করোনা রুখতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের জন্য সবার চোখ এখন বেঙ্গল কেমিক্যালসের দিকে

প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের হাতে গড়া এই সংস্থার ওপর এখন সরকার নির্ভরশীল

সম্প্রতি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এই ওষুধ ম্যালেরিয়া সারাতে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি প্রয়োগ করে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতে সর্বপ্রথম যেসব সংস্থা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন উৎপাদন শুরু করেছিল, তার মধ্যে অন্যতম হল আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের হাতে গড়া বেঙ্গল কেমিক্যালস। 

কিংবদন্তি বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তারপর সেখানেই ডিএসসি ডিগ্রি লাভের জন্য গবেষণা শুরু করেন। ১৮৮৭ সালে রসায়নশাস্ত্রে ডক্টর অফ সায়েন্স বা ডিএসই ডিগ্রি পান। তাঁর গবেষণাপত্রটি শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হওয়ায় তাঁকে হোপ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। রসায়নশাস্ত্রে তাঁর অবদান কখনও ভোলার নয়। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেও ছিলেন সক্রিয়।

১৯০১ সালে প্রফুল্লচন্দ্রে হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস। বাঙালি তরুণদের মধ্যে ব্যবসায়িক মনোভাবের প্রসার ঘটাতে এবং ব্রিটিশ সরকারের চাকরির বিকল্প হিসেবে এই সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। নানা জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের ওষুধ এখানে তৈরি হয়। এছাড়াও উৎপাদন করা হয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য। গত বছর বেঙ্গল কেমিক্যালসকে বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও তা কার্যকরী হওয়ার আগেই করোনার প্রকোপ শুরু হয়। এখন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের জন্য এই সংস্থার ওপর নির্ভরশীল। 

দুই সরকারই বেঙ্গল কেমিক্যালসকে বলেছে যত বেশি সম্ভব হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন উৎপাদন করতে। এই সংস্থা জানিয়েছে, তারা এখন সর্বাধিক ১০ লাখ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট বানাতে সক্ষম। ট্যাবলেটের প্রধান উপাদান অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই বেশি মজুত নেই। মে-জুন নাগাদ এপিআই-এর জোগান শুরু হলে ট্যাবলেট উৎপাদন বাড়বে। যে সংস্থাকে বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটিই এখন সংকটের সময়ে হয়ে উঠেছে সরকারের সহায়। 
 

Developed by DXDasia