বাংলার গৌরবময় ইতিহাস এবং সংস্কৃতি তুলে ধরতে কলকাতায় আন্তর্জাতিক রিসোর্স সেন্টার

কলকাতার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান হয়ে উঠতে চলেছে এই রিসোর্স সেন্টারটি

গোটা বাংলার এবং কলকাতার অজানা ইতিহাস, বাঙালি মনীষীদের জীবন, দুষ্প্রাপ্য ছবি-লেখা এই সবকিছু নিয়ে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস এবং সংস্কৃতির নিদর্শন তুলে ধরতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী টাউন হলে গড়ে উঠছে আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্স সেন্টার। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেখানে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম ও নবজাগরণের ইতিহাস থেকে শুরু করে হালের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চলচ্চিত্র-সহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার সাফল্যগাথা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে এবং মনে করা হচ্ছে, এই রিসোর্স সেন্টারটি কলকাতার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান হয়ে উঠবে।

সূত্রের খবর, প্রকল্পটি রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে কলকাতা পুরসভা, তত্ত্বাবধানে রাজ্য হেরিটেজ কমিশন। রিসোর্স সেন্টারের নকশা তৈরি করেছেন খড়গপুর আইআইটি-র ইঞ্জিনিয়াররা। আইআইটি-কে ‘ডিপিআর’ (বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট) বানাতে দেওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পর সামান্য অদলবদল করে কিছু দিন আগে কলকাতা পুর প্রশাসকমণ্ডলীর বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে নতুন বছরের শুরুর দিকে এই আন্তর্জাতিক রিসোর্স সেন্টার পুরোদমে চালু হয়ে যাবে বলে আশা করছেন পুরকর্তারা। কী কী থাকবে সেখানে?বাংলার গৌরবময় অধ্যায় হিসাবে নবজাগরণের ইতিহাস তুলে ধরতে আলাদা গ্যালারি তৈরি হবে। রাজা রামমোহন রায় থেকে শুরু করে কেশবচন্দ্র, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, ভগিনী নিবেদিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ঋষি অরবিন্দ, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ-সহ বাংলার মনীষীদের জীবনকাহিনি এবং কর্মকাণ্ডের অডিও-ভিসুয়্যাল প্রেজেন্টেশন থাকবে। মনীষীদের মূর্তি, পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাস, টাউন হলের মিউজিয়ামে থাকা দুষ্প্রাপ্য ছবির বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ ও গ্যালারি, কালীঘাট মন্দির গড়ে ওঠার অজানা ইতিহাস, কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন কীভাবে ঘটল, ইসলামিক যুগে কলকাতার চেহারা কেমন ছিল, ব্রিটিশ যুগে কলকাতার পুরোনো ছবি, সরকারি নথি, লেখাপত্রের প্রদর্শনী, কলকাতার উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য, মন্দির, মসজিদ, গির্জা এবং গঙ্গার পাড়ে যে সব নদীঘাট রয়েছে, তার ইতিহাস এবং বর্তমান চেহারা।

১৯৫০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত যাঁরা বাংলার সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন, ‘কনটেম্পোরারি’ বিভাগে থাকবে তাঁদের জীবন-আলেখ্য: সত্যজিৎ রায়, পণ্ডিত রবিশঙ্কর, উস্তাদ বিলায়েত খান, উস্তাদ আলি আকবর খান, পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্ত, জোছন দস্তিদার, সলিল চৌধুরী, সুধীন দাশগুপ্ত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, সন্ধ্যা রায়, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, পঙ্কজকুমার মল্লিক, কবীর সুমন, নচিকেতা, ভূমি, চন্দ্রবিন্দু নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবং অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনীও এই বিভাগে গবেষণা কেন্দ্র, লাইব্রেরি ও আর্কাইভ।

 

Post Tags
Developed by DXDasia