইউরোপের ইতালিতে বর্তমানে পাঁচটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। রোম ও ভেনিস শহর থেকে তিনটি বাংলা রেডিও স্টেশনও চলছে রমরমিয়ে।

সিয়েরা লিওন

আফ্রিকার পশ্চিম অংশের ছোট্ট দেশ সিয়েরা লিওন। ১৯৬১ সালে ব্রিটিশ শাসক থেকে স্বাধীন হয় দেশটি। কিন্তু গৃহযুদ্ধ থামেনি। রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপে ১২ হাজার বাংলাদেশি সৈন্য পা রাখেন সিয়েরা লিওনের মাটিতে। স্থানীয় মানুষেরাও আকৃষ্ট হন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি। এমনি তাঁদের নিজস্ব অনুষ্ঠানে বাংলা গানের ব্যবহার শুরু হয়। অবশেষে ২০০২ সালে দেশে শান্তি ফিরে এলে বাংলা ভাষাকে অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন সিয়েরা লিওনের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আহমেদ তেজান কাব্বা। 

পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৩ সাল থেকে শুরু হয়েছিল বাংলা বিভাগ। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে বিভাগের পড়ুয়া প্রায় ৩০ জন। এছাড়াও শুধু বাংলা লিখতে ও বলতে পারার জন্য তাঁদের সার্টিফিকেট কোর্সও রয়েছে।

কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, মার্টিন কেম্পসনের হাতে জার্মানির হাইডেলর্বাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার সূচনা হয়েছিল। গবেষক হ্যান্স হার্ডার বাংলা চর্যাপদ নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘদিন। ইতালিতে অধ্যাপক মারমারা কাজ করছেন বাংলা নিয়ে। পোল্যান্ডের শিক্ষক এলভিয়েতা ওয়োল্টার বাংলা থেকে পোলিশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ও বিভূতিভূষণের রচনা। বেলজিয়ামের ফাদার দ্যাতিয়েন বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।

বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা – উপস্থাপনায় টিম বঙ্গদর্শন

Developed by DXDasia