
বাঙালি গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাসকে ক্রমশ ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে
গুপ্তচরবৃত্তি! শব্দটা শুনলেই শিরা-উপশিরায় রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। মনে মনে অলীক কল্পনা গড়ে নিই। নিজেদেরকে কোনও গুপ্তচরবৃত্তির অংশ বলে মনে করি। ইদানীং সিনেমা এবং পডকাস্টে সত্যি গুপ্তচরদের দৌলতে আমরা আরও বেশি করে চরবৃত্তির স্বাদ গ্রহণ করছি। যদিও কতটা সত্যি আর কতটা জলঘোলা সেই নিয়ে প্রবল সংশয় আছে। তবুও গুপ্তচরবৃত্তির আদুরে অনুভূতি আমাদের পাগল করে তোলে। ইদানীং ধুরন্ধর, ফ্যামিলি ম্যান ৩, সালাকার, স্পেশাল ওপস, এক থা টাইগার, জাওয়ান, ফ্রিল্যান্সার, খুফিয়া ইত্যাদি সিনেমা ও ওয়েব সিরিজের দৌলতে আমরা যে কতবার দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে ঢুকে পড়েছি, তার হিসেব কে জানে! কয়েক মুহূর্তে ধ্বংস করে দিয়েছি শত্রুদের ঘাঁটি। বাস্তব জীবনে যে সমস্ত গুপ্তচররা মিডিয়ার আলোয় আলোকিত হয়েছেন সেখানে কোনও বাঙালির স্থান নেই। অথবা বলা ভালো বাঙালি গুপ্তচর বা গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ভুলে গিয়েছি বাঙালি সন্তান শরৎচন্দ্র দাশকে। ভুলে গিয়েছি ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, তারকনাথ দাস, হেমচন্দ্র কানুনগোকে। যে সময়ে তাঁরা গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন, তখন চরবৃত্তির সঠিক মানে জানত না অনেকে। এখনকার মতো চরবৃত্তির পরিমণ্ডলও ছিল না। শুধু তাই নয়, এঁরা প্রত্যেকে তাঁদের কর্মকাণ্ডে বিরাট সাফল্য পেয়েছিলেন। বর্তমান সময়ের মতো উন্নত বৈদ্যুতিন গ্যাজেট ছিল না তাঁদের কাছে। তবুও এই বাঙালি সন্তানরা চরবৃত্তির ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।
বাস্তব জীবনে যে সমস্ত গুপ্তচররা মিডিয়ার আলোয় আলোকিত হয়েছেন সেখানে কোনও বাঙালির স্থান নেই। অথবা বলা ভালো বাঙালি গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শরৎচন্দ্র দাশ
উনিশ শতকে রাশিয়া ও ব্রিটিশ ভারতের মধ্যে এক ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল। ইতিহাসবিদেরা এই শীতল যুদ্ধের নাম দিয়েছিলেন গ্রেট গেম। ভারতবর্ষের সীমানায় তিব্বত যদি শত্রুদেশের প্রভাব বলয়ে চলে যায়, তবে তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এক ধরনের পরাজয়। বহির্বিশ্বের জন্য নিষিদ্ধ অঞ্চল তিব্বতে বরাবরই অভিযান চালাতে চেয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। উনিশ শতকে ভারত ও তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্যপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করত তিব্বতি ও সীমান্ত অঞ্চলের পাহাড়ি উপজাতিরা। তারা ছাড়া এই পথ ব্যবহারের অনুমতি পেতেন কেবল বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। অগত্যা এই নিষিদ্ধ অঞ্চল সম্পর্কে জানতে সেখানে গুপ্তচর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। পাহাড়ি লোকজন থেকে বেছে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল। তাদের পাঠানো হল বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছদ্মবেশে। কিন্তু কোনও অভিযানই সাফল্যের মুখ দেখল না। শেষে শরৎচন্দ্র দাশের দুই দফা তিব্বত অভিযান ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে সে দেশের মানচিত্র তৈরি, যাত্রাপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সেনা ছাউনির হদিশ জানতে সহায়তা করেছিল। এরপর ব্রিটিশ সমরনায়ক ইয়ংহাসবেন্ড তিব্বতে সেনা অভিযান পরিচালনা করে সে দেশকে সন্ধি করতে বাধ্য করেছিলেন।
শরৎচন্দ্র দাশ তিব্বত থেকে যে তথ্যগুলো ব্রিটিশ ভারত সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেগুলো নিছক ভ্রমণবৃত্তান্ত নয় বরং ছিল গভীরভাবে পরিকল্পিত, বহুস্তরীয় এবং কৌশলগত। শরৎচন্দ্র দাশ তিব্বতের অভ্যন্তরীণ পথঘাট, পাহাড়ি গিরিপথ, নদী, হ্রদ এবং জনপদের অবস্থান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নথিবদ্ধ করেন। কোন পথ দিয়ে কত দিনে লাসা পৌঁছনো যায়, কোন রাস্তাগুলি শীতকালে বন্ধ হয়ে যায়, কোথায় খাদ্য বা জল পাওয়া কঠিন, এই সব তথ্য ব্রিটিশ সামরিক ও প্রশাসনিক পরিকল্পনার জন্য ছিল অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ইয়ামদ্রোক হ্রদ, ইয়ারলুং উপত্যকার ভৌগোলিক বর্ণনা এবং দূরত্বের হিসাব তৎকালীন ব্রিটিশ মানচিত্র নির্মাণে বড়ো ভূমিকা নিয়েছিল। পাশাপাশি তিনি তিব্বতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ করেন। লাসায় ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক শাসনের সম্পর্ক কেমন, দালাই লামার প্রশাসনিক ভূমিকা কীভাবে কাজ করে, এসব বিষয় তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে লিখে পাঠান। কোন অঞ্চলে কোন গভর্নর বা ধর্মীয় প্রধান কতটা ক্ষমতাবান, স্থানীয় শাসন কতটা কেন্দ্রীভূত বা শিথিল এই বিশ্লেষণ ব্রিটিশ সরকারকে তিব্বতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বুঝতে সাহায্য করে।
এছাড়াও তিনি ভাষা, লিপি ও পুঁথি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠান। তিব্বতি ভাষার ব্যাকরণ, শব্দভাণ্ডার, উচ্চারণভঙ্গি এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্য সম্পর্কে তাঁর কাজ আজও মূল্যবান। তিনি বহু প্রাচীন পুঁথি ও ধর্মীয় গ্রন্থের সন্ধান দেন, যেগুলোর মাধ্যমে ভারত ও তিব্বতের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ইতিহাস নতুনভাবে আলোচনায় আসে। এই ভাষাগত জ্ঞান ব্রিটিশ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহায়ক হয়েছিল। লাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, বিদেশিদের প্রতি স্থানীয়দের মনোভাব কী, কোন এলাকায় সন্দেহ দ্রুত তৈরি হয়, এই সব সূক্ষ্ম তথ্য ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীকালে ইয়াংহাজবেন্ডের তিব্বত অভিযানসহ নানা ব্রিটিশ উদ্যোগে এই রিপোর্টগুলির প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত
উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুতে ভারতীয় বিপ্লব মূলত দেশীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত সেই সীমা ভেঙে ইউরোপের যুদ্ধনীতি, কূটনীতি ও শক্তির ভারসাম্যকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইউরোপে গিয়ে তিনি যে কাজটি করেন, তা ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জার্মানি ও তার মিত্রশক্তির রাজনৈতিক অবস্থান, যুদ্ধকালীন দুর্বলতা ও উপনিবেশ-বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তিনি নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করতেন। এই তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পৌঁছাত ভারতীয় বিপ্লবী মহলে। ফলে বিপ্লবীরা বুঝতে পারতেন কোন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরালো করা সম্ভব আর কখন সাবধান থাকা প্রয়োজন। এটিই ছিল তাঁর চরবৃত্তির সবচেয়ে কার্যকর দিক। ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের আরেকটি বড়ো অবদান ছিল গুপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় বিপ্লবীদের মধ্যে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন, যেখানে তথ্য, অর্থ ও কৌশল আদান–প্রদান হত নির্ভরযোগ্য পথে। তিনি কূটনৈতিক মহল, বুদ্ধিজীবী সমাজ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের সঙ্গে এমনভাবে মিশতেন যে তাঁকে সন্দেহ করা কঠিন ছিল। আলোচনার টেবিল, বিশ্ববিদ্যালয়, সাংবাদিক মহল এই সব জায়গা থেকেই তিনি তথ্য তুলতেন।
শরৎচন্দ্র দাশ তিব্বতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ করেন। লাসায় ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক শাসনের সম্পর্ক কেমন, দালাই লামার প্রশাসনিক ভূমিকা কীভাবে কাজ করে, এসব বিষয় তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে লিখে পাঠান।

তারকনাথ দাস
বিশ শতকের শুরুতে জাপান ও পরে আমেরিকায় অবস্থান করে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একটি ‘ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় বিপ্লবীদের মধ্যে গোপনে তথ্য, অর্থ ও কৌশল আদান–প্রদান হত। তিনি ছদ্মপরিচয়ে কাজ করে জাপান ও আমেরিকার রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের মনোভাব, ব্রিটিশ-বিরোধী সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির অবস্থান সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেন। একই সঙ্গে বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালান, যা ছিল এক ধরনের ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’। বন্দুক বা বোমার বদলে তথ্য, যোগাযোগ ও কৌশলের মাধ্যমে লড়াই করার এই পদ্ধতিই তারকনাথ দাসকে ভুলে যাওয়া বাঙালি গুপ্তচরদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম করে তুলেছে।
তারকনাথ দাস ছদ্মপরিচয়ে কাজ করে জাপান ও আমেরিকার রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের মনোভাব, ব্রিটিশ-বিরোধী সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির অবস্থান সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেন। একই সঙ্গে বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালান, যা ছিল এক ধরনের ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’।

হেমচন্দ্র কানুনগো
বিশ শতকের শুরুতে তিনি ইউরোপ, বিশেষ করে প্যারিসে গোপনে অবস্থান করে সেখানকার বিপ্লবী ওগোপন সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক বিস্ফোরক, বোমা নির্মাণ, ডেটোনেশন পদ্ধতি এবং গোপন অপারেশনের কৌশল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। এই ধরনের টেকনোলজিক্যাল ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহই তাঁকে একজন সাধারণ বিপ্লবীর চেয়ে আলাদা করে তোলে। ভারতে ফিরে হেমচন্দ্র কানুনগো সেই সংগৃহীত তথ্য ও কৌশল অত্যন্ত গোপনে বিপ্লবী মহলে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং তরুণ কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেন। ব্রিটিশ পুলিশের চোখে তিনি ছিলেন একজন বিপজ্জনক ব্যক্তি, কারণ তাঁর কাজ সরাসরি আন্দোলনের কারিগরি সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছিল। বন্দুক হাতে লড়াই নয়, বরং প্রযুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের ভিত দুর্বল করার এই প্রয়াস ছিল তাঁর চরবৃত্তির মূল সাফল্য। তাই হেমচন্দ্র কানুনগোকে বলা যায়, তিনি ছিলেন বাঙালি বিপ্লবী আন্দোলনের সেই নীরব গুপ্তচর, যাঁর সংগ্রহ করা জ্ঞান ও কৌশল বহুদিন ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য আতঙ্ক হয়ে ছিল।
বর্তমান সমাজমাধ্যমে দৌলতে গুপ্তচরবৃত্তির সংজ্ঞাটা আমাদের কাছে বেশ ঘোলাটে। সেই সঙ্গে বিনোদন জগৎ চরবৃত্তিকে একটা মাখোমাখো প্রেমের রূপ দিয়েছে। যেখানে চরবৃত্তি আর যে কোনও কাজের মতো বেশ স্বাভাবিক। শুধু তাই নয়, চরবৃত্তি যেন বাঁ-হাতের খেলা! আদতে একদম নয়। একজন চরবৃত্তির জীবন খুব কঠিন। সিনেমা, গল্পের চেয়েও। কল্পনারও চেয়েও। সেখানে বেঁচে থাকাটাও তো অ্যাক্সিডেন্ট। প্রতি পদে পদে বিপদ, মৃত্যুভয়। তবুও কিছু মানুষ দেশের জন্য, তথ্য সংগ্রহের জন্য জান কবুল করে দিয়েছে। কত দেশে, কত কেউ শহিদ হয়েছেন। মেডেল পাওয়ার প্রত্যাশা নেই, মিডিয়া কভারেজের প্রত্যাশা নেই। তবুও তারা জান কবুল করে দিয়েছে। কত বাঙালি হয়তো শহিদ হয়েছেন কোনও অজানা দেশে। শরৎচন্দ্র দাশ যখন তিব্বতে গিয়েছিলেন, তখন ব্রিটিশ প্রশাসন তাঁর মাসিক বেতন বাড়িয়ে ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় করে এবং তিনি যদি আর ফিরে না আসতেন তাহলে তাঁর স্ত্রীর জন্য একটি স্থায়ী ১০০ টাকার পেনশনও নির্ধারিত করে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এই ভ্রমণের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। সবটাই করেছিলেন গোপনে। এটাই তো চরবৃত্তির মূল লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, আধুনিক গুপ্তচরবৃত্তির সংজ্ঞার সঙ্গে অতীতের বাঙালি গুপ্তচরদের গোলালে চলবে না। সেই সময় গুপ্তচরের সংজ্ঞা অন্য ছিল। আমরা অজিত ডোভাল, রবীন্দ্র কৌশিকের মতো গুপ্তচরের নাম জানি। তাঁদের কাজের ইতিহাসও আমাদের গুলে খাওয়ানো হয়েছে। অথচ বাঙালি গুপ্তচরদের আমরা ভুলে গিয়েছি। ভুলে গিয়েছি তাঁদের মূল্যবান ইতিহাস।
