আদিবাসী মেয়েদের স্বনির্ভর করতে ভরসা হস্তশিল্প

এমনটাই মনে করেন তাপ্তি দে

আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের হাতের কাজ শিখিয়ে তাদের স্বনির্ভরতার পাঠ দেওয়া শুরু করেছেন পঞ্চাশ বছরের এক মহিলা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদেরও হাতের কাজ শেখানোয় নেমেছেন তিনি। আর এই কাজের স্বীকৃতি হিসাবে রাজ্য সরকারের অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। শিলিগুড়ি কাওয়াখালি বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটেও তিনি সম্প্রতি তাঁর হস্তশিল্পের কাজ দিয়ে সাড়া জাগিয়ে তুলেছেন।

সেই মহিলার নাম তাপ্তি দে। বাড়ি শিলিগুড়ির দেশবন্ধু পাড়ায়। একসময় তাঁর বাড়ি ছিল অসমের শিলচরে। বাবা মায়ের কাছ থেকেই মূলত হাতের কাজ শেখা। পরে রাজ্যের ক্ষুদ্র শিল্প দফতর এবং নাবারডের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে আরও শক্তপোক্ত করেছেন। হাতের কাজ বলতে কাঁথা স্টিচের কাজে নানান ডিজাইন করা, বেড কভারে ডিজাইন, বিভিন্ন শাড়িতে ডিজাইন, ফেব্রিকের কাজ, গুজরাটি স্টিচের কাজ। বাড়িতে হাতের কাজ শেখানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও খুলেছেন। পাড়াপড়শি সকলকে তিনি বলছেন, মেয়েদের বাঁচতে গেলে আগে হাতের কাজ শিখতে হবে। যত বেশি মেয়েরা হাতের কাজ শিখবে ততই তাদের উন্নতি হবে। আর এই ভাবনাতেই মেয়েদের হাতের কাজ শিখিয়ে চলেছেন তাপ্তি।

 

শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি থেকে শুরু করে খড়িবাড়ি ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামের আদিবাসী ও অন্য পিছিয়ে পড়াদের তিনি রীতিমতো শিবির করে হাতের বিভিন্ন কাজ শিখিয়েছেন। এদের মধ্যে সুমিতা ওঁরাও থেকে ববিতা মালপাহাড়িয়া, অনিমা রায় সহ আরও অনেকেই রয়েছেন। তাপ্তি বলেন, কুড়ি জন শিখতে এলে পাঁচ জন আজ সেই কাজ করে ঘর সংসার চালাচ্ছেন। এভাবে তার কাছ থেকে একশজনের মতো পিছিয়ে পড়া মহিলা উত্তরবঙ্গ জুড়ে হাতের কাজ শিখেছেন। তাঁদের কেউ ড্রাই ফ্লাওয়ার, কেউ ব্যাগ তৈরির কাজও করছেন। আবার বালুরঘাট, রায়গঞ্জে গিয়েও তিনি কাজ শিখিয়ে এসেছেন।

১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে তাপ্তির এই লড়াই। হাতের কাজের প্রদর্শনী করতে তিনি দিল্লি, মুম্বাই সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন। বাড়িতে তিনি তাঁর স্বামী, শাশুড়ির কাছ থেকেও এই কাজে উৎসাহ পাচ্ছেন। সপ্তাহে দু-এক দিন কয়েকজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রতিবন্ধীও তাঁর কাছে গিয়ে হাতের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি শিখছেন। তাপ্তির কথায়, এঁদের কাজ শিখিয়ে একটা অন্যরকম শান্তি পাওয়া যায়।

Developed by DXDasia