অযোধ্যার নির্জন বনপথে সাইকেল চালানোর উৎসব, সাক্ষী থাকলো বঙ্গদর্শন

পুরুলিয়া অ্যাডভেঞ্চার উইংস-এর পরিচালনায় এমটিবি ফেস্ট-এর ২য় বছর

সাইকেল সম্পূর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব যান। এখনও শহরতলি, মফস্সল বা গ্রামের অধিকাংশ মানুষের যাতায়াত সাইকেলে চড়ে। করোনাকালীন সময়ে সাইকেলের বিক্রি ও ব্যবহার অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইকেলের মর্ম বোঝা যাবে আশির দশকের বাংলা গানের দল ‘নগর ফিলোমেল’-এর একটি গান শুনে – “আমতলা জামতলা/ ছুটি আজ পাঠশালা/ লুকোচুরি মেঘছায়া রোদ্দুর/ খাল বিল সরোবর নদী গাঙ/ সুবাতাসে জুঁই বেল/ বাজে বেল/ সাইকেল নিয়ে যাক বহূদূর।” সাইকেল নিয়ে বাঙালির রোম্যান্টিকতা ছিল এরকমই। আর সেই সাইকেল নিয়েই পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে (Purulia Ajodhya Hill) ১৭-১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো পুরুলিয়া অ্যাডভেঞ্চার উইংস-এর পরিচালনায় এমটিবি ফেস্ট (Purulia MTB Fest 2023)। অর্থাৎ, পাহাড়ে সাইকেল চালানোর উৎসব। এই নিয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করলো এমটিবি ফেস্ট।

অযোধ্যা পাহাড়ের নির্জন বনপথে শাল, মহুল, পলাশ আরও নাম না জানা গাছগাছালির সঙ্গে শীতের হাওয়া আর মিঠে রোদ গায়ে মেখে এ-প্রান্ত থেকে সে-প্রান্ত চষে বেড়ান একদল সাইকেল আরোহী।

অযোধ্যা পাহাড়ের নির্জন বনপথে শাল, মহুল, পলাশ আরও নাম না জানা গাছগাছালির সঙ্গে শীতের হাওয়া আর মিঠে রোদ গায়ে মেখে এ-প্রান্ত থেকে সে-প্রান্ত চষে বেড়ান একদল সাইকেল আরোহী। জল তেষ্টা পেলে তা মিটিয়ে দেয় হঠাৎ দেখতে পাওয়া পাহাড়ি ঝরনার জল। শরীরে ক্লান্তি এলে সজীব-সতেজ করে তোলে পরিযায়ী পাখিদের ডাক। এমনই সব চমৎকার ব্যবস্থা রেখেছে পুরুলিয়ার প্রকৃতি স্বয়ং।

অধুনা সাইকেল নিয়েই দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো রোমাঞ্চপ্রিয় বাঙালির সংখ্যা বেড়েছে। এমনকি সাইকেল নিয়ে ‘বিশ্ব জয়’ করে বেড়াচ্ছেন বাঙালি তরুণরা, খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে কত-শত নাম। যেমন বছর চারেক আগেই প্রথম বাঙালি হিসেবে ‘চাঁদের পাহাড়’ কিলিমাঞ্জারোর চুড়োয় উঠেছিলেন সাইকেল-আরোহী উজ্জ্বল পাল। নিছক ভূ-পর্যটক হিসেবে নয়, উজ্জ্বল পালের সেই সাইকেলযাত্রার আড়ালে ছিল সবুজের বার্তা। উজ্জ্বল যার নাম দিয়েছিলেন ‘গ্রিন অন হুইল’। ২০১৯ সালে সাইকেলে চড়ে সারা বাংলা ঘুরে প্লাস্টিক বর্জনের বার্তা দিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমান মেমারির অর্ক পাল। ঐ বছরের অক্টোবরেই “গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান” – বার্তাকে সামনে রেখে সাইকেলে কলকাতা থেকে ডুয়ার্স যাত্রা করেছিলেন ৮ জনের একটি দল। গোটা যাত্রাপথে ৩৫০টি চারাগাছ রোপণ করে তাঁরা বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। এরকম আরও উদাহরণ রয়েছে।

মোট ৫৫ কিলোমিটারের যাত্রাপথ। অযোধ্যার পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে, দুইদিন পর সাইকেল আরোহীরা আবার সেখানেই ফিরে আসেন। অযোধ্যার এই দীর্ঘ পথে একটু জিরিয়ে নেওয়া পাইনবন, আপার ড্যাম, বামনি, মার্বেল লেকে।

পুরুলিয়া অ্যাডভেঞ্চার উইংস (Purulia Adventure Wings)-এর কর্মকর্তারাও নিছক সাইকেল চড়ে পাহাড় ঘোরার আনন্দ উপভোগ করতে চান না, উৎসাহী মানুষদের নতুন নতুন পথ ভ্রমণেরও সুযোগ করে দেবে এই যাত্রা। এছাড়াও জঙ্গলমহলের ‘সৌন্দর্যের রানি’ অযোধ্যা পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণপ্রিয় অসংখ্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে চান তাঁরা। পুরুলিয়া অ্যাডভেঞ্চার উইংস-এর পক্ষ থেকে তরুণ মাহাত বঙ্গদর্শনকে জানাচ্ছেন, “অন্যান্য অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের মতোই এমটিবি অর্থাৎ মাউন্টেইন সাইক্লিংও ধীরে ধীরে বিদেশের মাটি ছাড়িয়ে এই বাংলায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জরুরি দরকারে, শরীর চর্চায় অথবা ফুরফুরে হাওয়ায় মন চাঙ্গা করতে লকডাউনে যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল সাইকেল। সাইকেল প্রকৃতিবান্ধব। তাই মানুষ-প্রকৃতির মেলবন্ধনে সাইকেলের অসীম ভূমিকা। আমাদের তিনদিনের এই সাইকেল উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা একই সঙ্গে সাইক্লিং, পাহাড়ি রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ এবং তাঁবুতে থাকার অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।”

মোট ৫৫ কিলোমিটারের যাত্রাপথ। অযোধ্যার পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে, দুইদিন পর সাইকেল আরোহীরা আবার সেখানেই ফিরে আসেন। অযোধ্যার এই দীর্ঘ পথে একটু জিরিয়ে নেওয়া পাইনবন, আপার ড্যাম, বামনি, মার্বেল লেকে। এরপর সারাদিনের সব পথঘাট শেষ করে সন্ধেতে ক্যাম্পফায়ারের আগুনের সঙ্গে গানে-গল্পে ভরে ওঠে আরোহীদের সান্ধ্য-আড্ডা। এভাবেই তিনটে দিন পাহাড় ঘিরে শেষ হয় এমটিবি ফেস্ট বা পাহাড়ে সাইকেল চালানোর উৎসব। গত বছর এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ৩৪ জন সাইকেল আরোহী। তরুণ মাহাতদের অনুমান, এ বছর সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। সাইকেল এবং হেলমেট আরোহীকেই বহন করতে হয়েছে। এছাড়া থাকা-খাওয়ার সমস্ত খরচ ছিল আয়োজকদের। পাহাড়ে সাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা নেই সমতলবাসীদের? তাতে কী হয়েছে! সকলের জন্য পুরুলিয়া দিচ্ছে ডাক…।

(উল্লেখ্য, পুরুলিয়া অ্যাডভেঞ্চার উইংস আয়োজিত এমটিবি ফেস্ট-এর অফিশিয়াল মিডিয়া পার্টনার বঙ্গদর্শন.কম। এ বিষয়ে যাবতীয় খবরাখবর পাবেন আমাদের ওয়েবসাইট এবং সমস্ত সামাজিক মাধ্যমে।)

Post Tags
Developed by DXDasia